Last Updated:
আমেরিকা-ইরান আলোচনায় ফের অচলাবস্থা! কাতারের মধ্যস্থতাতেও কাটছে না দূরত্ব। পরমাণু কর্মসূচি, নৌ অবরোধ ও হরমুজ প্রণালী নিয়ে দুই পক্ষের অনড় অবস্থানে বাড়ছে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা। ট্রাম্পের কড়া বার্তা, ইরানকে কোনওভাবেই পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না।
ওয়াশিংটন: দু’পক্ষের কেউই নড়ছে না নিজের নিজের অবস্থান থেকে, কেউই আপস করতে রাজি নয়! আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা করাতে কূটনৈতিকভাবে যে উদ্যোগ চলছে, তাতে এখনও তেমন কোনও অগ্রগতি হয়নি। সংবাদমাধ্যম Axios-এর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, দুই পক্ষের কেউই নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসার কোনও ইঙ্গিত দেয়নি!
এই অচলাবস্থার জেরে আমেরিকা ও ইরানের সংঘাত ফের বড় ধরনের সামরিক লড়াইয়ে গড়াতে পারে, এমন আশঙ্কা বাড়ছে। কাতারের মধ্যস্থতাতেও কাটল না দূরত্ব। সোমবার নিউইয়র্কে কাতারের মধ্যস্থতাকারী আলি আল-থাওয়াদি ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং তাঁর দলের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টা বৈঠক করেন। সেখানে কাতারের তরফে দেওয়া দু’পাতার সমঝোতা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়।
জানা গিয়েছে, ওই প্রস্তাবে একদিকে ইরানের দাবি—আমেরিকার নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া, অন্যদিকে তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের ছাড় দেওয়ার দাবি—এই দুইয়ের মধ্যে সমঝোতার পথ খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছিল। আল-থাওয়াদি পরে ওয়াশিংটনে মার্কিন দূত জ্যারেড কুশনার এবং অন্যান্য মার্কিন কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকের কিছু অংশে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও উপস্থিত ছিলেন।
Axios-কে একটি সূত্র জানিয়েছে, “আলোচনা আটকে গিয়েছে। ইরান এমন কিছু দাবি করছে, যা আমেরিকার পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। অন্যদিকে, আমেরিকা মনে করছে তারা আলোচনায় এগিয়ে রয়েছে, তাই সমঝোতার কোনও প্রয়োজন নেই।” দুটি সূত্রের দাবি, কাতারের কর্মকর্তারা মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তবে তাঁরাও ক্রমশ হতাশ হয়ে পড়ছেন।
হরমুজ প্রণালী ফের খুলে দেওয়ার জন্য ইরান কয়েকটি শর্ত রেখেছে। এর মধ্যে রয়েছে আমেরিকার নৌ অবরোধ বন্ধ করা, নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ ছেড়ে দেওয়া। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা কিছু প্রস্তাব দিয়েছেন। তাঁরা আমেরিকার প্রতিক্রিয়া নিয়ে তেহরানে ফিরে আসবেন বলেও আশা করা হচ্ছে।
ইরানের সংসদের স্পিকার তথা প্রধান আলোচক মহম্মদ বাঘের গালিবাফও সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে গোটা অঞ্চলের পরিকাঠামো হামলার মুখে পড়তে পারে। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গালিবাফ বলেন, “এমন একটি অঞ্চলে যেখানে আমরা তেল বিক্রি করতে পারব না, সেখানে অন্য কেউও তেল বিক্রি করতে পারবে না। অথবা যদি আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা হয়, তাহলে কোনও পরিকাঠামোই নিরাপদ থাকবে না।”
অন্যদিকে, ট্রাম্পের কড়া বার্তা, পরমাণু অস্ত্র পাবে না ইরান! ইরানের পরমাণু কর্মসূচিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপের দাবিতে ওয়াশিংটন এখনও অনড়। মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেন, ইরান “খুব খারাপ অবস্থার মধ্যে রয়েছে”, তবে শেষ পর্যন্ত তারা পরমাণু অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা ছেড়ে দেবে। ট্রাম্পের হুঙ্কার, “ইরানের হাতে কোনও পরমাণু অস্ত্র থাকবে না।”
