Last Updated:
East Bardhaman Snake Bite: মাঝরাতে আচমকাই চিৎকার করে উঠেছিলেন ঘরের কর্ত্রী। কালবিলম্ব না করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে গেল। বুধবার দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
কালনা, পূর্ব বর্ধমান, বনোয়ারীলাল চৌধুরী: দিনভর সংসারের কাজ সামলে রাতের খাবার খেয়ে স্বামী ও ছোট মেয়েকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন সুভদ্রা দাস। হয়ত ভেবেছিলেন, আর পাঁচটা দিনের মতোই কেটে যাবে রাতটা। কিন্তু কে জানত, সেই রাতই হয়ে উঠবে তাঁর জীবনের শেষ রাত! পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনা থানার অকালপোষ এলাকার বাসিন্দা সুভদ্রা দাসের মৃত্যু হয় সাপের কামড়ে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় সাপের ছোবলের শিকার হন তিনি।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গরমের কারণে বাড়ির মাটিতেই স্বামী কালিপদ দাস, তাঁদের ছোট মেয়ে এবং সুভদ্রা তিনজন পাশাপাশি শুয়ে ছিলেন। রাত গভীর হলে আচমকাই সুভদ্রা চিৎকার করে ওঠেন, ‘সাপ! সাপ!’। ঘুম ভেঙে যায় পরিবারের অন্য সদস্যদের। তখনও কেউ বুঝে উঠতে পারেননি ঠিক কী ঘটেছে। তবে সুভদ্রা জানিয়েছিলেন, তাঁর পায়ে কিছু একটা কামড়েছে। মুহূর্তের মধ্যেই বাড়িতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারের লোকজন দ্রুত একটি গাড়ির ব্যবস্থা করে তাঁকে নিয়ে ছুটে যান কালনা মহকুমা হাসপাতালে। চিকিৎসকরা তাঁকে বাঁচানোর জন্য চেষ্টা চালালেও শেষরক্ষা হয়নি। কিছু সময় চিকিৎসার পর হাসপাতালেই মৃত্যু হয় সুভদ্রা দাসের।
প্রতিবেশীরা জানান, সুভদ্রা ছিলেন অত্যন্ত শান্ত ও সংসারী মহিলা। হঠাৎ এই মৃত্যু কেউই মেনে নিতে পারছেন না। একদিকে স্বামীর মাথা থেকে সরে গেল সঙ্গিনীর ছায়া, অন্যদিকে ছোট মেয়েটি হারাল তার মাকে। মঙ্গলবার রাতের সেই কয়েকটি মুহূর্তে একটি সুখী পরিবারের জীবন যেন ওলটপালট হয়ে গেল। বুধবার কালনা মহকুমা হাসপাতালে মৃতদেহের ময়নাতদন্ত হওয়ার কথা রয়েছে। গ্রামের মানুষের একটাই আক্ষেপ যদি সময়টা আরেকটু সহায় হত, যদি বিষ শরীরে এত দ্রুত ছড়িয়ে না পড়ত, তাহলে হয়ত আজও পরিবারের পাশে বেঁচে থাকতেন সুভদ্রা দাস। কিন্তু সব যদিকে পিছনে ফেলে তিনি এখন শুধুই স্মৃতি। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ অকালপোষ এলাকা।
Barddhaman (Bardhaman),Barddhaman,West Bengal
