কলকাতা: ভারতের চাকরিজীবীদের জন্য এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড বা EPF শুধু অবসরকালীন সঞ্চয়ের প্রকল্প নয়। এর সঙ্গে রয়েছে বিমার সুরক্ষাও। এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন (Employees’ Provident Fund Organisation) বা EPFO পরিচালিত এই প্রকল্পে কর্মী ও নিয়োগকর্তা প্রতি মাসে নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ জমা করেন। এর উপর প্রতি বছর সুদ দিয়ে থাকে সরকার। যা ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় তহবিল তৈরি করে। সম্প্রতি EPFO 3.0 সংস্কারের মাধ্যমে পরিষেবাগুলিকে আরও ডিজিটাল ও সহজ করা হয়েছে, ফলে PF সংক্রান্ত কাজ এবং দাবি নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াও দ্রুত হচ্ছে।
আরও পড়ুন: রথের আগেই দেড় হাজারের বেশি দাম কমল সোনার, অনেকটা কমেছে রুপোর দামও
তবে অনেক কর্মীই জানেন না, EPF সদস্যদের জন্য এমপ্লয়িজ ডিপোজিট লিঙ্কড ইনসিওরেন্স বা EDLI প্রকল্পের আওতায় অতিরিক্ত কোনও প্রিমিয়াম ছাড়াই সর্বোচ্চ ৭ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জীবনবিমার সুবিধা রয়েছে। এই কভারেজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সক্রিয় হয় এবং এর জন্য কর্মীকে আলাদা করে কোনও আবেদন করতে হয় না বা অর্থ জমা দিতে হয় না।
EPFO-র নিয়ম অনুযায়ী, কর্মরত অবস্থায় কোনও EPF সদস্যের মৃত্যু হলে তাঁর মনোনীত ব্যক্তি বা পরিবারের সদস্যরা এই বিমার অর্থ দাবি করতে পারেন। বর্তমান নিয়মে ন্যূনতম ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পাওয়া সম্ভব। ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় কর্মীর বেতন এবং প্রভিডেন্ট ফান্ড অ্যাকাউন্টে জমা অর্থের ভিত্তিতে।
EDLI প্রকল্পে কর্মীদের কোনও অর্থ দিতে হয় না। পরিবর্তে নিয়োগকর্তা কর্মীর বেতনের ০.৫ শতাংশ এই বিমা তহবিলে জমা করেন। EPFO-র দাবি, প্রয়োজনীয় নথি জমা পড়লে সাধারণত ২০ দিনের মধ্যেই এই দাবি নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়, যাতে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত আর্থিক সহায়তা পান।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, চাকরিজীবীদের নিয়মিত EPF অ্যাকাউন্ট, UAN এবং নমিনির তথ্য আপডেট রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এই তথ্য সঠিক থাকলে প্রয়োজনে বিমার অর্থ দ্রুত পাওয়া সহজ হয়। ফলে EPF শুধুমাত্র অবসরকালীন সঞ্চয় নয়, পরিবারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সুরক্ষাও প্রদান করে।