সন্দীপ সরকার, কলকাতা: মারমার-কাটকাট ম্যাচ হওয়ার মঞ্চ তৈরি ছিল।
একদিকে কলকাতা নাইট রাইডার্স (KKR vs DC)। শেষ সাত ম্যাচে যারা ৬টিতে জিতে প্লে অফের দৌড়ে ছিল। রবিবার বড় ব্যবধানে জিতলে প্লে অফের টিকিট কনফার্ম হলেও হতে পারত। অন্যদিকে দিল্লি ক্যাপিটালস, যারা প্লে অফে ওঠার লড়াই থেকে ছিটকে গেলেও নাইট শিবিরকে বিঁধতে বদ্ধপরিকর। হবে নাই বা কেন, প্রথম দফায় কেকেআর যে তাদের ঘরের মাঠে গিয়ে হারিয়ে এসেছে। ইডেনে তো বদলা নেওয়ার সুযোগ। তার ওপর দলে অভিষেক পোড়েল-মুকেশ কুমারের মতো বাংলার হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলা তারকা। দিল্লি জেতা মানে বাংলার প্রাপ্তির ঝুলিও নেহাত শূন্য থাকবে না।
কিন্তু দিল্লি ক্যাপিটালস ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণা গ্রাস করল ইডেনকে। মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে রাজস্থান রয়্যালস মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে হারিয়ে দিতেই প্লে অফের দৌড় থেকে কেকেআরের বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেল। চতুর্থ দল হিসাবে প্লে অফে জায়গা করে নিল রাজস্থান। ইডেনে যে ম্যাচে রোমাঞ্চের স্ফূলিঙ্গ ছড়াতে পারত, সেই ম্যাচই বিষণ্ণতার বাসর হয়ে উঠল।
সেই ম্যাচে কেকেআরের সামনে কাঁটা বিছিয়ে দিল দিল্লি ক্যাপিটালস। প্লে অফে ওঠার জন্য কেকেআরের সামনে শর্ত ছিল, প্রথমে ব্যাট করলে ৭৭ রানে জিততে হবে। পরে ব্যাট করলে ১২.১ ওভারে রান তাড়া করে দিতে হবে। রাজস্থান জিতে যাওয়ায় সেই সমীকরণ বাতিলের খাতায় চলে যায় বটে। কিন্তু প্রথমে ব্যাট করে দিল্লি ক্যাপিটালস যে স্কোর তুলল, সেই ২০৩/৫ রান তাড়া করে ৭৩ বলে লক্ষ্যপূরণ করা কেকেআরের পক্ষে কার্যত অসম্ভবই হয়ে দাঁড়াতে পারত।
ইডেনে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং নিয়েছিলেন কেকেআর অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে। লক্ষ্য, অল্প রানে বিপক্ষকে বেঁধে রেখে দ্রুত সেই রান তাড়া করে জয়ের জন্য ঝাঁপানো। কিন্তু কেকেআর শুরু করল অভিষেক পোড়েলের ক্যাচ ফেলা দিয়ে। কার্তিক ত্যাগীর বলে উইকেটের পিছনে লোপ্পা ক্যাচ ফেললেন উইকেটকিপার হিসাবে এই ম্যাচে খেলা তেজস্বী দাহিয়া। পরে আশুতোষ শর্মার ক্যাচও ফেললেন তিনি। ক্যাচ ফেললেন রিঙ্কুও। সাহিল পারিখের। সুনীল নারাইনের বলে। অভিষেক ২২ রানে আউট হলেন।
ব্যাট হাতে জ্বলে উঠলেন কে এল রাহুল। ৩০ বলে ৬০ রান করে তিনিই দিল্লির সর্বোচ্চ স্কোরার। ২ উইকেট নিলেন সৌরভ দুবে।