বুধবার লখনউয়ে এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, “এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হল নির্বাচনী সংস্কার এবং প্রশাসনিক কার্যকারিতা বৃদ্ধি। তাঁর দাবি, ঘন ঘন নির্বাচন হওয়ায় বারবার আদর্শ আচরণবিধি (Model Code of Conduct) জারি হয়, যার ফলে উন্নয়নমূলক কাজ, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হয়। পাশাপাশি সরকারি যন্ত্রের একটি বড় অংশ দীর্ঘ সময় নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত থাকায় শাসন ব্যবস্থাতেও প্রভাব পড়ে”।
চৌধুরী জানান, ভারতে একসঙ্গে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন নতুন কোনও ধারণা নয়। ১৯৫২ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত দেশজুড়ে এই পদ্ধতিতেই ভোটগ্রহণ হয়েছিল। পরে বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভা আগাম ভেঙে যাওয়া, রাষ্ট্রপতি শাসন জারি এবং নতুন রাজ্য গঠনের মতো নানা কারণে সেই নির্বাচনী চক্র ভেঙে যায়।
‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ প্রস্তাব নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, “অতীতে একযোগে নির্বাচন হওয়া সত্ত্বেও দেশের গণতান্ত্রিক বা যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর কোনও ক্ষতি হয়নি। ভোটারদের বিভ্রান্তির আশঙ্কাও ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেন তিনি”।
বিজেপি সাংসদের দাবি, এই প্রস্তাব ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশন, আইন কমিশন, সংবিধানের কার্যকারিতা পর্যালোচনা কমিশন, সংসদীয় স্থায়ী কমিটি এবং নীতি আয়োগ-সহ একাধিক প্রতিষ্ঠান ও বিশেষজ্ঞ মহলের সমর্থন পেয়েছে। এছাড়া প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের নেতৃত্বাধীন উচ্চপর্যায়ের কমিটিও বিস্তৃত পরামর্শের ভিত্তিতে একসঙ্গে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন আয়োজনের সুপারিশ করেছে।
তিনি আরও জানান, এই সংক্রান্ত বিলে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদন মিলেছে। পরে বিলগুলি সংসদে পেশ করা হয় এবং বিস্তারিত পর্যালোচনার জন্য যৌথ সংসদীয় কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে।
চৌধুরীর বক্তব্য, কমিটি ইতিমধ্যেই উত্তরাখণ্ড, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, হিমাচল প্রদেশ, কর্ণাটক, গুজরাট, গোয়া এবং উত্তরপ্রদেশ-সহ প্রায় ১০টি রাজ্য সফর করেছে। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, বিধানসভার স্পিকার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, আইন বিশেষজ্ঞ এবং অন্যান্য অংশীজনদের মতামত নেওয়া হয়েছে।
তিনি স্পষ্ট করেন, এখনও পর্যন্ত কমিটি কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। সমস্ত মতামত, পরামর্শ এবং আপত্তি খতিয়ে দেখার পরই চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হবে।
একযোগে নির্বাচন আয়োজনের বাস্তব চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে পিপি চৌধুরী বলেন, পর্যাপ্ত প্রস্তুতির জন্য যদি নির্বাচন কমিশনকে প্রায় ছয় মাস সময় দেওয়া হয়, তবে আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সারা দেশে একই সঙ্গে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন পরিচালনা করা সম্ভব হবে।