ট্রেড স্কিলসকে সম্মান দেওয়ার দরকার:
নাগেশ্বরন এই নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, ভারতে ট্রেড স্কিলস থাকা পেশাগুলোকে সেই সম্মান দেওয়া হয় না, যেটা তারা পাওয়ার যোগ্য। উনি বলেছেন, ওয়েল্ডার, প্লাম্বার, ইলেকট্রিশিয়ান আর অন্য টেকনিক্যাল কাজ করা লোকেরা যেকোনও অর্থনীতির মজবুত ভিত। সুইৎজারল্যান্ড, জার্মানি, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া আর চিনের মতো দেশের উদাহরণ দিয়ে উনি বলেছেন, এই দেশগুলোতে পেশাগত দক্ষতা থাকা লোকেদের অনেক সম্মান দেওয়া হয়। ভারতেও এই মানসিকতা বদলানোর দরকার, যাতে তরুণরা এই ক্ষেত্রগুলোকে কেরিয়ার অপশন হিসেবে নিতে উৎসাহিত হয়।
এইসব পেশা, যেগুলো AI সহজে বদলাতে পারবে না:
প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টার মতে, অনেক ক্ষেত্র আছে যেখানে মানবিক অনুভূতি আর ব্যক্তিগত যোগাযোগ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বয়স্কদের দেখাশোনা, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের কাউন্সেলিং, হাসপাতালগুলোতে সহায়ক পরিষেবা, খেলার শিক্ষা, রান্নার শিল্প আর অন্য পরিষেবা ক্ষেত্র এইরকম উদাহরণ, যেখানে মানুষের উপস্থিতি দরকার পড়বেই। উনি বলেছেন, AI যদিও অনেক টেকনিক্যাল কাজ সহজ করে দেবে, কিন্তু এই পেশাগুলোতে মানবিক স্পর্শের জায়গা নেওয়া ওর পক্ষে সহজ হবে না। এই কারণেই, এই ক্ষেত্রগুলোতে প্রশিক্ষিত আর যোগ্য লোকেদের চাহিদা ভবিষ্যতে বাড়তে পারে।
রোজগার আর রোজগারযোগ্যতা দুইটার দিকেই দিতে হবে খেয়াল:
নাগেশ্বরন বললেন, ভারত যেমন বড় দেশ, ওখানে শুধু বেকারত্বের চ্যালেঞ্জ না, বরং রোজগারযোগ্যতা মানে লোকজনকে কাজের জন্য তৈরি করার চ্যালেঞ্জও ঠিক ততটাই বড়। ওনার মতে, শুধু চাকরি তৈরি করলেই হবে না, বরং তরুণদের ওই চাকরিগুলোর জন্য দরকারি স্কিলও শেখাতে হবে। উনি বললেন, দুনিয়ার অর্থনীতি এখন বেশি পুঁজি-ভিত্তিক হয়ে যাচ্ছে, যেখানে অনেক ইন্ডাস্ট্রি কম লোককে চাকরি দিতে পারে। তাই শ্রম-নির্ভর ইন্ডাস্ট্রি আর সার্ভিসের উন্নয়নের দিকে বিশেষ খেয়াল দেওয়া দরকার।
ম্যনুফ্যাকচারিং আর সার্ভিস সেক্টরে আছে বড় সুযোগ:
উনি ভারতকে নিজের ম্যানুফ্যাকচারিং ক্যাপাসিটি শক্তিশালী করার পরামর্শও দিলেন। ওনার বিশ্বাস, গ্লোবাল ইকনমি এখন আর আগের মতো খোলা নেই আর অনেক দেশ আত্মনির্ভরতার দিকে এগোচ্ছে। এই অবস্থায় ভারতকেও অনেক প্রডাক্ট নিজে বানাতে হবে। তবে এর পাশাপাশি শ্রম-নির্ভর ইন্ডাস্ট্রি আর সার্ভিস সেক্টরেও বড় সম্ভাবনা আছে। যদি এই সেক্টরগুলোতে ঠিকমতো ট্রেনিং আর স্কিল ডেভেলপমেন্টের দিকে খেয়াল দেওয়া যায়, তাহলে লাখ লাখ তরুণ চাকরির সুযোগ পেতে পারে। এতে শুধু রোজগার বাড়বে না, দেশের আর্থিক উন্নতিও দ্রুত হবে।
ভবিষ্যতের সাফল্যের নতুন ফর্মুলা:
নাগেশ্বরন-এর বার্তা স্পষ্ট যে, আগামী বছরে শুধু ডিগ্রি অর্জন করলেই চলবে না। তরুণদেরকে ব্যবহারিক দক্ষতা, যোগাযোগের ক্ষমতা, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা আর মানবিক বোঝাপড়ার মতো গুণের ওপরও কাজ করতে হবে। ওনার বিশ্বাস, গ্লোবালাইজেশনের সময়ে সফটওয়্যার আর MBA শিক্ষা ভারতকে অনেক উপকার করেছিল, কিন্তু এখন সময় বদলাচ্ছে। AI-এর বাড়তে থাকা প্রভাবের মধ্যে, তারাই বেশি সুযোগ পাবে, যাদের কাছে এমন দক্ষতা থাকবে, যেগুলো মেশিন সহজে নকল করতে পারবে না। তাই ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নিতে ট্রেড স্কিলস আর সফট স্কিলস শেখা আজকের সবচেয়ে বড় দরকার হয়ে উঠছে।