কলকাতা: শনিবার ব্রিগেড ময়দানে শপথ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)-সহ ৬ জন মন্ত্রী। আর ঐতিহাসিক এই দিনে উচ্ছ্বাসে ভাসলেন বিজেপির (BJP) জয়ী বিধায়করা। কেউ উন্নয়নের বার্তা দিলেন। কেউ শোনালেন গান। আবার অতীতের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা মনে করে কারও চোখে এল জল।
শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের রাজ্য় পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার ক্ষমতায় বিজেপি! বিপুল ভোট দিয়ে তাদের হাতে সেই দায়িত্ব সঁপেছে পশ্চিমবঙ্গবাসী। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর লক্ষ্য়ে পৌঁছোতে পারার বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস বিজেপির অন্দরে। শনিবারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানেও দেখা গেল তার ছোঁয়া। কেউ খুশিতে গান ধরলেন।
হরিণঘাটা থেকে জয়ী বিজেপি প্রার্থী অসীম সরকার গান বেঁধেছেন, ‘বাংলায় পদ্ম ফুটেছে, বাংলা হেসে উঠেছে। বাংলায় পদ্ম ফুটেছে, বাংলা হেসে উঠেছে। চোর ডাকাতের দলেরা সব গর্তে ঢুকেছে। বাংলায় পদ্ম ফুটেছে, বাংলা হেসে উঠেছে।’
কেউ মানুষের জন্য কাজ করার অঙ্গীকার করলেন! সালতোড়ার জয়ী বিজেপি প্রার্থী চন্দনা বাউড়ি বলছেন, ‘মানুষের সঙ্গে থাকতে চাই, মানুষের পাশে থাকতে চাই। মানুষের হয়ে কাজ করতে চাই। পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে করজোড়ে নতমস্তকে আমার প্রণাম।’
কারও চোখে এল জল! সোনারপুর দক্ষিণের জয়ী বিজেপি প্রার্থী রূপা গঙ্গোপাধ্যায় বলছেন, ‘সেই ডায়মন্ড হারবারে চুল ছিড়ে মাটিতে ফেলে, সে মারের দিনগুলো মনে পড়ছে।’
আবার কেউ মনে করালেন প্রতিজ্ঞার কথা! যেমন কৌস্তভ বাগচী। ব্যারাকপুরের বিজয়ী বিজেপি প্রার্থী বলছেন, ‘বাংলা গেরুয়াময়। আর আমার ব্যক্তিগত অনুভূতি ৩ বছর ধরে একটা পণ-প্রতিজ্ঞা করা। এই দেখ মাথায় চুল গজাচ্ছে আস্তে আস্তে। যা প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, একটা হিন্দি গান আছে না, জো ওয়াদা কিয়া উয়ো নিভানা পরেগা।’
নোয়াপাড়ার জয়ী বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিংহ বলছেন, ‘আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতিটা একটু বুলডোজার বাবার মতো কাজ করতে হবে তাহলেই হবে। না হলে হবে না।’
হাওড়ার শিবপুর কেন্দ্র থেকে জিতেছেন রুদ্রনীল ঘোষ। তাঁর মুখে শোনা গেল পেটে ভাত ও হাতে কাজের কথা! রুদ্রনীল ঘোষ বলেছেন, ‘বহু কাজ বাকি। সবার পেটে ভাত, হাতে কাজ সেটাই প্রত্যয়। নিরাপত্তা আসুক, শিল্প আসুক, অর্থনীতি মজবুত হোক।’
একই সুর রাজারহাট নিউটাউন কেন্দ্রের জয়ী বিজেপি প্রার্থী পীযূষ কানোরিয়ার গলায়! বলছেন, ‘এই সরকার মানুষের কাজ করবে, জনগণের কাজ করবে। জনগণের সেবার জন্য পরিবর্তন। আজ সত্যিকারের খুব ভাল লাগছে যে জনগণের সরকার আজ ক্ষমতায় এসেছে।’
পূর্ব বর্ধমানের ভাতার থেকে জিতেছেন ৩৩ বছর বয়সী সৌমেন কার্ফা। বলেছেন, ‘বিজেপির মতো একটি সর্বভারতীয় রাজনৈতিক দল যারা একাধিক রাজ্যে সরকারে আছেন এবং কেন্দ্রীয় সরকারে আছেন, তারা আমার মতো একজন কম বয়সের যুবককে বর্ধমান যেখানে কৃষিপ্রধান এলাকা, সেখানে ভাতারের মতো একটা গ্রামীণ ক্ষেত্রে আমাকে সুযোগ দিয়েছেন, জিতিয়েছেন মানুষ, দলের কাছে কৃতজ্ঞ, ভাতারের মানুষের কাছে কৃতজ্ঞ।’
মানুষের কাছে প্রথমে তিনি কবিয়াল! তারপর রাজনীতিবিদ! অসীম সরকার। ২০২১-এর পর ২০২৬-এও সেই অসীম সরকার হরিণঘাটা আসন থেকে জিতেছেন। অসীম সরকার বলছেন, ‘মানুষ হৃদয় দিয়ে অনুভব করছে যে মাননীয়া প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পতনে মানুষের মনে কতটা আনন্দ জেগেছে।’
সবমিলিয়ে এক অন্য ব্রিগেড দেখল পশ্চিমবঙ্গবাসী।