Last Updated:
শিবির বদল করেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেছিলেন। এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধলেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র।
কলকাতা: একুশে জুলাইয়ের আগে মিত্রহীন মমতা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছাড়লেন মদন মিত্র। মমতার তৃণমূলের সব পদ থেকে ইস্তফা দিলেন মদন। নিউজ18 বাংলায় উগরে দিলেন ক্ষোভ-অভিমানও। ফের ভাঙন কালীঘাট তৃণমূলে। এ বার কালীঘাট তৃণমূল ছাড়লেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থাভাজন বলে পরিচিত মদন মিত্র। বুধবার দুপুরে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে যান কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক। চোখে কালো রোদচশমা, সাদা পাঞ্জাবি পরে ঋতব্রতের পাশেই বসে থাকতে দেখা যায় তাঁকে। ঋতব্রতের ঘরে বসেই কালীঘাট তৃণমূলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা জানান তিনি।
ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিয়ে মদন মিত্র বলেন, “তৃণমূলে ছিলাম, তৃণমূলেই রইলাম। কেবল এই ঘর থেকে ওই ঘরে গেলাম। ওই ঘরে হয়তো একটা সুখের পালঙ্ক ছিল। এই ঘরে হয়তো একটা খাটিয়া রয়েছে। আমি খাটিয়ার দিকটাই বেছে নিলাম।” শিবির বদলের পর তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। মদন বলেন, “দীর্ঘ দিন তিনি (মমতা) আমাদের পাশে থেকেছেন। আমরাও চেষ্টা করেছি কমবেশি করার।” আগামী ২১ জুলাই তিনি ঋতব্রত শিবিরের কর্মসূচিতেই থাকবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। মদন জানিয়েছেন, শিবির বদলের আগে মমতাকে হোয়াট্সঅ্যাপ করে ‘সরি’ বলেছেন তিনি।
মদন মিত্র এদিন আরও বলেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জায়গাটা যত দিন যাচ্ছিল ছোট হয়ে আসছিল। মিত্রহীন নয়। আমি হোয়াটসঅ্যাপে সরি চেয়েছি, অ্যাপলজি চেয়েছি। আমার ব্রিথিং প্রবলেম, নিঃশ্বাস নিতে পারছি না। কাজ করতে পারছি না। কী করব। আমাদের একজন হিটলার আছেন, হিটলার তো তবু চলে গিয়েছিলেন সত্ত্ব ছেড়ে দিয়ে। অভিষেক কথায়, ওর সবকিছুতে চলতে হবে। না হলে দেখে নেবে। এধরনের আচরণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানতেন না? – সব গার্ডিয়ানরা গান্ধারী অথবা ধৃতরাষ্ট্র। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার নেত্রী ছিলেন-আছেন-থাকবেন। আমার দুঃখ এটাই যে নেত্রীকে বোঝাতে পারলাম না, সহকর্মীকে সঙ্গে পেতে গেলে কীভাবে চলতে হয়।’’
মমতার রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘদিনের ছায়াসঙ্গী মদন মিত্র। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন যুব কংগ্রেসে, সেই সময়ও নেত্রীর পাশে দেখা যেত তাঁকে। মমতা তৃণমূল তৈরির পরও সেভাবেই ছিলেন। এমনকি এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পরও নেত্রীর পাশেই দেখা যাচ্ছিল তাঁকে। অন্যরা যখন বিদ্রোহ করছেন, সেই সময় তাঁদের কটাক্ষও করেছেন। এবার সেই মদন নিজেই মমতার হাত ছাড়লেন। নেত্রীর দেওয়া হালফিলের সব পদও ছেড়ে দিলেন। ‘কালীঘাট তৃণমূলে’র পক্ষ থেকে চিফ হুইপ করা হয়েছিল মদনকে। সেই পদ চেড়ে দিয়েছেন তিনি।
Kolkata,West Bengal
