Last Updated:
অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে রাস্তার উপর হাঁটু গেড়ে প্রার্থনার ভঙ্গিতে বসে থাকা ২০ বছরের আন্তর্জাতিক পড়ুয়া সামিয়া মালিকের মৃত্যু হয় গাড়ির ধাক্কায়। দোষ স্বীকার করলেও দুই বছর ভাল আচরণ বজায় রাখার শর্তে কারাদণ্ড স্থগিত হওয়ায় জেল এড়িয়েছেন ২০ বছরের চালক অ্যাশটন ফ্রেন্ড।
রাস্তার উপর হাঁটু গেড়ে বসেছিলেন এক তরুণী। দু’হাতের ভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছিল, যেন প্রার্থনা করছেন। সেই অবস্থাতেই গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু হয় তাঁর। অথচ ওই তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত গাড়িচালককে জেলে যেতে হল না। অস্ট্রেলিয়ার আদালত তাঁর কারাদণ্ড দিলেও তা স্থগিত রেখেছে। দুই বছর ভাল আচরণ বজায় রাখার শর্তে জেলের সাজা এড়ালেন ২০ বছরের অ্যাশটন ফ্রেন্ড।
ঘটনাটি অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডের উত্তর-পূর্ব এলাকার। মৃত তরুণীর নাম সামিয়া মালিক। ২০ বছরের সামিয়া ছিলেন আন্তর্জাতিক পড়ুয়া। সংবাদমাধ্যম ‘এবিসি’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৬ মে রাত ১১টা নাগাদ হিলক্রেস্টের নর্থ ইস্ট রোডে দুর্ঘটনাটি ঘটে। আদালতে জানানো হয়েছে, ফ্রেন্ডের গাড়ির ধাক্কা লাগার আগে প্রায় চার মিনিট ধরে রাস্তার উপর হাঁটু গেড়ে বসেছিলেন সামিয়া। কেন তিনি ওই অবস্থায় রাস্তায় ছিলেন, তার কোনও ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার জেলা আদালতে বিচার চলাকালীন সিসিটিভি ফুটেজের উল্লেখ করেন বিচারক অ্যান বার্নেট। তাঁর বক্তব্য, ফুটেজে সামিয়ার হাতের ভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছিল, তিনি প্রার্থনা করছেন। তবে ওই তরুণী কেন রাস্তার উপর হাঁটু গেড়ে বসেছিলেন, তা স্পষ্ট নয়।
আদালতে ফ্রেন্ডের বিরুদ্ধে অসতর্ক ভাবে মোটরগাড়ি চালিয়ে মৃত্যু এবং দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যাওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল। দু’টি অভিযোগই স্বীকার করেন তিনি।
ফ্রেন্ডের আইনজীবী জেন অ্যাবি আদালতে জানান, দুর্ঘটনার পর ঠিক কী ঘটেছে, তা বুঝতে পারেননি তাঁর মক্কেল। বাড়ি ফেরার পথে তিনি রাস্তার উপর কিছু দেখতে পাননি। শুধু একটি শব্দ শুনেছিলেন। তাঁর ধারণা হয়েছিল, হয়তো কোনও পশু বা ওই ধরনের কিছুর সঙ্গে গাড়ির ধাক্কা লেগেছে। গাড়িটিরও তেমন ক্ষতি হয়নি বলে আদালতে জানান আইনজীবী।
দুর্ঘটনার কয়েক দিন পরে সংবাদমাধ্যমে এই ঘটনার খবর দেখেছিলেন ফ্রেন্ড। কিন্তু তখনও তিনি মানসিক ভাবে এতটাই বিপর্যস্ত ছিলেন যে কোনও পদক্ষেপ করতে পারেননি বলে আদালতে জানানো হয়।
কারাদণ্ড দিলেও স্থগিত রাখল আদালত
মঙ্গলবার সাজা ঘোষণার সময় ফ্রেন্ড বলেন, জীবনের বাকি সময় তাঁকে নিজের ব্যর্থতার বোঝা বয়ে বেড়াতে হবে। বিচারক অ্যান বার্নেট তাঁকে এক বছর, তিন মাস এবং ২৯ দিনের কারাদণ্ড দেন। আট মাসের আগে প্যারোলে মুক্তির সুযোগ থাকবে না বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে দুই বছর ভাল আচরণ বজায় রাখার শর্তে একটি বন্ডে সম্মতি জানান ফ্রেন্ড। তার পরেই কারাদণ্ড স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় আদালত। ফলে সামিয়া মালিকের মৃত্যুর ঘটনায় দোষ স্বীকার করেও জেলে যেতে হল না ২০ বছরের গাড়িচালককে।
