তেহরান: প্রয়াত আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের শেষযাত্রা ঘিরে শোকের ছায়া গোটা ইরানে। শেষ বিদায় জানাতে রাস্তায় নেমে এসেছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। তবে বাবার শেষযাত্রায়ও জনসমক্ষে এলেন না ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার উত্তরাধিকারী, ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ শাসক আয়াতোল্লা মোজতবা খামেনেই। তবে মোজতবা অনুপস্থিত থাকলেও, খামেনেইয়ের অন্য় তিন ছেলেকে দেখা গেল বাবার শেষযাত্রায়। (Ayatollah Ali Khamenei Sons at Funeral)
রবিবার তেহরানে খামেনেইয়ের জন্য বিশেষ প্রার্থনাসভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে উপস্থিত হন খামেনেইয়ের তিন ছেলে-মুস্তাফা, মসাম এবং মাসুদ খামেনেই। ইমাম খোমেইনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় বাবার কফিনের পিছনে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁরা। বাবা এবং পরিবারের বাকি সদস্যদের কফিন দেখে কার্যতই ভেঙে পড়েন মাসুদ। কেফিয়া দিয়ে চোখ মুছতে দেখা যায় তাঁকে। আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন অন্য দু’জনও। (Ali Khamenei Funeral)
Three sons of former Iranian Supreme Leader Khamenei (Mostafa, Meysam, and Masoud) were seen praying beside his coffin
The new Supreme Leader Mojtaba Khamenei did not make an appearance pic.twitter.com/sfy2Q4O2Pm
— Open Source Intel (@Osint613) July 5, 2026
আরও পড়ুন: খামেনেইয়ের শেষযাত্রায় জনসমুদ্র ইরানে, হতবাক ট্রাম্প, বললেন, ‘চাইলে এক তুড়িতেই…’
তবে শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনেও জনসমক্ষে আসেননি মোজতবা। ফলে তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা এবং ইজরায়েলের যৌথ হামলায় মারা যান খামেনেই এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা। ওই হামলায় আহত হন মোজতবাও। তাঁর আহত হওয়ার খবর মেনে নিয়েছে তেহরানও। তবে কতটা আহত তিনি, এখন কী অবস্থায় রয়েছেন, তা খোলসা করা হয়নি।
খামেনেই-হত্যার জেরেই আমেরিকা এবং ইজরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হয় ইরানের। সেই যুদ্ধের জেরে প্রায় চার মাস পর খামেনেইয়ের শেষকৃত্য শুরু হল। এই চার মাসে অনেক কিছুই বদলে গিয়েছে ইরানে। দেশের সর্বোচ্চ শাসক ঘোষিত হয়েছেন মোজতবা। কিন্তু এখনও পর্যন্ত একবারও জনসমক্ষে আসেননি তিনি। শুধুমাত্র লিখিত বিবৃতি জারি করেছেন কয়েক বার। খামেনেইয়ের শেষকৃত্যে তিনি কেন এলেন না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে মোজতবার অনুপস্থিতির সঙ্গে নিরাপত্তার প্রশ্নও জড়িয়ে বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ‘মেড ইন পাকিস্তান’ ফেয়ারনেস ক্রিম মেখে অসুস্থ, কিডনির সমস্যা একাধিক মহিলার, ভারতে ঢুকল কী করে?
রবিবার খামেনেইয়ের শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, সংসদের স্পিকার মহম্মদ বাঘের গলিবাফ, ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পসের কম্যান্ডার ইন চিফ আহমেদ বাহিদিও। জাতীয় পতাকায় মোড়ানো ছিল খামেনেইয়ের কফিন। তাঁর কালো পাগড়িটিও রাখা ছিল কফিনের উপর। পরিবারের অন্য চার সদস্যের কফিনও ছিল সেখানে, যার মধ্যে ছিল ছোট্ট একটি কফিন, যাতে খামেনেইয়ের ১৪ মাসের নাতনি জাহরার দেহ রাখা ছিল। ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় সেও মারা যায়। ইরানের বিভিন্ন শহরে খামেনেইয়ের কফিন নিয়ে শোবাযাত্রা হতে চলেছে। ১ কোটিরও বেশি মানুষ তাতে অংশ নিচ্ছেন বলে জানা যাচ্ছে।
TMC News: দক্ষিণ দমদমে স্কুলের জমিতে ব্যাডমিন্টন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র! ক্ষোভ উগরে দিলেন বাসিন্দারা