হায়দরাবাদ: এক সময় আইপিএলে খেলার স্বপ্ন তো দূর, এমনকী ম্যাচ খেলার জন্য প্রয়োজনীয় জুতোটুকু জোগাড় করার সামর্থ্য ছিল না তাঁর। তবে সেই সাকিব হুসেনই (Sakib Hussain) বছর দু’য়েক আগে কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে আইপিএল জিতেছিলেন। সেই মরশুমে তিনি একটিও ম্যাচ খেলেননি। তবে এ বারে আইপিএলের মঞ্চে প্রথমবার নিজের প্রতিভা মেলে ধরার সুযোগ পেয়েই নজর কেড়েছেন সাকিব। শুক্রবার ইতিহাসও গড়ে ফেললেন তিনি।
আরসিবির বিরুদ্ধে সানরাইজার্সের হয়ে শুক্রবার একটিই উইকেট নেন সাকিব। তিনি বিরাট কোহলির (Virat Kohli) মহামূল্যবান উইকেটটি নেন। এই উইকেটটি নিয়েই ইতিহাস গড়েন সাকিব। তিনি প্রথম বোসার হিসাবে অভিষেক ঘটানোর পর নাগাড়ে দশ ম্যাচে উইকেট নিলেন। তলতি আইপিএলে ৯.০৭ ইকোনমি এবং ২৩-র গড়ে ১৫টি উইকেট নিয়েছেন তরুণ ফাস্ট বোলার। এই ১৫ উইকেটের তালিকায় সামিল হল কোহলির নাম।
বিরাট কোহলির মতো বিশ্ববন্দিত ব্যাটারের উইকেট নেওয়া কিন্তু যে কোনও বোলারেরই স্বপ্ন। সাকিবের ক্ষেত্রেও বিষয়টা ভিন্ন নয়। ম্যাচশেষে তাঁকে কোহলির উইকেট নেওয়ার প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করা হলে সাকিব হাসিমুখে বলেন, ‘মজা তো পেয়েছি। বিরাট কোহলির উইকেটটা আমার কাছে স্বপ্নের উইকেটই বটে।’
আরও পড়ুন:- এ বছরেই ইতি না আগামী মরশুমে ফিরবেন ধোনি? কী জানালেন সিএসকে অধিনায়ক রুতুরাজ?
ম্যাচের নিজের পরিকল্পনা নিয়ে বলতে গিয়ে সাকিব জানান, ‘বলটা খানিকটা থেমে আসছিল। তাই আমি মূলত নিজের মন্থর গতির বলের ওপরই নির্ভর করছিলাম যাতে পিচ থেকে সাহাযায পাই এবং সেই পরিকল্পনা কাজেও দেয়।’ তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমানে আমি খালি নিজের খেলায় আরও উন্নতি করতে চাই। আমি নিজের খেলায় যত উন্নতি করব, দল তো ততই লাভবান হবে।
ম্যাচের কথা বলতে গেলে এদিন ব্যাটে নেমে প্রথম থেকেই আগাগোড়া দুরন্ত খেলে ২৫৫ রান তোলে। ব্যাট হাতে সানরাইজার্সের হয়ে অভিষেক শর্মা, ঈশান কিষাণ ও হেনরিখ ক্লাসেন অর্ধশতরান করেন। বোর্ডে বড় রান তোলা পর, মূলত শাকিব হুসেন, ঈশান মালিঙ্গার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ম্যাচ জিতে নেয় নিজামের শহরের ফ্র্যাঞ্চাইজ়ি। আরসিবিকে তারা ২০ ওভারে ২০০ রানের বেশি করতেই দিল না। রজত পাতিদার, ক্রুণাল পাণ্ড্যরা লড়াই করলেও, প্রয়োজনীয় গতিতে রান করতে পারেননি, ফলে কোনও সময়ই মনে হয়নি আরসিবি ম্যাচ জিততে পারে। শেষমেশ বড় ব্যবধানে তাদের হারতেই হয়।