কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের আরও অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ। তৃণমূলের আরও অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করল বিধাননগর সাইবার পুলিশ। মূলত, জয়নগরের তৃণমূল বিধায়ক বিশ্বনাথ দাসের করা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছিল পুলিশ। ব্যাঙ্কের কাছ থেকে লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য ইতিমধ্যেই সংগ্রহ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই আখরুজ্জামানদের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। আর এবার সেই মামলাতেই আরও অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের নির্দেশ বিধাননগর সাইবার পুলিশের।
আরও পড়ুন, বারুইপুরকাণ্ডে নিহতের বাড়ি যাবেন মুখ্যমন্ত্রী, মৃতের পরিবারের নিরপত্তায় বসানো হচ্ছে সিসিটিভি
ফ্রিজ় হওয়া ৩টি অ্যাকাউন্টের টাকা প্রয়োজে ব্যবহার করতে পারবে কালীঘাট তৃণমূল। করা যাবে আইনি খরচও। শর্তসাপেক্ষে অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। স্পেশাল অফিসার নিয়োগ করল আদালত। আপাতত তিনিই অ্যাকাউন্টগুলি পরিচালনা করবেন। হাইকোর্টের নির্দেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে SLP করবেন বলে জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা।ফ্রিজ হয়ে যাওয়া ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ে কিছুটা স্বস্তি দিলেও, খরচের ব্য়াপারে ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর হাত-পা বেঁধে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট করে দিলেন, দৈনন্দিন কাজ ও মামলার খরচের জন্য ৩টি অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা যাবে। তবে অ্যাকাউন্টগুলি পরিচালনার ভার ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর হাতে থাকবে না। সেগুলি পরিচালনা করার জন্য একজন স্পেশাল অফিসার নিয়োগ করছে আদালত। বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানিতে ‘ঋতব্রত তৃণমূল’-এর বিধায়ক বিশ্বনাথ দাসের আইনজীবী দাবি করেন, আমরাই আসল তৃণমূল কংগ্রেস। আমাদের অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করতে দেওয়া হোক।
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেন, কে আসল কে নকল সেটা বিচার করা আমার কাজ নয়। আপনি তৃণমূলের প্রতীক নিয়ে ভোট দাঁড়িয়েছিলেন, জিতেছেন, এই অ্যাকাউন্ট থেকেই আপনাকেও টাকা দেওয়া হয়েছিল। ৪ মে-র পর ডিগবাজি খেলেন। আপনি বর্তমান পরিস্থিতিতে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন। ৪ মে-র আগে মনে হয়নি, এই অ্যাকাউন্টে সমস্যা ছিল? বিচারপতি এদিন বলেন, ১৮ জুন সন্ধ্যা ৬ টায় অভিযোগ দায়ের হল, আর ১৯ জুন অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হয়ে গেল। মনে হচ্ছে যেন অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার জন্যই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আগে আমরা ৭ বিধায়কের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়েছি। ৩ জনের বক্তব্য রেকর্ড করেছি। পুলিশ ৭ টা কেন ৭০ টা অভিযোগ পেতে পারে। পদক্ষেপ করার আগে তো দেখতে হবে যে কী কী অপরাধমূলক তথ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। আমি ভাবছি যে, পুলিশ এত দ্রুত কাজ কেন করছে?একজন সাধারণ গরিব মানুষ যখন থানায় যায় তখন তো পুলিশের এই তৎপরতা দেখা যায় না। অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার সময় পুলিশের কাছে কী কী তথ্য প্রমাণ ছিল সেটা তো আদালত এখনও জানতে পারেনি।