ডানকুনি : “শুনে রাখুন আপনারা, ১০০ কোটি টাকার বেশি যারা বিনিয়োগ করবেন, কোনও পঞ্চায়েত-পুরসভা-কর্পোরেশন-জেলা পরিষদ-পঞ্চায়েত সমিতি থেকে অনুমতি নিতে হবে না।” ডানকুতিতে লাক্স কোজির ইউনিটের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে এমনই বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বললেন, “যত গন্ডগোল ওইখানে। যত দাদাগিরি ওইখানে। যত হেনস্থা ওইখানে। যারা ১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করবেন, তাঁদের সেন্ট্রালি সিঙ্গল উইন্ডো সিস্টেমে ডব্লুবিআইটিডিসি, এনভায়রনমেন্ট ডিপার্টমেন্ট, ল্যান্ড ডিপার্টমেন্ট আপনাদের NOC লাইসেন্স দেবে। আপনারা এখানে বিনিয়োগ করুন।”
পূর্বতন সরকারের আমলে রাজ্যে বহু শিক্ষিত বেকারের কর্মসংস্থানের যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে বারবার অভিযোগ উঠেছে। বিজেপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই কর্মসংস্থানেই নজর দিয়েছে। এদিন ডানকুনির অনুষ্ঠানমঞ্চ থেকে কর্মসংস্থান নিয়ে ত্রিস্তরীয় পরিকল্পনার কথা শোনালেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বললেন, “চারিদিকে কাজ চাই। ২ কোটির বেশি শিক্ষিত বেকার। ১ কোটি ছুঁইছুঁই পরিযায়ী শ্রমিক বাইরের রাজ্যে। সবাই কাজ চায়। আশা বেড়েছে। ভরসা বেড়েছে। গত বছর স্নাতকে যত ভর্তি হয়েছিল, এবারে তার থেকেও বেশি। আগে বাবা-মা-রা বলতেন এই তৃণমূল সরকার চাকরি দেবে না। তাই মাধ্যমিক পাশ করেছিস, উচ্চমাধ্যমিক, আর কলেজে বাবু যেতে হবে না। এত খরচ করতে পারব না। আমরা এবারের অ্যাডমিসনে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে অবাক হয়ে গেছি, হাজার হাজার ছাত্র অ্যাডমিসন নিয়েছে। অর্থাৎ অভিভাবকরা ভরসা করতে শুরু করেছেন যে উচ্চশিক্ষা নেওয়া দরকার। কারণ, বিজেপি সরকার এসেছে। কাজ পাবেন। কাজ হবে। সব সরকারি কাজ দিয়ে বেকারত্বের সমাধান করা যায় না। এই সরকার ত্রিস্তরীয় এমপ্লয়মেন্ট দিতে চায়। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ১ লক্ষ সরকারি চাকরি যেমন হবে, মেধা অনুয়ায়ী হবে। তার সঙ্গে বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা যত এই ধরনের তাঁদের প্ল্যান্ট সম্প্রসারণ করবেন, নিউ প্ল্যান্ট লাগাবেন, এই প্ল্যান্টকে কেন্দ্র করে অনুসারী শিল্প তৈরি হবে, তত বেশি করে আমাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হবে। তৃতীয়, অনেক ছেলে-মেয়েরা চায়, লিমিটেড আয়ের চাকরি করব না। ব্যবসা করব, পরিশ্রম করব। লোন নেব, লোন শোধ করব। তার মাধ্যমে অনেক টাকা রোজগার করব। তাই আমাদের সরকার …সরকার গ্যারান্টার থাকবে…অল্প সুদের লোন…আমরা দিয়ে এই রাজ্যে শুধু লাখপতি দিদি নয়, লক্ষ লক্ষ গুড বিজনেসম্যান তৈরি করার পরিকল্পনা নিয়েছি।”