Last Updated:
East Bardhaman Loan Default: পূর্ব বর্ধমানের এক তাঁত ব্যবসায়ীর জীবনে নেমে এসেছে চরম আর্থিক সংকটের ছায়া। ব্যবসায় মন্দা ও ঋণের কিস্তি শোধ করতে না পারায় শেষ পর্যন্ত নিজের একমাত্র বসতবাড়ির দখল হারাতে হয়েছে তাঁকে। ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে এবং তাঁত শিল্পের বর্তমান দুরবস্থার দিকটিও সামনে এনে দিয়েছে।
কালনা, পূর্ব বর্ধমান, বনোয়ারীলাল চৌধুরী: এক সময় তাঁতের শব্দেই মুখর থাকত সংসার। সেই তাঁত ব্যবসার ওপর ভরসা করেই চলত পরিবারের খরচ, সন্তানের ভবিষ্যৎ আর জীবনের হাজারো স্বপ্ন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসায় মন্দা নেমে আসে। অর্ডার কমতে থাকে, আয় কমে যায়। আর সেই আর্থিক সংকটের জালেই শেষ পর্যন্ত নিজের মাথা গোঁজার একমাত্র ঠাঁইটুকুও হারাতে হল এক তাঁত ব্যবসায়ীকে। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনা ১ ব্লকের ধাত্রীগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের বেলকুলি গ্রামে। সূত্র মারফৎ জানা গিয়েছে, গ্রামের বাসিন্দা সাগর মণ্ডল ২০২১ সালে ব্যবসা ও পারিবারিক প্রয়োজনে লোন নিয়েছিলেন।
নিজের একমাত্র বসতবাড়ি বন্ধক রেখে আধার ফাইনান্স কোম্পানি লিমিটেডের কাছ থেকে ২ লক্ষ ৬৯ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। শুরুতে তিনি নিয়মিত কিস্তি পরিশোধও করেন। কিন্তু তাঁত শিল্পে মন্দা, বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি এবং আর্থিক অনিশ্চয়তার কারণে ধীরে ধীরে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা তাঁর পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে বকেয়া ঋণের পরিমাণ ক্রমশ বাড়তে থাকে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সুদ-সহ ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ৪ লক্ষ ১০ হাজার ৯৫৫ টাকা। ঋণের টাকা দীর্ঘদিন অনাদায়ী থাকায় সংশ্লিষ্ট আর্থিক সংস্থা আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে। সমস্ত প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বাড়ির দখল নেওয়ার অনুমতি পায় সংস্থাটি।
শুক্রবার সংস্থার প্রতিনিধিরা সরকারি আধিকারিক ও পুলিশ প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে সাগর মণ্ডলের বাড়িতে পৌঁছন। এরপর বাড়ির ভেতরে থাকা আসবাবপত্র, গৃহস্থালির সামগ্রী ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বাইরে বের করে দেওয়া হয়। বাড়ির মূল গেটে সিল মেরে দেওয়া হয় এবং সেখানে দখল সংক্রান্ত নোটিশ টাঙিয়ে দেওয়া হয়। চোখের সামনে নিজের বাড়ির দখল চলে যেতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন সাগর মণ্ডল ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। বাড়ির বাইরে বসে অসহায়ভাবে চোখের জল ফেলতে দেখা যায় তাঁদের। প্রতিবেশীদের অনেকেই সেই দৃশ্য দেখে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। সাগর মণ্ডল বলেন, “আমি কোনওদিন ভাবিনি এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।
ব্যবসার অবস্থা খারাপ হয়ে যাওয়ায় ধীরে ধীরে ঋণের বোঝা বেড়ে যায়। চেষ্টা করেছি টাকা শোধ করার, কিন্তু পারিনি। আজ আমার পরিবারের মাথার ওপর থেকে ছাদটুকুও চলে গেল। এখন স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে কোথায় থাকব, কীভাবে বাঁচব, কিছুই বুঝতে পারছি না।” তিনি আরও বলেন, “যদি কোনও সহৃদয় ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আলোচনার মাধ্যমে কোনও সমাধানের রাস্তা বের করা যায়, তাহলে হয়ত একটি পরিবার নতুন করে বাঁচার সুযোগ পাবে।” এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, আর্থিক সংকট ও ঋণের চাপে বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আজ বিপর্যস্ত অবস্থার মধ্যে রয়েছেন। সাগর মণ্ডলের পরিবারের এই পরিণতি সেই কঠিন বাস্তবতার এক মর্মস্পর্শী উদাহরণ হয়ে সামনে এল।
Barddhaman (Bardhaman),Barddhaman,West Bengal
Loan Default: ব্যবসার কাজে লোন নিয়ে ডুবে গেলেন তাঁতি, মাথা গোঁজার ঠাঁই কাড়ল ফাইন্যান্স কোম্পানি! সব হারিয়ে রাস্তায় অসহায় পরিবার
