Last Updated:
চিনের ঝেজিয়াং প্রদেশে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের তদন্তে গিয়ে চমকে উঠল পুলিশ। একটি ফ্ল্যাটে এক বেকার যুবক অবৈধভাবে ৩০০-রও বেশি অজগর সাপ পালন করছিল। বিরল বন্যপ্রাণী পাচারের এই মামলায় আদালত অভিযুক্তদের শাস্তির নির্দেশ দিয়েছে।
চিনের পূর্বাঞ্চলের ঝেজিয়াং প্রদেশে একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে, যেখানে একটি ছোট ফ্ল্যাটের লক্ষ লক্ষ টাকার বিদ্যুৎ বিল এক ভয়ঙ্কর গোপন রহস্যের পর্দা ফাঁস করে দেয়। সন্দেহের ভিত্তিতে একা বসবাসকারী এক বেকার যুবকের বাড়িতে পুলিশ হানা দিলে ভিতর থেকে ‘হিস-হিস’ শব্দ ভেসে আসছিল।
পুলিশ যখন ফ্ল্যাটের দরজা খুলে ভিতরে প্রবেশ করে, তখন সেখানকার দৃশ্য দেখে কর্মকর্তাদের চোখ কপালে উঠে যায় ! ছোট্ট ফ্ল্যাটটির ঘরগুলোতে মানুষের ব্যবহার্য জিনিসপত্রের বদলে সারি সারি বড় বড় প্লাস্টিকের বাক্স রাখা ছিল। আর সেই বাক্সগুলোর মধ্যে শয়ে শয়ে অজগর সাপ ঘুরে বেড়াচ্ছিল।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে পুলিশ এক মুহূর্তও দেরি না করে গুও এবং তার সহযোগী ডি-কে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতার করে। পরে আদালত গ্রেড-২ সুরক্ষিত বন্যপ্রাণীর অবৈধ প্রজনন ও পাচারের অভিযোগে দু’জনকেই কারাদণ্ড দেয়।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের মার্চ মাসে। তখন তাইঝৌ এলাকায় এক বৃদ্ধ পাহাড়ের পাদদেশে একটি বিশাল আকৃতির এবং অদ্ভুত রঙের সাপ দেখতে পান।
ওই ব্যক্তি সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেন, কারণ ওই সাপটি এলাকার স্বাভাবিক সাপগুলোর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ছিল এবং তার শরীর একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের হাতের মতো মোটা ছিল।

পুলিশ বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানান, এই মাসে সাধারণত সাপ গর্ত থেকে বের হয় না। এটি একটি বিদেশি অজগর, যা নিশ্চিতভাবেই কারও হেফাজত থেকে পালিয়ে এসেছে।
এছাড়া বিশেষজ্ঞরা পুলিশকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দেন। তারা জানান, অজগর সাপকে বাঁচিয়ে রাখতে ২০ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার উষ্ণ ও আর্দ্র পরিবেশের প্রয়োজন হয়। এমন পরিবেশ বজায় রাখতে প্রচুর হিটার ও বিদ্যুতের ব্যবহার করতে হয়।
এই সূত্র ধরেই পুলিশ এলাকার বিভিন্ন বাড়ির বিদ্যুৎ বিল খতিয়ে দেখতে শুরু করে। তদন্তে দেখা যায়, গুও (Guo) নামে একা বসবাসকারী এক যুবকের বিদ্যুৎ বিল সবার তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে বেশি। এরপরই তার প্রতি পুলিশের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।
Kolkata,West Bengal
Jun 25, 2026 10:29 AM IST
