Last Updated:
বন্দে মাতরমকে সম্মান জানাতে এবার আরও একধাপ। বন্দে মাতরমের অপমানে হতে পারে জেল। হতে পারে জরিমানা। কিংবা দুটোই। ১৯৭১ সালের আইনে এই মর্মে সংশোধনী আনছে কেন্দ্রীয় সরকার।
কলকাতা: বন্দে মাতরম। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। গত কয়েক বছরে বারবারই এই আবেগে শান দিয়েছে বিজেপি। এবার বন্দে মাতরমের মর্যাদারক্ষায় আরও একধাপ এগোলো মোদি সরকার। বন্দে মাতরম শুধু একটি গান নয়, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঞ্জীবনী মন্ত্র। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা এই গান উদ্বুদ্ধ করেছে গোটা জাতিকে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই জানিয়েছিলেন, ‘‘সঞ্জীবনী মন্ত্র বন্দে মাতরম। এটা আমরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কার্যকর করেছি। সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত সব প্রতিষ্ঠানে প্রার্থনা সঙ্গীত হিসেবে কার্যকর করেছি। আমরা দেখছি দাঁড়ালেও অনেকের ঠোঁট নড়ছে না। ঠোঁটও নাড়াতে হবে। সেই ব্যবস্থাও করব আমরা, ভরসা রাখুন ৷’’
সাল ১৮৭৫ ৷ বন্দে মাতরম গানটি লেখেন সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। তার ৭ বছর পর, ১৮৮২ সালে তা অন্তর্ভুক্ত হয় ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে। জাতীয়তাবাদের মন্ত্র। লড়াইয়ের মন্ত্র। দেশের মানুষের আবেগ…বন্দে মাতরম। গত কয়েক বছরে বারবারই এই আবেগে শান দিয়েছে বিজেপি। গত ফেব্রুয়ারি মাসে বন্দে মাতরম নিয়ে নির্দেশিকা জারি করে কেন্দ্র। সেখানে জনগণমন-র মতো বাধ্যতামূলক করা হয় বন্দে মাতরমকে। কেন্দ্রের নির্দেশিকায় বলা হয়, ‘‘বন্দে মাতরমের ৬টি স্তবক গাইতে হবে অথবা বাজাতে হবে ৷ জাতীয় সঙ্গীতের মতো বন্দে মাতরম-এও উঠে দাঁড়াতে হবে ৷’’
এই গানের দেড়শো বছর পূর্তি উপলক্ষে নানা কর্মসূচিও নেয় মোদি সরকার। ২০২৫ সালের ৭ই নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৭ই নভেম্বর পর্যন্ত দেশজুড়ে চলে উৎসব। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কথায়, ‘‘বাংলার সংস্কৃতি এগিয়ে নিয়ে যেতে বন্দে মাতরম মিউজিয়াম বানানো হবে। বন্দে মাতরম মিউজিয়ামের মাধ্যমে গোটা বিশ্বে বাংলার সংস্কৃতি ছড়িয়ে পড়বে। বাংলার সংস্কৃতির পুনর্জাগরণের কাজও করবে বন্দে মাতরম সংগ্রহালয় ৷’’
বঙ্কিম গবেষক ডক্টর বিজুলি সরকার বলেন, ‘‘বন্দে মাতরম দেশের জাতিসত্তা ঠিক করে দিয়েছিল। এই গানটা বীজ মন্ত্রের মতো কাজ করেছে। এই গানটা না থাকলে দেশ স্বাধীন হতো না ৷ এত বছর ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। মোদিজি ঐতিহাসিক কাজ করেছেন ৷’’
ছাব্বিশে ভোটের প্রচারের ময়দানে বারবারই বিজেপির নেতাদের মুখে শোনা গিয়েছে বন্দে মাতরমের কথা। বঙ্কিমের কথা। বাংলায় বিজেপি সরকার শপথ নিয়েই ঘোষণা করে, স্কুলের প্রার্থনা সভায় ‘বন্দে মাতরম’ বাধ্যতামূলক।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উত্তরসূরী বর্ণালী চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমাদের পরিবারের সকলেই খুশি। আশা করি দেশবাসীও খুশি। বন্দে মাতরম অনেকদিন ধরেই তার যোগ্য মর্যাদা পায়নি। এখন সরকার যোগ্য মর্যাদা দেওয়ায় খুশি ৷’’
Kolkata,West Bengal
