কলকাতা : অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম ফিলআপ নিয়ে সমস্যা হলে মানুষ যাতে একেবারেই বিচলিত না হন, সেই পরামর্শই দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ইতিমধ্যেই অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছে ১২ পাতার অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম। সুবিশাল ফর্ম হওয়ায় এবং অনেক খুঁটিনাটি তথ্য দিতে হবে বলে হয়তো অনেকে সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। তবে তার সমাধান দিয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। জনগণের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, কেউ যেন বিচলিত কিংবা বিভ্রান্ত না হন। সরকারের তরফেই সাহায্য করা হবে।
বীরভূমের বালি ব্যবসায়ীর বাড়িতে টাকার পাহাড়, উদ্ধার ৫০ লক্ষ টাকা, ৫০০ গ্রামের বেশি সোনা
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ‘আমরা ইতিমধ্যেই অন্নপূর্ণা যোজনা, যে অন্নপূর্ণা নাম নথিভুক্তকরণ শুরু করেছি, তার প্রথম পর্যায়ে আমরা ৩ হাজার টাকা করে টাকা ট্রান্সফার করব আগামী বুধবার দিন। আপনারা কেউ বিচলিত হবেন না। যাঁরা ফর্ম ফিলআপ করতে পারবেন না, তাঁদের প্রত্যেকের বাড়িতে আমাদের পক্ষ থেকে লোক যাবে। আমাদের লোকেরা গিয়ে আপনাদের ফর্ম ফিলআপ করে আনবে। এতটুকু বিচলিত হবেন না। বিভ্রান্ত হবেন না। গুজবে কান দেবেন না। কারণ আমরা চাই প্রকৃত প্রাপকদের হাতে এই অর্থ পৌঁছাক। আমরা চাই না কোনও অভারতীয়র অ্যাকাউন্টে এই টাকা যাক। আমরা চাই না যে পুরুষদের অ্যাকাউন্টে মহিলাদের এই কর্মসূচির টাকা যাক। ইতিমধ্যেই রাজ্যের বহু জায়গা থেকে অবৈধ ভাবে পুরুষরা যাঁরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছিলেন, গ্রেফতার হয়েছেন। আপনাদের সরকারের অর্থ, এই সরকার স্বচ্ছ্বতার সঙ্গে কাজ করবে। এই সরকার ফাইনান্সিয়াল ডিসিপ্লিন মেনে কাজ করবে। পশ্চিমবঙ্গে যাঁরা প্রকৃত প্রাপক, তাঁদের প্রত্যেককে চিহ্নিত করে, খুঁজে বের করে, তাঁদের কাছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া, আমাদের দেওয়া সংকল্প পত্রের প্রত্যেকটা বাক্য, শব্দ পূরণ করার দায়িত্ব আপনাদের সরকারের।’
বুধবার রাতেই অনলাইনে আপলোড করে দেওয়া হয়েছে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম। ১২ পাতার ফর্মে, নিজের ও পরিবার সম্পর্কে নানা তথ্য দিতে হচ্ছে আবেদনকারীদের।
যেমন, পরিবার কি মাসিক রেশন তোলে?
৩টির বেশি পাকা ঘর আছে কি?
পরিবারের সব সদস্য মিলে মোট জমির পরিমাণ কত?
পরিবারে কারও চারচাকা গাড়ি আছে কি?
স্বাস্থ্যবিমা আছে কি?
পরিবারের সদস্যরা কী ধরনের কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত?
সমস্ত আবেদনকারীকেই আশ্বস্ত করেছেন রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রথমে ভেবেছিলাম ফর্মটা আমরা আনব না। যারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পান তাঁরাই অন্নপূর্ণা পাবেন। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারী যেমনটা বলেছেন প্রচুর ভুয়ো লোক ঢুকে আছে এর মধ্যে। তাই ফর্মটা আনতে হয়েছে।’