কলকাতা: গাড়ি কেনা যে কোনও মানুষের জীবনের একটা অন্যতম বড় সিদ্ধান্ত। কিন্তু কোনও মানুষের মাসিক উপার্জন ২০ হাজার টাকা হলে, তার পক্ষে গাড়ি কেনা কি বাস্তব সম্মত? কারণ, গাড়ির দাম ছাড়াও গাড়ির ডাউন পেমেন্ট, ঋণের মান্থলি পেমেন্ট, জ্বালানি, বিমা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং অন্যান্য খরচ মিলিয়ে মাসিক বাজেটের উপর বড় চাপ পড়তে পারে।
আরও পড়ুন: ইপিএফ থেকে অ্যাডভান্স তোলার নিয়ম আরও শিথিল, এবার আরও সহজে তোলা যাবে বড় অ্যামাউন্ট
ভারতে সব থেকে সাশ্রয়ী দামের গাড়ি হল মারুতি সুজুকি এস প্রেসো। এই গাড়ির STD (O) Petrol Manual 5 STR ভ্যারিয়েন্টের কলকাতায় অনরোড দাম ৪ লক্ষ ৩০ হাজার টাকার মধ্যে। এর মধ্যে ১৫ বছরের রেজিস্ট্রেশন, বিমা ও অন্যান্য খরচও রয়েছে। এবার যদি কেউ ২০ শতাংশ হিসাব করে ৮৬ হাজার টাকার মতো ডাউন পেমেন্ট করা হলে বাকি টাকা লোন নিতে হবে। বছরে ৯ শতাংশ সুদের হারে ৫ বছরের জন্য ঋণ নিলে এই গাড়ির পিছনে মাসিক ৭ হাজার ১৫০ টাকার মতো ইএমআই দিতে হবে।
তবে শুধু ইএমআই দিয়েই কিন্তু শেষ নয়। গাড়ির জন্য পেট্রোল, সার্ভিসিং বা পার্কিং মিলিয়ে আরও ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা খরচ আছে এই গাড়ির পিছনে। ফলে মাসিক খরচ ১১ হাজার থেকে ১২ হাজারে পৌঁছে যেতে পারে। ফলে মাসিক উপার্জনের প্রায় ৬০ শতাংশ টাকাই বেরিয়ে যেতে পারে গাড়ির পিছনে।
অনেক আর্থিক বিশেষজ্ঞ গাড়ির বাজেট নির্ধারণে বার্ষিক আয়ের ৫০ শতাংশের একটি সাধারণ সীমা বিবেচনা করার পরামর্শ দেন। মাসে ২০ হাজার টাকা আয় হলে বার্ষিক আয় ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা। সেই হিসাবে গাড়ির বাজেট প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার মধ্যে রাখা উচিত। কিন্তু এই দামে গাড়ি হয় না। সেই কারণেই বিশেষজ্ঞরা বলেন, উপার্জন যদি খুব কম হলে পুরোনো গাড়ির দিকে নজর রাখতে বা মোটর বাইকের দিকে নজর রাখতে।
আরও একটি জনপ্রিয় নির্দেশিকা হল ২০/৪/১০ নিয়ম। এতে অন্তত ২০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট, চার বছরের মধ্যে ঋণ শোধ এবং মাসিক আয়ের প্রায় ১০ শতাংশের মধ্যে মোট গাড়ি-সংক্রান্ত খরচ রাখার কথা বলা হয়।
তাই গাড়ি কেনার আগে শুধু কত EMI দিতে হবে তা নয়, নিজের প্রকৃত আয়, অন্যান্য ঋণ, সংসারের খরচ, সঞ্চয় এবং ভবিষ্যতের আর্থিক লক্ষ্যও বিবেচনা করা জরুরি। মাসে উপার্জন ২০ হাজার হোক বা ২০ লক্ষ, গাড়ি কেনা বড় আর্থিক চাপ হয়ে উঠতে পারে।