Last Updated:
প্রশাসনের আশা, দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ হাতে পেলে উপভোক্তারা দ্রুত বাড়ির বাকি নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ করতে পারবেন।
কলকাতা: আগামিকাল ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের অর্থ বিতরণের আনুষ্ঠানিক সূচনা করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্ন সূত্রের খবর, প্রথম দফায় প্রায় ১০ লক্ষ উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দ্বিতীয় কিস্তির ৬০ হাজার টাকা সরাসরি পাঠানো হবে।
দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ ছাড়ের আগে উপভোক্তাদের তালিকা পুনরায় যাচাই করার নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই নির্দেশ অনুযায়ী বর্তমানে জোরকদমে চলছে যাচাই প্রক্রিয়া। এখনও পর্যন্ত যে সংখ্যক উপভোক্তার তথ্য যাচাই সম্পন্ন হয়েছে, তাঁদের মধ্যেই প্রায় ১০ লক্ষ উপভোক্তা আগামিকাল দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পাবেন বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর।
সূত্রের দাবি, যাচাই পর্বে ১২ হাজারেরও বেশি উপভোক্তার তালিকায় বিভিন্ন ধরনের গরমিল ধরা পড়েছে। সেই কারণে আপাতত তাঁদের দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ বিতরণের তালিকা থেকে বাদ রাখা হচ্ছে। যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর তাঁদের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নবান্ন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, মূলত যাঁরা প্রথম কিস্তির টাকা পেয়ে লিন্টেল স্তর পর্যন্ত বাড়ির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেছেন, তাঁরাই এই পর্যায়ে দ্বিতীয় কিস্তির ৬০ হাজার টাকা পাচ্ছেন।
প্রসঙ্গত, তৃণমূল জমানায় ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে বড় অনিয়মের অভিযোগ এসেছে। যাচাই পর্ব শুরু হতেই দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাতেই সব থেকে বেশি অযোগ্য উপভোক্তাদের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনাতেই সবচেয়ে বড় অনিয়মের অভিযোগ। এই জেলায় এখনও পর্যন্ত প্রায় ১০,৫০০ জন অযোগ্য উপভোক্তা চিহ্নিত হয়েছেন, যা রাজ্যের এখনও পর্যন্ত মোট অভিযোগের প্রায় ৭০ শতাংশেরও বেশি। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বেশিরভাগই অভিযোগ ফলতা ও ডায়মন্ড হারবার ব্লক থেকেই বলে জানা গিয়েছে।
রাজ্যজুড়ে এখনও পর্যন্ত প্রায় ১৩ হাজার জন অযোগ্য উপভোক্তা চিহ্নিত হয়েছেন বলে নবান্ন সূত্রে খবর। অভিযোগ, বাড়ি থাকার পরেও বহু ব্যক্তি ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের সরকারি অনুদান পেয়েছেন। এমনকি, যাচাই পর্বে দেখা গিয়েছে পাকা বাড়ি রয়েছে তারপরও তারা ‘বাংলার বাড়ি’ পেয়েছেন। অযোগ্য উপভোক্তাদের থেকে ইতিমধ্যেই ১১টি জেলায় টাকা ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
Kolkata,West Bengal
