Last Updated:
১৭ বছরের নাবালিকাকে হেনস্থার অভিযোগে তেলেঙ্গানায় পকসো মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে মন্ত্রীর ছেলে বান্দি সাই ভগীরথকে৷ গ্রেফতারের পর ম্যাজিস্ট্রেট ২৯ মে পর্যন্ত বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছেন অভিযুক্তকে৷
নয়াদিল্লি: পকসো মামলায় অভিযুক্ত নিজের ছেলেকে পুলিশের হাতে নিজেই তুলে দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বান্দি সঞ্জয় কুমার৷ ১৭ বছরের নাবালিকাকে হেনস্থার অভিযোগে তেলেঙ্গানায় পকসো মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে মন্ত্রীর ছেলে বান্দি সাই ভগীরথকে৷ গ্রেফতারের পর ম্যাজিস্ট্রেট ২৯ মে পর্যন্ত বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছেন তাঁকে৷
এর একদিন আগেই তেলঙ্গানা হাইকোর্ট তাঁকে গ্রেফতারি থেকে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দিতে অস্বীকার করেছিল। পরে তাঁকে চেরলাপল্লি জেলে পাঠানো হয়। যদিও তাঁর আইনজীবী জানিয়েছেন ভগীরথ তদন্তে সমস্তরকম সহযোগিতা করছেন৷
ভাগীরথের আইনজীবী করুণাসাগর জানান, তিনি এবং সিনিয়র অ্যাডভোকেট অ্যান্টনি রেড্ডি স্বেচ্ছায় তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেন এবং তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেন।
করুণাসাগর বলেন, “আমি এবং সিনিয়র অ্যাডভোকেট অ্যান্টনি রেড্ডি রাত প্রায় ৮টা ১৫ মিনিট নাগাদ টেক পার্কের কাছে বন্দি ভাগীরথকে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করাই। পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নেয়।” তিনি আরও বলেন, “আমরা তদন্তে সহযোগিতা করেছি। বন্দি ভাগীরথ সমস্ত তথ্য দিয়েছেন এবং তদন্তে সহযোগিতা করতে সম্মত হয়েছেন।” আইনজীবীর দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের পর ভাগীরথকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে তোলা হয় এবং ২৯ মে পর্যন্ত বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, “বন্দি ভাগীরথকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেট তাঁকে ২৯ মে পর্যন্ত জুডিশিয়াল কাস্টডিতে পাঠিয়েছেন। তদন্ত এবং বিচারব্যবস্থার উপর আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আমরা নিশ্চিত যে অভিযোগ থেকে মুক্ত হয়ে আমরা পরিষ্কারভাবে বেরিয়ে আসব।” করুণাসাগর আরও দাবি করেন, আত্মসমর্পণ ছিল সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় এবং এ বিষয়ে অতিরিক্ত ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই।
প্রসঙ্গত, অভিযুক্ত ছেলেকে নিজেই পুলিশের হাতে তুলে দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী৷ লিখিত বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘সত্যমেব জয়তে! অভিযোগ উঠেছিল তা মাথায় রেখে এবং আইনের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধার কারণেই আমরা আমাদের ছেলেকে আইনজীবীদের মাধ্যমে তদন্তের জন্য পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি৷’
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরও লিখেছেন, ‘আমার ছেলে হোক অথবা অন্য কোনও সাধারণ নাগরিক, আইনের চোখে সবাই সমান৷ প্রত্যেকেরই আইন মেনে চলা উচিত৷ আমাদের ছেলে বার বারই দাবি করেছে সে কোনও অন্যায় করেনি৷ যখনই অভিযোগ দায়ের হয়েছিল, তার পরেই আমরা ভেবেছিলাম ছেলেকে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করতে বলব৷’
সঞ্জয় বান্দি দাবি করেছেন, প্রথমে তাঁর আইনজীবীরা ভেবেছিলেন এই মামলা হয়তো আদালতে খারিজ হয়ে যাবে এবং তাঁর ছেলে জামিন পেয়ে যাবেন৷ সেই কারণেই তাঁর ছেলের আত্মসমর্পণে দেরি হয়েছে৷ কিন্তু তা না হওয়ায় বিষয়টি ঝুলিয়ে না রেখে তিনি নিজেই ছেলেকে নিয়ে এসে পুলিশের হাতে তুলে দেন বলে দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী৷
Kolkata [Calcutta],Kolkata,West Bengal
