Last Updated:
তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদাম ভেঙে পড়ার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭ হয়েছে, আহত রয়েছেন ২৯ জন। ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছেন শম্ভুনাথ বেহরা, আর কলকাতার সমস্ত বাণিজ্যিক নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
কলকাতাঃ তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদাম ভেঙে পড়ার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৭। এসএসকেএম ট্রমা সেন্টারের বাইরে থাকা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাতে আরও এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে তাঁর মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার সকালে আরও একজন আহতকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে আহতের সংখ্যা ২৯। পাশাপাশি, ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও একজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
জানা গিয়েছে, তারাতলায় বন্দর কর্তৃপক্ষের লিজ নেওয়া জমিতে গুদাম তৈরির কাজ চলছিল। বেহরা ব্রাদার্সের নামে জমিটির লিজ নেওয়া হয়েছিল। প্রবল বৃষ্টির জেরে মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় নির্মীয়মাণ কাঠামোটি ভেঙে পড়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিক অনুমান।
এই দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতা পুরসভা এলাকার সমস্ত বাণিজ্যিক নির্মাণের কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, প্রাথমিক তদন্তে কলকাতা পুরসভার তরফে জানানো হয়েছে যে নির্মীয়মাণ গুদামটির নকশাতেই ত্রুটি ছিল। তা সত্ত্বেও কীভাবে সেই নকশা অনুমোদন পেল, তা খতিয়ে দেখা হবে। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি কলকাতা পুরসভা থেকে ওই নকশা অনুমোদন করা হয়েছিল।
ঘটনার তদন্তে গ্রেফতার করা হয়েছে শম্ভুনাথ বেহরাকে। তাঁকে তারাতলা থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। তদন্তকারীরা প্রথমে শম্ভুনাথ বেহরার মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন পরীক্ষা করে দেখেন, বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে তাঁর অবস্থান জেমস লং সরণির মানি টাওয়ারে দেখাচ্ছিল। মোবাইল ফোনেও রিং হচ্ছিল।
পুলিশ পরে মানি টাওয়ারে গিয়ে জানতে পারে, সেখানে অফিস-সহ মোট ছয়টি ফ্ল্যাট রয়েছে শম্ভুনাথ বেহরার। অফিসে তালা থাকলেও ফ্ল্যাটগুলিতে পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা পুলিশকে জানান, শম্ভুনাথ বেহরা কোথায় রয়েছেন, সে সম্পর্কে তাঁদের কোনও তথ্য নেই। যদিও পুলিশ নিশ্চিত ছিল যে তিনি ফ্ল্যাট ছেড়ে কোথাও যাননি। পরে দেখা যায়, পার্কিং লটে শম্ভুনাথ বেহরার সমস্ত গাড়িই রয়েছে। এরপর তিন জন ড্রাইভারকে ডেকে পাঠিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ।
Kolkata,West Bengal
