ভূমিকম্পের পরেই দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তিকালীন প্রেসিডেন্ট৷ ভয়ঙ্কর ক্ষয়ক্ষতির কারণে বন্ধ রাখা হয়েছে দেশের মূল বিমানবন্দর৷
মাটি থেকে গর্জন উঠে আসছিল
ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে কারাকাসের এক মহিলা নাগরিক বলেন, ‘‘প্রথম কম্পনের সময় যেন “মাটি থেকে একটা গর্জন উঠে আসছিল। দেওয়ালগুলো নড়ছিল, আমার মনে হচ্ছিল যেন আমি যেন জলের মধ্যে আছি।” আতঙ্কের মুহূর্ত মনে করে তিনি বলেন, ‘‘বিল্ডিংয়ে ফাটল ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে কী ভাবে তিনি তাঁর চারতলা অ্যাপার্টমেন্টের মেঝেতে ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রার্থনা করেছিলেন।’’
তিনি বলেন, ভূমিকম্পে তার বাড়ির কিছু অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। “রান্নাঘরটা ধসে পড়েছে। বসার ঘরের দেওয়ালটাও প্রায় ভেঙে পড়ার উপক্রম; আর একটু ঝাঁকুনিতেই এটা ধসে পড়বে মনে হচ্ছিল৷”
সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে ভেনেজুয়েলা ভূমিকম্পের একাধিক ভিডিও৷ কোথাও দেখা গিয়েছে রাস্তায় বিরাট ফাটল তৈরি হয়েছে, কোথাও দেখা যাচ্ছে বহুতলের ছাদে থাকা স্যুইমিং পুল থেকে ঝরনার মতো ঝরে পড়ছে জল৷ আরেকটি ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে বিমানবন্দরের মধ্যেই মানুষের চিৎকার৷ ভূমিকম্পে যেন ধুলের ঝড় উঠেছে, আতঙ্কে দিশেহারা হয়ে বহুতল বাড়ি থেকে রাস্তায় নামছেন বাসিন্দারা৷ ভিডিয়োয় ধরা পড়েছে সেই ছবিও৷
ভূমিকম্পে ঘরবাড়ি ও ভবনগুলো কেঁপে ওঠার সেই ভয়াবহ মুহূর্তের বর্ণনা দিয়েছেন বাসিন্দারা। পূর্ব কারাকাসের বাসিন্দা ৫৬ বছর বয়সি করো মার্টিনেজ বলেন, “খুব জোরে একটা শব্দ হল। ঘরের ভেতরে জিনিসপত্র, ফ্রিজের ভেতরের জগগুলো পড়ে গেল। আমি জীবনে এরকম দেখিনি।”
The moment a 7.1-magnitude earthquake struck Caracas, Venezuela, causing swimming pool water to flow down from a high-rise building. pic.twitter.com/86yLolDeTX
— Weather Monitor (@WeatherMonitors) June 24, 2026
সেই ১৯৬৭ সালে মারাত্মক ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত হয়েছিল ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস৷ ৮০ বছর বয়সি পেনশনভোগী মারিয়া রোমেরো বলেন, “এই ভূমিকম্পটা আরও ভয়াবহ ছিল, এমনকি ১৯৬৭ সালের চেয়েও খারাপ।”
কম্পনের সময় আতঙ্কিত বাসিন্দারা পোষা প্রাণীসহ বিল্ডিং থেকে দ্রুত বেরিয়ে এসে রাস্তায় জড়ো হন। প্রাথমিক ভাবে ছড়ায় সুনামি আতঙ্কও৷ পরে অবশ্য মার্কিন সুনামি সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, সুনামির কোনও আশঙ্কা নেই৷ ফলে পুয়ের্তো রিকো ও ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জের মতো এলাকায় সম্ভাব্য বিপজ্জনক ঢেউয়ের বিষয়ে জারি করা সতর্কবার্তা প্রত্যাহার করা হয়৷
ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো তাঁর অফিসিয়াল টেলিগ্রাম চ্যানেলে বুধবারের প্রাণঘাতী ভূমিকম্পের পর ভেনিজুয়েলার জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে একটি বার্তা দিয়েছেন।
মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস দে মাদুরোর পক্ষ থেকে জারি করা বার্তায় বলা হয়েছে, “আজকের বার্তা একটাই: সর্বোচ্চ স্তরের ঐক্য, সর্বোচ্চ সংহতি এবং সর্বাধিক পদক্ষেপ।”
টেলিগ্রাম পোস্টে মাদুরো জানান, “কেউ যেন একা না থাকে, প্রতিটি সম্প্রদায় যেন তাদের সন্তান, ঠাকুরদা-ঠাকুরমা ও অসুস্থদের যত্ন নেয়৷” উদ্ধারকারী ও চিকিৎসা দলের কাজে সাহায্য করার প্রতিও বার্তা দেন তিনি। পোস্টে আরও বলা হয়, “ভেনেজুয়েলা অনেক বড় পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছে, এবং বিশ্বাস, শৃঙ্খলা ও সংহতির মাধ্যমে আমরা এবারও আরও শক্তিশালী হয়ে বেরিয়ে আসব।”