কৃষ্ণেন্দু অধিকারী, কলকাতা : পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এবার ইডির স্ক্যানারে মদন মিত্র। ২৯ জুলাই সকাল ১১টায় কামারহাটির বিধায়ককে হাজিরার নির্দেশ দিয়েছে ইডি। এই সপ্তাহেই মদন মিত্রের স্ত্রী ও দুই পুত্রকে তলব করেছে ইডি। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আগেই বিধায়ক মদন মিত্রের একাধিক ঠিকানায় হানা দেয় ইডি। এই সপ্তাহেই মদন মিত্রের দুই ছেলে স্বরূপ মিত্র ও শুভরূপ মিত্র ও স্ত্রী অর্চনা মিত্রকে তলব করেছে ইডি।
এ প্রসঙ্গে মদন বলেছেন, “যদি আমায় ডাকে আমি কোনও ডেট, অসুখ, জ্বর…কোনও বাহানা দেব না। আমি সমস্ত রকমভাবে সহযোগিতা ইডিকে করব। স্ত্রী, পুত্ররাও যাবেন। প্রত্যেকে সহযোগিতা করবেন। সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট এজেন্সি অফিসিয়াল আমাকে ডাকলে আমরা ফুল সাপোর্ট দেব। আমি গিয়ে সমস্ত…কোনও আমি ডেট মনিটরিং চেঞ্জ করা কিছু চাইব না। খালি আমি সমস্ত রকম…আই অ্য়াসিওর ফুলেস্ট কো-অপারেশন। ইডি একটা গভর্নমেন্ট এজেন্সি। সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট এজেন্সি। এরা যখন ডেকেছে নিশ্চয়ই প্রয়োজন মনে করেছে। আমি একজন দেশের সাধারণ নাগরিক। আমি সর্বশক্তি দিয়ে এদের সহযোগিতা করব।”
পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায়, আগেই তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রর একাধিক ঠিকানায় হানা দিয়েছিল ED। কেন্দ্রীয় এজেন্সির স্ক্যানারে
কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক ও প্রাক্তন মন্ত্রী মদন মিত্রর স্ত্রী অর্চনা মিত্র এবং তাঁদের দুই ছেলে স্বরূপ মিত্র এবং শুভরূপ মিত্র। ED সূত্রে খবর, তাঁদের ২২ ও ২৩ জুলাই, ব্যাঙ্কের নথিপত্র নিয়ে CGO কমপ্লেক্সে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় এজেন্সির দাবি, কখনও নগদ, আবার কখনও সোনাদানা ঘুষ দিয়ে কামারহাটি ও টিটাগড় পুরসভায় চাকরি পেয়েছেন অন্তত ১২৫ জন। ED সূত্রে দাবি, যার সঙ্গে যোগ রয়েছে কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের। এই মামলাতেই, ১৩ জুন, তৃণমূল বিধায়কের বিভিন্ন ঠিকানায় ম্যারাথন তল্লাশি চালায় ED. ওই দিন মদন মিত্রকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর তলব করা হয় তাঁর স্ত্রী ও দুই ছেলে।
পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী ও তৃণমূল নেতা সুজিত বসু। তাঁর নামে সাপ্লিমেন্টরি চার্জশিটও জমা দিয়েছে ED। সূত্রের খবর, যেখানে কেন্দ্রীয় এজেন্সির তরফে দাবি করা হয়েছে, দক্ষিণ দমদম পুরসভার ভাইস চেয়ারম্য়ান নিতাই দত্তর অফিস থেকে পাওয়া নথি অনুযায়ী, তাঁকে জিজ্ঞেসাবাদ করা হলে তিনি জানিয়েছেন, সমস্ত কাউন্সিলররা একসঙ্গে ঠিক করেছিলেন, প্রত্যেক কাউন্সিলর দু’জনের নাম সুপারিশ করতে পারবেন। প্রত্যেক চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল, ৫ জনের নাম চাকরির জন্য সুপারিশ করতে পারবেন। ফিরহাদ হাকিম ৬ জনের নাম সুপারিশ করতে পারবেন। ফিরহাদ হাকিমের সুপারিশ করা ৬ জন চাকরিপ্রার্থীর বিষয়টি দেখে নেওয়ার কথা বলে দক্ষিণ দমদম পুরসভার বোর্ড। সুপারিশের তালিকায়, ববিদা এবং সুজিতদা বলে লেখা থাকত। নাম সুপারিশের আলাদা ফাইল ছিল।