Last Updated:
এ দিন দিল্লিতে বসেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেখলেন, তাঁর হাতে তৈরি করা দল কীভাবে ভেঙে খান খান হয়ে গেল৷
কলকাতার পর এবার দিল্লিতেও ভেঙে দু টুকরো হয়ে গেল তৃণমূল কংগ্রেস৷ লোকসভায় তৃণমূলের দুই তৃতীয়াংশের বেশি সাংসদই এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন৷ ফলে কলকাতা এবং দিল্লির জোড়া ধাক্কায় এবার নিজের দল এবং প্রতীকও মমতার হাতছাড়া হবে কি না, তা নিয়েই এখন চর্চা শুরু হয়েছে৷
বিধানসভায় তৃণমূলের দুই তৃতীয়াংশের বেশি বিধায়ক ইতিমধ্যেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবিরে নাম লিখিয়েছেন৷ সংখ্যাটা ইতিমধ্যেই ৬০ ছাড়িয়ে গিয়েছে৷ বিধানসভার পর এবার লোকসভার দুই তৃতীয়াংশের বেশি সাংসদও বিদ্রোহ ঘোষণা করলেন৷ লোকসভায় তৃণমূলের ২৮ জন সাংসদ ছিলেন৷ তাঁদের মধ্যে অন্তত ২০ থেকে ২২ জন সাংসদ বিদ্রোহী শিবিরে এককাট্টা হয়েছেন৷
বিধানসভা, লোকসভার পর এবার রাজ্যসভার দুই তৃতীয়াংশ তৃণমূল সাংসদও যদি বিদ্রোহী হন, তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চাপ আরও বাড়বে৷ কারণ নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী, বিধানসভা, লোকসভা, রাজ্যসভা এবং পুরসভা ও পঞ্চায়েত স্তরে তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের সিংহভাগই যদি বিদ্রোহী শিবিরকে সমর্থন করেন, তাহলে বিক্ষুব্ধরা নির্বাচন কমিশনের কাছে তৃণমূল দলের নাম এবং প্রতীকের দাবি জানাতে পারেন৷ একই সঙ্গে দলের পদাধিকারীদের সমর্থনও বিদ্রোহীদের দিকেই থাকতে হবে৷
বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সম্ভাবনাই প্রবল বলে মত রাজনৈতিক মহলের৷ সেক্ষেত্রে দল এবং প্রতীক বাঁচাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মরিয়া হয়ে কী পদক্ষেপ করেন, তা নিয়েও জাতীয় রাজনীতিতে কৌতূহল তৈরি হয়েছে৷
লোকসভার বিদ্রোহী সাংসদরা জানিয়েছেন, আদি তৃণমূলের থেকে সংসদে তাঁরা নিজেদের আলাদা করছেন৷ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের দাবি, দেশ এবং বাংলার স্বার্থে আগামী তিন বছর তাঁরা এনডিএ-র সঙ্গে থাকতে চাইছেন৷ আবার বিরোধী দলনেতা হওয়ার পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, তাঁরা বিধানসভায় বিজেপি-র বিরুদ্ধে সুর চড়াবেন৷ রাজ্য সরকারের গঠনমূলক সমালোচনাও করবেন৷ শুধু তাই নয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই তাঁদের প্রধান পরামর্শদাতা হওয়ারও অনুরোধ করেছিলেন ঋতব্রত৷ তবে লোকসভায় সাংসদদের বিদ্রোহের পর তাঁদের সঙ্গে তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়কদের বৈঠক হলে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার৷
একদিকে যখন দল ভাঙছে, তখন মমতার পুরনো অনুগত নেতারাও একে একে তৃণমূলনেত্রীর থেকে মুখ ফেরাচ্ছেন৷ এ দিনই বিধানসভায় গিয়ে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেছেন মমতার অন্যতম আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত ফিরহাদ হাকিম৷ আবার তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হয়ে দলের নতুন রাজ্য সভাপতি নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দলের বর্ষীয়ান বিধায়ক অশোক দেব৷
Kolkata,West Bengal
