তিনি এক্স হ্যান্ডলে পোস্টে লেখেন, “কুণাল ঘোষের বক্তব্য অনুযায়ী, সৌগত রায় ছাড়া আর কোনও সাংসদের বক্তব্য রাখার কথা ছিল না। বক্তাদের তালিকায় থাকা প্রিয়াঙ্কা অধিকারী ও উপাসনা দীর্ঘ সময় উপস্থিত ছিলেন না। তাই আমাকে বক্তব্য শুরু করতে হয়।
আমি যখন বক্তব্য রাখছিলাম, তখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সভাস্থলে পৌঁছন। তিনি মঞ্চে ঘুরে ঘুরে প্রায় ৫ মিনিট সময় নেন। সেই সময় আমাকে প্রায় ৫ মিনিট বক্তব্য থামিয়ে রাখতে হয়। একইভাবে দিদি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) আসার সময়ও আমাকে বক্তব্য থামাতে হয়।
এরপর আমি দিদিকে জিজ্ঞাসা করি, আমি কি আবার বক্তব্য চালিয়ে যাব? তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’। তারপর আমি আবার বক্তব্য শুরু করি।
আজ যাঁরা বক্তৃতা করেছেন, তাঁদের মধ্যে গত দুই মাসে ভয়ে কেউই জেলায় যাননি।
আমি Anandabazar.com-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দেখেছি, সেখানে ‘কালীঘাট সূত্র’-এর বরাত দিয়ে এমন কিছু তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, যা আমার বিরুদ্ধে যায়।
কিন্তু গত দুই মাসে আমি দলের কর্মীদের উৎসাহিত করতে বহু জেলায় গিয়েছি। এই ‘কালীঘাট সূত্র’-ই একদিন দলকে ধ্বংস করে দেবে”।
প্রসঙ্গত, ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে কী হয়েছিল এই নিয়ে কল্যাণকে জিজ্ঞেস করা হলে কল্যাণ বলেন, “আমি বক্তৃতা করতে শুরু করি। এর মধ্যেই অভিষেক ব্যানার্জি এলেন। তিনি ৫-৭ মিনিট গোটা মঞ্চ ঘুরলেন। তাতে কিছুটা সময় নষ্ট হয়েছে। আমাকে বন্ধ রাখতে হল। এরপরেই দিদি এল। দিদি আসার জন্যেও আমাকে বক্তৃতা বন্ধ রাখতে হল। ন্যাচারালি সেটা হওয়ার কথা”।
আমি দিদিকে জিজ্ঞাসা করলাম, আমি কি বলব? আমি বক্তৃতা করে ফিরে আসার পর দিদি আমাকে বলল, তুমি এক ঘন্টা ধরে বললে? আমি বললাম, আমি এক ঘন্টা কোথায় বক্তৃতা দিলাম? এই সব কথা আপনার কানে কে দিচ্ছে? অভিষেক ও শোভন দা পাশে বসে ছিল। আমি দিদিকে বললাম যারা যারা বক্তৃতা দিচ্ছিল তারা কেউ ঘোরেনি দুই মাস ধরে। কোনও জায়গায় ঘোরেনি। আমি ঘুরেছি একমাত্র। আমি আজ অপমানিত হয়েছি। তাই চলে এসেছি। কালিঘাট সূত্র ব্যস্ত থাকে কী ভাবে কতটা কল্যাণ ব্যানার্জিকে সমস্যা করা যায়। কালীঘাট সূত্র দলটাকে তুলে দেবে। কালীঘাট সূত্রের জন্য দল থেকে অনেকে বেরিয়ে গেছে”।
সেই সঙ্গে তিনি আরও বলেন, যারা কোনও জায়গায় যায়নি… অভিষেক ব্যানার্জি যায়নি। অন্যান্য সাংসদরা যায়নি। একমাত্র আমার সাথে মহুয়া বাঁকুড়া গিয়েছিল। কুণাল বেলেঘাটা, বিধানসভা ও কালীঘাটে দিদির বাড়ি করেছে। কালকে জ্বর নিয়েও আমি রাত তিনটে অবধি ছিলাম। কালীঘাট সূত্র বলে দিচ্ছে কোনটা খারাপ কোনটা ভাল। এই কালিঘাট সূত্র সব শেষ করবে। দলটা তো এমনি এমনি শেষ হচ্ছে না। এই কালিঘাট সূত্রের জন্যে শেষ হচ্ছে। আমার কাউকে কিছু জানানোর দরকার নেই। এই দলে যে যত খাটবে তার তত মুশকিল। এই দলে যে যত দালালি করবে, আর ঘরে চুপ করে বসে থাকবে আর দিদির সামনে বক্তৃতা দেবে তার তত দাম বেশি। সব জায়গায় আমি ঘুরছি। আর কয়েকটা দালাল দিদির ঘরে বসে শুধু জ্ঞান দেয়। বাড়ি থেকে ভয়ে বেরোতে পারে না”।