কলকাতা: আচমকাই হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল তাঁকে। দেখতে ছুটে গিয়েছিলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর চিকিৎসার যাবতীয় খুঁটিনাটির খোঁজ নিয়েছিলেন। যদিও মিঠুন চক্রবর্তীর হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকার ছবি দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিল তাঁর ভক্তকূল।
অবশেষে হাসপাতাল থেকে ছুটি পেলেন বিজেপি নেতা ও কিংবদন্তি অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। পিয়ারলেস হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। শনিবার ছেড়ে দেওয়া হল তাঁকে।
ঠিক কী হয়েছিল মিঠুনের? তাঁর হাতে একটা পুরনো চোট রয়েছে। সেখানেই নতুন করে সমস্যা দেখা দিয়েছিল। অস্ত্রোপচার করে তাঁর হাতে প্লেট বসানো হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছে, এখন সুস্থ রয়েছেন তিনি।
বছর দুয়েক আগে পড়ে গিয়ে মিঠুন চক্রবর্তীর ডান হাতে চিড় ধরেছিল। তখন বেঙ্গালুরুর হাসপাতালে অস্ত্রোপচার হয় তাঁর। পরে ফের হাতে যন্ত্রণা শুরু হওয়ায় কলকাতার পিয়ারলেস হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। শুক্রবার হাসপাতালে গিয়ে মিঠুন চক্রবর্তীকে দেখে আসেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মিঠুনের চোট পাওয়া হাতেই নতুন করে যন্ত্রণা শুরু হয়। চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন। সেই মতো অস্ত্রোপচার করে প্লেট বসানো হয়েছে মিঠুনের হাতে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচার সফল। দ্রুতই সেরে উঠবেন বিখ্যাত অভিনেতা।
হাসপাতালে মিঠুনকে দেখতে গিয়েছিলেন অভিনেতা ও সাংসদ দেব অধিকারী। সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ারও করেন। দেব লেখেন, ‘মিঠুন চক্রবর্তীকে বাবার মতো করেই দেখে এসেছি। তাঁর আরোগ্যকামনার পাশাপাশি, তিনি যা কিছু চান, সেই ইচ্ছে যেন পূরণ হয়।’
হাসপাতাল সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীর হাতে অস্ত্রোপচারটি হয়। অস্থিরোগ বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে ছিলেন তিনি। অভিনেতার চিকিৎসা করেছেন যাঁরা, তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তারপর মিঠুন চক্রবর্তীকে দেখতে কেবিনে পৌঁছন তিনি ।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রথম সরকারের প্রথম মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে সব সময় দরাজ সার্টিফিকেট দিয়ে এসেছেন মিঠুন চক্রবর্তী । ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির হয়ে জোরকদমে প্রচার করেছিলেন মিঠুন । মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরও মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী । বলেছিলেন,’ মিঠুনদা আমাকে বলেছিলেন, দেখা করতে চাই। আমি বললাম আপনি দেখা করবেন না, আপনার তৈরি করা মুখ্যমন্ত্রী আপনার কাছে আসবে ।’ এতটাই পারস্পরিক সৌহার্দ্য তাঁদের ।