সন্দীপ সরকার, কলকাতা: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল হয়ে গিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসকে বিপুল ব্যবধানে হারিয়ে বাংলার মসনদে এখন বিজেপি সরকার।
ইডেন গার্ডেন্সের বাইশ গজেও কি পরিবর্তনের ইঙ্গিত?
যে বাইশ গজ গত দশ বছর ধরে পেসারদের সাহায্য করত, বল সাঁ সাঁ করে যেত, সেই পিচেই কি না বল এখন ঘুরছে। লাফাচ্ছে। থমকাচ্ছে। আইপিএলে ঠিক যে ধরনের পিচ দেখা যেত ২০১২-২০১৪ নাগাদ। ওই দু’বছরই আইপিএলে চ্যাম্পিয়ন হয় কলকাতা নাইট রাইডার্স। আর বল হাতে ইডেনে মায়াজাল বুনতেন এক ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটার। মাথায় মোহক হেয়ারস্টাইল। মাথার ওপর হাত ফণার মতো তুলে দৌড়ে এসে বল করতেন। কোন বল বাইরে যাবে, আর কোনটা ভেতরে, ব্যাটাররা বুঝতেই পারতেন না। আত্মসমর্পণ করতেন।
সেদিনের সেই সুনীল নারাইন দশক পেরিয়ে এখনও যেন একইরকম ক্ষুরধার। ইডেনের পিচ থেকে সামান্য সাহায্য পেতেই ফের ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছেন এই মরশুমে।
বুধবার ইডেনে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে ৪ ওভারে মাত্র ১৩ রান খরচ করে নিলেন এক উইকেট। সেটাও বিপজ্জনক হার্দিক পাণ্ড্যর উইকেট। আইপিএলে অনন্য এক কীর্তি নারাইনের নামের পাশে। ৪ ওভারের কোটা শেষ করেছেন, এরকম ১৭৮ ম্যাচের মধ্যে এ নিয়ে ৮০ বার ওভার প্রতি ৬ বা তার কম রান খরচ করলেন নারাইন।
আরও পড়ুন: ঝালমুড়ি খেতে খেতে ইডেনে আইপিএল ম্যাচ দেখছেন দিলীপ ঘোষ, কেকেআরের প্লে অফ নিয়ে এখনও আশায়
তাঁর সঙ্গেই বল হাতে সাবলীল দোসর বরুণ চক্রবর্তী। ব্যথা কমানোর ইঞ্জেকশন নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন। ৪ ওভারে মাত্র ২৮ রান দিলেন। একটা উইকেটও পেয়ে গিয়েছিলেন প্রায়। তাঁর বলে ক্যাচ তুলেছিলেন তিলক বর্মা। বরুণ সেটা ধরেও ফেলেন। কিন্তু ভুল বোঝাবুঝিতে উইকেটকিপার অঙ্গকৃষ রঘুবংশী দৌড়ে এসে ক্যাচ ধরতে যান। ধাক্কাধাক্কিতে ক্যাচ পড়ে যায়।
বল হাতে জ্বলে উঠলেন সৌরভ দুবে, ক্যামেরন গ্রিনরাও। মুম্বই ইনিংসের তৃতীয় ওভারে পরপর রায়ান রিকেলটন ও নমন ধীরকে তুলে নেন গ্রিন। সৌরভ ও গ্রিন – দুজনই নিলেন দুটি করে উইকেট। কার্তিক ত্যাগীও দু’উইকেট নেন। তবে শেষ ওভারে ১৯ রান খরচ করলেন।
ইডেনে প্রথমে ব্যাট করে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স আটকে গেল ১৪৭/৮ স্কোরে। তাও শেষের দিকে করবিন বস্কের ১৮ বলে ৩২ রানের অপরাজিত ইনিংস না থাকলে স্কোর সেখানেও পৌঁছত না।
বৃষ্টিতে মাঝে এক ঘণ্টা ম্যাচ বন্ধ ছিল। তার আগে শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয় হয় মুম্বইয়ের। প্রিয় মাঠে রান পেলেন না রোহিত শর্মা। ১৩ বলে ১৫ করে ফিরলেন। সূর্যকুমার যাদবও (১৫) ব্যর্থ। শেষ ৪ ওভারে ৫২ রান না উঠলে কেকেআরের সামনে লক্ষ্যমাত্রা আরও কম রানের থাকত। লক্ষ্যপূরণ করতে পারবে কেকেআর?