২৬ বছর বয়সি কেতনকে গত ১৮ জুন পুণের কাছে লোহাগড় দুর্গ থেকে ধাক্কা দিয়ে খাদে ফেলে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই হত্যার ষড়যন্ত্রে কেতনের বাগদত্তা সিয়া গয়াল এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরী জড়িত বলে পুলিশের অভিযোগ। বর্তমানে দু’জনই পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন এবং তদন্তকারীরা ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছেন। তবে এখন নতুন করে যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে, তা শুধু হত্যাকাণ্ড নয়; বরং তাঁদের বিয়ের আগে মিলিয়ে দেখা কুণ্ডলী। জানা গিয়েছে, বিয়ে ঠিক হওয়ার আগে কেতন ও সিয়ার জন্মকুণ্ডলীতে ৩৬টির মধ্যে ২৭টি গুণ মিলেছিল এবং কোনও ‘দোষ’ পাওয়া যায়নি।
নিউজ18 মারাঠির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের সম্বন্ধ চূড়ান্ত করার আগে কেতনের বাবা এবং সিয়ার ভাই সাহিল একজন জ্যোতিষীর সঙ্গে পরামর্শ করেছিলেন। তাঁদের কুণ্ডলী নাকি যথেষ্ট ভালভাবে মিলেছিল। কেতনের ‘দেব গণ’ এবং সিয়ার ‘নর গণ’ পরস্পরের মধ্যে ভাল বোঝাপড়ার ইঙ্গিত দেয় বলে জানানো হয়েছিল। ৩৬টির মধ্যে ২৭টি গুণ মিলেছিল এবং কোনও বড় ধরনের দোষও চিহ্নিত হয়নি। এমনকি, জ্যোতিষীরা এই দম্পতির বৈবাহিক জীবন সুখের হবে বলেও পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।
তাহলে জ্যোতিষীদের মতে কোথায় ভুল হল?
কোন গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান একজন মানুষকে এমন চরম হিংসাত্মক অপরাধের দিকে ঠেলে দিতে পারে, তা জানতে জি নিউজ কথা বলেছে জ্যোতিষী ড. অরুণ বনসল এবং ড. অজয় ভাম্বির সঙ্গে। তাঁদের মতে, জন্মছকে কিছু নির্দিষ্ট যোগ— যেমন পঞ্চম বা নবম ঘরে মঙ্গলের অবস্থান, দুর্বল (নীচস্থ) বৃহস্পতির কারণে বিচারবোধে ঘাটতি, অথবা পঞ্চম ঘরে শনির অবস্থান থেকে সপ্তম ভাব (বিবাহের ঘর) প্রভাবিত হওয়া— এমন কিছু জ্যোতিষীয় সংযোগ রয়েছে, যেগুলি বিশ্বাস করা হয় সঙ্গীর আয়ু দুর্ঘটনা, অসুস্থতা বা অন্য কোনও অস্বাভাবিক কারণে কমিয়ে দিতে পারে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বিষয়টি এত ভাইরাল কেন?
বিয়ের আগে ‘নিখুঁতভাবে মিলে যাওয়া’ কুণ্ডলী এবং পরে ঘটে যাওয়া নৃশংস হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ— এই দুইয়ের তীব্র বৈপরীত্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, জ্যোতিষশাস্ত্র কি সম্ভাব্য বিপদের কোনও আগাম ইঙ্গিত ধরতে ব্যর্থ হয়েছে? নাকি চেতন চৌধুরীর সঙ্গে সিয়ার সম্পর্ক ছিল সম্পূর্ণ মানবিক সিদ্ধান্তের ফল, যা কোনও কুণ্ডলীই আগে থেকে জানাতে পারে না?
জন্মকুণ্ডলী কি সত্যিই অপরাধপ্রবণতার পূর্বাভাস দিতে পারে?
জ্যোতিষীরাও এর নির্দিষ্ট উত্তর দিতে রাজি নন। ড. অরুণ বনসাল এবং ড. অজয় ভাম্বি দু’জনেই স্পষ্ট করে বলেছেন, অশুভ যোগ থাকলেই কেউ অপরাধী হয়ে উঠবেন— এমনটা বলা যায় না। এসব যোগ সর্বোচ্চ রাগ, আবেগপ্রবণতা, হঠকারী সিদ্ধান্ত বা বিচারবোধের দুর্বলতার মতো প্রবণতার ইঙ্গিত দিতে পারে, কিন্তু অপরাধ সংঘটিত হবে— এমন নিশ্চয়তা দেয় না। তাঁদের মতে, পারিবারিক পরিবেশ, মানসিক অবহেলা এবং বাবা-মায়ের পর্যাপ্ত সময় ও যত্নের অভাবও এমন ঘটনার পিছনে সমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এই ধরনের বিপজ্জনক যোগ কাটানোর উপায় কী বলছেন জ্যোতিষীরা?
জ্যোতিষীদের পরামর্শে ঐতিহ্য এবং বাস্তবতার মিশেল রয়েছে। তাঁদের মতে, জ্যোতিষীয় প্রতিকারের পাশাপাশি প্রয়োজনে পেশাদার কাউন্সিলিং নেওয়া উচিত। মানসিক শান্তির জন্য রুদ্রাক্ষ ধারণ, নিয়মিত ধ্যান করা এবং যাঁদের রাগের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ভগবদ্গীতার ষষ্ঠ অধ্যায় পাঠ করার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি ড. অজয় ভাম্বি অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, সন্তানদের শুধু আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য দিলেই হবে না; তাঁদের পর্যাপ্ত সময়, সঠিক মূল্যবোধ এবং মানসিক সমর্থন দেওয়াও সমান জরুরি।
(Disclaimer: এই প্রতিবেদনটি জ্যোতিষীদের মতামত এবং প্রচলিত জ্যোতিষশাস্ত্রের বিশ্বাসের ভিত্তিতে তৈরি। জ্যোতিষশাস্ত্র ব্যক্তিগত বিশ্বাসের বিষয় এবং এটি কোনও ব্যক্তির স্বভাব, আচরণ বা কোনও অপরাধে জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করতে পারে না। এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র সাধারণ তথ্য প্রদানের উদ্দেশ্যে প্রকাশিত হয়েছে।)