মুম্বই: বিদ্রোহের আগুনে ফের পুড়ছে উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরের শিবসেনা। দলের ছয় সাংসদ ইতিমধ্যেই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করেছেন বলে খবর। জানা গিয়েছে, তাঁরাও নিজেদের পৃথক শিবির গড়তে চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন। ইতিমধ্যে দিল্লি পৌঁছে গিয়েছেন একনাথ শিন্ডেও। এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি বিজেপি-কে দায়ী করছে উদ্ধবের শিবসেনা এবং শরদ পওয়ারের NCP। পাশাপাশি, সুপ্রিম কোর্টের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তারা। (Shiv Sena Rebel MPs)
সংসদের লোকসভায় মোট ন’জন সাংসদ রয়েছে উদ্ধবের শিবসেনার। ওই ন’জনের মধ্যে ছ’জন এই মুহূর্তে বিদ্রোহী, সঞ্জয় হরিভাউ জাধব, ওমপ্রকাশ ভূপালসিংহ নিম্বলকর, সঞ্জয় ডিনা পাটিল, ভাউসাহেব রাজারাম ওয়াকচৌরে, সঞ্জয় উত্তমরাও দেশমুখ এবং নাগেশ বাপুরাও পাটিল এ। (Shiv Sena UBT)
বুধবার দলের সংসদীয় বৈঠকে না গিয়ে, ওই ছ’জনই দিল্লি পৌঁছে যান। ভিন্ন ভিন্ন জায়গা থেকে চার্টার্ড বিমানে করে দিল্লি পৌঁছে দেখা করেন স্পিকারের সঙ্গে। নিজেদের সই করা চিঠি জমা দেন। জানান, দল আদর্শগত অবস্থান থেকে সরে গিয়েছে। কংগ্রেসের সঙ্গে মিশে যেতে আগ্রহী। কিন্তু তাঁরা নিজেদের আদর্শগত অবস্থানে অবিচল। তাই সঞ্জয়ের নেতৃত্বে নিজেদের পৃথক শিবির গড়তে চান।
আরও পড়ুন: গাড়ির মধ্যে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হল বিজেপি নেতাকে, বেআইনি বালির খাদানের দখল নিয়ে ঝামেলার জের!
শিন্ডে শিবিরের সমর্থন রয়েছে উদ্ধবের শিবসেনার ওই বিদ্রোহী সাংসদদের পক্ষে। সাংসদ ভাঙানোর এই খেলাকে ‘অপারেশন টাইগার’ বলে উল্লেখ করেছেন শিন্ডের দলের বিধান পরিষদীয় সদস্য চন্দ্রকান্ত রঘুবংশী। বিদ্রোহীরা দিল্লিতে থাকাকালীন সেখানে পৌঁছে যান শিন্ডেও। আগামী ২০ জুন ফের তাঁদের সাক্ষাতের কথা শোনা যাচ্ছে।
ওই ছয় সাংসদকে শো-কজ নোটিস পাঠিয়েছে উদ্ধবের শিবসেনা। সংসদীয় দলের বৈঠকে অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে। এই গোটা পরিস্থিতির জন্য় শীর্ষ আদালতের দিকে আঙুল তুলেছেন দলের রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় রাউত। তাঁর দাবি, গণতন্ত্রকে রসিকতায় পরিণত করেছে সর্বোচ্চ আদালত। আদালত সময় মতো হস্তক্ষেপ করলে জল এতদূর গড়াত না বলে দাবি তাঁর। শরদ পওয়ারের NCP মুখপাত্র ক্লাইড ক্রাস্তো সরাসরি বিজেপি-র দিকে আঙুল তুলেছেন। তাঁর দাবি, নানা ভাবে চাপ সৃষ্টি করছে বিজেপি। আয়কর, CBI, ED নামিয়ে নানা ভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে। দলের প্রতীকে জেতার পর বিদ্রোহ ঘোষণার অর্থ ভোটারদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা বলেও মত তাঁর।
আরও এক কদম এগিয়ে সঞ্জয় অভিযোগ তুলেছেন যে, মাথা পিছু ৫০ কোটি টাকায় ‘ডিল’ হয়েছে। অগ্রিম দেওয়া হয়েছে ১৫ কোটি। চার্টার্ড বিমানে ওঠার আগেই দিয়ে দেওয়া হয় ওই ১৫ কোটি টাকা। শুধু তাই নয়, রাজস্থানের ‘গোপন ডেরা’য় থাকার জন্য অতিরিক্ত ১০ কোটি করে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি তাঁর।
Siciliana Restaurant: কলকাতায় বসে ইতালির স্বাদ! দ্বিতীয় বছরে পা দিল ভবানীপুরের ইতালিয়ান রেস্তোরাঁ সিসিলিয়ানা