Last Updated:
রাজ্যে শীঘ্রই চালু হতে চলেছে ‘কৃষকবন্ধু নিউ’ প্রকল্প। এই প্রকল্পে কী কী সুবিধা মিলবে, কারা আবেদন করতে পারবেন, কীভাবে আবেদন করবেন এবং কোন কোন নথি লাগবে—জেনে নিন বিস্তারিত।
বাঁকুড়া, নীলাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়: রাজ্যের কৃষকদের জন্য চালু হতে চলেছে ‘কৃষকবন্ধু নিউ’ প্রকল্প। জুলাই মাসের মধ্যেই নতুন আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল। পুরনো কৃষকবন্ধু প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের তালিকা পুনর্বিবেচনা করে প্রায় ৩০ লক্ষ নাম বাদ যেতে পারে। নতুন করে যোগ্য কৃষকদের তালিকা তৈরির জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে আবেদনপত্র দেওয়া হবে। একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে আলাদা করে আবেদন করতে হবে না বলেও জানানো হয়েছে।
বাঁকুড়ার মত কৃষিনির্ভর জেলার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন কৃষি মহলের একাংশ। জেলার বড় অংশের মানুষ চাষবাসের উপর নির্ভরশীল। অনিয়মিত বর্ষা, ফসলের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং বাজারদরের ওঠানামার মধ্যে সরকারি আর্থিক সহায়তা কৃষকদের অনেকটাই ভরসা জোগায়। নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের চিহ্নিত করে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া গেলে জেলার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিরা সরাসরি উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডলের বৈঠকে কৃষকদের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধার আওতায় আনার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে কেন্দ্রের পিএম-কিষাণ প্রকল্প-সহ অন্যান্য কৃষি সহায়তা প্রকল্পের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কীভাবে আরও বেশি সংখ্যক প্রকৃত কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করা যায়, তা নিয়েই পরিকল্পনা চলছে। সেই লক্ষ্যেই পুরনো তালিকা যাচাই করে নতুন তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
জেলার কৃষকদের মতে, যদি স্বচ্ছতার সঙ্গে আবেদন গ্রহণ ও যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়, তবে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা সরকারি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে যাঁদের নাম পুরনো তালিকা থেকে বাদ পড়বে, তাঁদের মধ্যে যাতে যোগ্য কোনও কৃষক বঞ্চিত না হন, সেদিকেও প্রশাসনকে নজর দিতে হবে। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, বাঁকুড়ার আর্থসামাজিক বাস্তবতায় কৃষকবন্ধু নিউ প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে তা শুধু কৃষকদের আর্থিক নিরাপত্তাই বাড়াবে না, জেলার কৃষি অর্থনীতিকেও আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
Kolkata,West Bengal
