কলকাতা : পুলিশের একাধিক কাজের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কথায় উঠে এল সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যে ঘটে যাওয়া দু’টি বড় ঘটনা- তারাতলা বিপর্যয় ও বারুইপুরের ঘটনা।
এদিন ভবানীভবনে ‘রেন প্রোটেকশন গিয়ার কিট’ বিতরণ অনুষ্ঠান উপস্থিত হন মুখ্যমন্ত্রী । সেখানে পুলিশের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনাদের সব কাজে আমার নজর রয়েছে। আপনারা তারাতলায় যেভাবে ১৭টা মানুষকে বাঁচিয়েছেন, হ্যাটস অফ টু কলকাতা পুলিশ। রাজ্য পুলিশ যেভাবে বারুইপুরের ঘটনায় জিরো টলারেন্স দেখিয়েছে, হ্যাটস অফ টু ডিজিপি অ্যান্ড হিজ টিম। মা-বোন-কন্যাদের ওপর অত্যাচার…আপনার যা করার করবেন, আইন মেনেই করবেন…আমি আছি। আমরা আর অভয়া চাই না। বারুইপুরের ঘটনা খুবই দুঃখজনক ঘটনা। কিন্তু, সরকার চুপ করে থাকেনি। পুলিশ পুলিশমন্ত্রীর মুখ উজ্জ্বল করেছে। আমি আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ। আজ সকালেও কলকাতা পুলিশ এবং এসটিএফ কলকাতার…পুরুলিয়া জেলা পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়েছি। একেবারে সিনেমার কায়দায় গাঁজা ভর্তি ট্রাক আটকেছে। এই সামাজিক ব্যাধি প্রচুর ছড়িয়ে পড়েছে। গাঁজা, চরস, হেরোইন, ফেন্সিডিল, ড্রাগের জন্য গোটা সমাজ ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পুলিশকেই এর সমাধান করতে এগিয়ে আসতে হবে। জনজাগরণের কাজ করতে হবে।”
আগামীদিনে পুলিশের শূন্যপদে নিয়োগের আশ্বাস দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগামী কয়েক বছর পর্যায়ক্রমে ১ লক্ষ নতুন পুলিশকর্মী নিয়োগ হবে। ইতিমধ্যে ৪৭ হাজার শূন্যপদ আমাদের মধ্যে আছে। আমরা বিধানসভায় বিল এনে ওবিসি জট কাটিয়ে উঠতে পেরেছি। আমাদের যে ১৪ হাজার পুলিশ কনস্টেবল ট্রেনিং নিয়ে বসে আছেন…কাজে যোগদান করার জন্য, তাঁদের আমরা আসন্ন দুর্গাপুজোর আগেই কাজে লাগাতে পারব, এই ব্যবস্থা আমরা করেছি। এখানে NIA-র মতো SIA গঠন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আধুনিক পরিকাঠামো তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমরা মহিলা পুলিশকর্মীদের বাড়ির কাছাকাছি পোস্টিং অর্থাৎ কনস্টেবলদের জেলায়, অফিসারদের পার্শ্ববর্তী জেলায় যাতে পোস্টিং পান তারজন্যও স্বরাষ্ট্র সচিবকে বলেছি। DGP, CP-কে বলেছি।”
পুলিশকর্মীদের জন্য দুর্গাপুজোর উপহার ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী খালি হাতে আসবেন ভবানীভবনে এটা হতে পারে না। কিছু তো দিতে হবে। আপনাদের রেশনে ২০১৭ সালে ১৫০০ টাকা ভাতা ছিল। আমি পরে আরও বাড়িয়ে দেব। কিন্তু, আপনাদের আমি দুর্গাপুজোর গিফ্ট দিয়ে গেলাম। অক্টোবর মাস থেকে ৫০০ টাকা বাড়িয়ে ২০০০ টাকা করে দিয়ে গেলাম।”