উত্তর ২৪ পরগনা: পালাবদলের পরেই হালিশহর পুরসভায় তৃণমূলের গণইস্তফা! ভাইস চেয়ারম্যান-সহ একসঙ্গে ১৬ তৃণমূল কাউন্সিলরের ইস্তফা। ২৩ ওয়ার্ডের হালিশহর পুরসভায় ১৬ তৃণমূল কাউন্সিলরেরই পদত্যাগ। ভোটের ফল বেরোনোর পর থেকেই পুরপ্রধান-সহ ৭ কাউন্সিলর উধাও। দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে একসঙ্গে ১৬ কাউন্সিলরের ইস্তফা। ইস্তফা দিলেও পুর পরিষেবায় ঘাটতি হবে না, আশ্বাস বিজেপি বিধায়কের।
উল্লেখ্য, আজ বিকেলবেলা গয়েশপুরের মহকুমা শাসকের কাছে ১৬ জন তৃণমূল কাউন্সিলর একসঙ্গে ইস্তফা দিয়েছে। হালিশহর পুরসভা বীজপুর বিধানসভার অন্তর্গত। আর ভোটে বীজপুর বিধানসভায় তৃণমূল পরাজিত হওয়ার পর থেকে হালিশহর পুরসভার পুর প্রধান শুভঙ্কর ঘোষ সহ ৭ জন নিঁখোজ। দলের কর্মীদের পাশে কোনওভাবেই কেউ দাঁড়াচ্ছেন না। এমনকী পরাজিত প্রার্থীও কোনও খোঁজ নেয়নি বলে জানা গিয়েছে। দলের সাংসদ থেকে শুরু করে পরাজিত প্রার্থী কেউ খোঁজখবর না নেওয়ায় সবাই দিশেহারা হয়ে গিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। যদিও এই টালমাটাল পরিস্থিতিতেও পুরসভার কাজে কোনও ব্যাঘাত হবে না বলে জানিয়েছেন জয়ী বিজেপি প্রার্থী।
হালিশহর পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর মৃত্যুঞ্জয় দাস জানিয়েছেন, ‘মানুষ যে রায় দিয়েছেন, তা মাথা পেতে নিয়ে আমাদের পদত্যাগ করা উচিৎ। তাই আমরা পদত্যাগপত্র দিয়েছি। সাংসদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। দলের সবাই এমন পরিস্থিতিতে রয়েছে যে প্রত্য়েকে দিশেহারা। ছোট কর্মী থেকে কাউন্সিলর প্রত্যেকে। দলের যাঁরা দায়িত্বে ছিল, তাঁরা কিন্তু কর্মীদের পাশে কেউ দাঁড়ায়নি।’
বীজপুরের বিজেপি বিধায়ক সুদীপ্ত দাস বলছেন, ‘দুর্নীতি তো ব্যাপক পরিমাণে হয়েছে। সব পুরসভা, সব স্কুলে দুর্নীতি হয়েছে। প্রতিটি জায়গা থেকে অভিযোগ উঠছে এদের বিরুদ্ধে। অয়ণ শীলের নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে হালিশহর, দক্ষিণ দমদমের নাম তো প্রথম দিকে রয়েছে।’
এদিকে, বেহাল পুর-পরিষেবা নিয়ে পুরমন্ত্রীর কাছে তৃণমূল নেতা। পুরমন্ত্রীর কাছে বাঁশবেড়িয়া পুরসভার চেয়ারম্যান। ‘আর্থিক অবস্থা খুব খারাপ, ব্যবস্থা করুন। বেহাল পুর পরিষেবা, চাই সাহায্য। পুরমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে আবেদন বাঁশবেড়িয়ার পুরপ্রধানের। ইস্তফা দেওয়া অব্যাহত রাজ্যের অন্য় প্রান্তেও। কাঁথি পুরসভাতেও অচলাবস্থা, ১২জন ইস্তফা দিয়েছেন। পুর পরিষেবা বহাল রাখার আশ্বাস পুরমন্ত্রীর।
অন্য়দিকে, পুর দুর্নীতিতে রথীন ঘোষকে তলবের মধ্যেই মধ্যমগ্রাম পুরসভায় বিক্ষোভ। বিজেপি করায় নাম অস্থায়ী কর্মীদের নাম নথিভুক্ত না করার অভিযোগে বিক্ষোভ। সরকারি নির্দেশ নেই বলে এভাবেই চলবে, দাবি চেয়ারম্যান নিমাই ঘোষের।