NEET CJP Protest : নিট-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের আন্দোলন নিয়ে প্রবল চাপের মুখে পদত্যাগ করেছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। সোশ্য়াল মিডিয়া পোস্ট নিজের পদত্যাগের কারণ হিসেব তিনি বলছেন, ‘গত ১০দিনের ঘটনাক্রম দেখে আমার মন ভারাক্রান্ত। আমি দেশের যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষা, অনুভূতি এবং তাদের ন্যায্য প্রত্যাশার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।’ যদিও প্রধানের এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসতেই মুখ খুলেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু।
শিক্ষামন্ত্রী ইস্তফা কী বার্তা মোদির মন্ত্রীর
এদিন কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রীর ইস্তফার পরই মুখ খোলেন মোদির মন্ত্রিসভার এই হেভিওয়েট মিনিস্টার। ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সমর্থন করে তিনি বলেন, ”আপনি সত্যিকারের নেতার মতো নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিগত বছরগুলি ধরে আপনার অবিরাম গণ পরিষেবা চালিয়ে যাওয়ার জন্য অশেষ ধন্যবাদ।”
সোশ্যাল পোস্টে কী বলেছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান
ধর্মেন্দ্র প্রধান লিখলেন, ৩ মে ২০২৬ অনুষ্ঠিত NEET-UG পরীক্ষায় যে অনিয়ম সামনে আসে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। ভারত সরকার তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে তদন্তের দায়িত্ব সিবিআই-এর হাতে তুলে দেয় এবং পরীক্ষাটি বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করে। একই সঙ্গে আগামী বছর থেকে এই পরীক্ষা সিবিটি (Computer-Based Test) পদ্ধতিতে নেওয়ার সিদ্ধান্তও গ্রহণ করা হয়। তিনি উল্লেখ করেন, প্রথম দিন থেকেই তিনিএই ঘটনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং এই পরিস্থিতি থেকে কখনও নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখেননি। তাঁর সংকল্প ছিল, কোনও মেধাবী শিক্ষার্থীর সম্ভাবনা যেন পরীক্ষা মাফিয়ার কারণে নষ্ট না হয় এবং কোনো শিক্ষার্থীর সঙ্গে যেন অন্যায় না হয়।
আরও লিখলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী
পদত্যাগী শিক্ষামন্ত্রী আরও লিখলেন, ‘ দেশের যুবশক্তিকে কোনও ষড়যন্ত্রের চক্রব্যূহে জড়াতে দেব না—এটাই আমার সংকল্প। যন্তর-মন্তরে এবং দেশের যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, সেই পরিস্থিতির সুযোগ যেন রাষ্ট্রবিরোধী শক্তিগুলি নিতে না পারে, দেশের ঐক্য অটুট থাকুক, ভারতের একজনও শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ যেন আইনি জটিলতায় না জড়ায়, আমাদের সন্তানরা যেন তাদের সময় পড়াশোনায় ব্যয় করে, নিজেদের কর্মজীবন গড়ার দিকে মনোযোগ দেয়—এই বিষয়গুলি বিবেচনা করে আমি আমার পদত্যাগপত্র মাননীয় প্রধানমন্ত্রীজির কাছে পাঠিয়েছি।’
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের ঘোষণার পরই শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে উল্লাস শুরু হয়ে যায়। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এই পদক্ষেপকে “গণতন্ত্রের বিজয়” বলেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কটাক্ষ করে বলেন, “সুবাহ গো গ্যায়া মামু। (সকাল হয়ে গেছে মামা)।”
আরও পড়ুন : কেন আন্দোলন এতটা বেড়ে যাওয়ার পর পদত্যাগ? ইস্তফাপত্রে যা লিখলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান