কলকাতা: শুধুমাত্র পুরসভা ও বোরো অফিসেই নয়, জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্রের ক্ষেত্রে, কোথায় কোথায় অনিয়ম রয়েছে বা দুর্নীতি রয়েছে, এবার কেওড়াতলা মহাশ্মশানেও পৌঁছে গেল কলকাতা পুলিশ।
আরও পড়ুন, জন্ম ও মৃত্যুর সার্টিফিকেট নিয়ে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর, ‘কলকাতা কর্পোরেশন সহ, বিভিন্ন জায়গায়…”
তৃণমূল সরকারের আমলে SIR চলাকালীন জন্ম ও মৃত্যুর সার্টিফিকেট নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে, রাজ্যজুড়ে চলছে পুলিশি অভিযান, খতিয়ে দেখা হচ্ছে রেজিস্টার। এবার কেওড়াতলা মহাশ্মশানেও দীর্ঘসময় ধরে অভিযান চালাচ্ছে কলকাতা পুলিশ। এবং ২২ মার্চ থেকে যে সমস্ত রেকর্ড রয়েছে, সেই রেকর্ড সিজ করা হচ্ছে বলে খবর। কেওড়াতলা মহাশ্মশানে প্রবেশের পর, যে সাব রেজিস্ট্রারের অফিস রয়েছে, সেই অফিসেও পুলিশের অভিযান চলছে। এবং সেখানে রেকর্ড সিজ করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, বার্থ ও ডেথ সার্টিফিকেটে দুর্নীতি রয়েছে। পরবর্তীতে দেখা যাচ্ছে, বিভিন্ন জায়গায় জন্ম ও মৃত্যু সার্টিফিকেট নিয়ে দুর্নীতির খবর আসছে। এরপরেই সারা রাজ্যজুড়েই পুলিশি অভিযান চলছে।
বেআইনি পদ্ধতিতে ইস্য়ু করা হয়েছে হাজার হাজার বার্থ সার্টিফিকেট? তাও আবার SIR আবহে? অন্তত তেমনইটাই জানালেন মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল। তিনি আরও দাবি করেছেন, সম্প্রতি একটি স্যাম্পেল টেস্টে দেখা গেছে, ইস্যু হওয়া ৪৭ হাজার বার্থ সার্টিফিকেটের প্রায় ২৫ শতাংশ ভুয়ো। জন্মানোর পর বার্থ সার্টিফিকেট ইস্য়ু করে পুরসভা কিংবা পঞ্চায়েত। আর মৃত্যুর পর ডেথ সার্টিফিকেট। এটাই নিয়ম। কিন্তু এই নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কি বেআইনি পদ্ধতিতে ইস্য়ু করা হয়েছে হাজার হাজার বার্থ সার্টিফিকেট? তাও কি আবার SIR আবহে? যেনতেন প্রকারে ভোটার তালিকায় নাম তুলতে? এই দুর্নীতির পর্দা ফাঁস করতে কলকাতা থেকে জেলা, বড়সড় অভিযানে নামল পুলিশ। কলকাতা থেকে জেলা চলল তল্লাশি।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, যেভাবে অবৈধ জন্ম সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে, I PAC-এর একটা বড় ষড়যন্ত্র ছিল। I PAC-এর চোরাগুলোকে বসিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর দলের নির্দেশে যেভাবে অবৈধ বার্থ সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে তাতে রাজ্যের এবং দেশের সুরক্ষায় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। তাই আমরা এটাকে ক্র্যাকডাউন করার জন্য যত রেকর্ড ছিল সিজ করলাম আজকে। SIR-এর সময় পরিচয়পত্র হিসেবে যে ১৩টি নথিপত্রের উল্লেখ করা হয়েছিল, তার মধ্যে অন্যতম ছিল বার্থ সার্টিফিকেট।বৃহস্পতিবার রাজ্যজুড়ে পঞ্চায়েত ও পুরসভায় পুলিশি অভিযানের পর, যে বিষয়টা ফের নতুন করে সামনে এসেছে।