কলকাতা: বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে কখনও হারেনি আর্জেন্তিনা (Argentina vs England)। সেই ১৯৩০ থেকে শুরু। যতবার শেষ চারে খেলেছে, নিদেনপক্ষে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। আর ম্যাচের প্রথমে পিছিয়ে থাকলেও, মেসি জিয়নকাঠির ছোঁয়ায় বেঁচে উঠল আর্জেন্তিনাও। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে উঠে গেল আর্জেন্টিনা। আজ মেসি ম্যাজিকের সেই ছোঁয়া, বাংলার বিনোদন দুনিয়াতেও। আর্জেন্টিনার জয় নিয়ে, দিব্য গান বাঁধলে শিলাজিৎ মজুমদার। নিজের মনের কথা লিখে, নীল সাদা সমর্থনের জোয়ারে ভাসলেন সাহানা বাজপেয়ী সহ একাধিক টলি তারকা।
নীল-সাদায় মজে বিনোদন দুনিয়া
সোশ্যাল মিডিয়ায় ম্যাচের ক্লিপিং যোগ করে করে, একটি ছোট্ট ভিডিও পোস্ট করেছেন শিলাজিৎ। আর সেই ভিডিওতেই বাজছে, মেসিকে নিয়ে বাঁধা তাঁর নতুন গান। কথাগুলি হল, ‘তুমি জানো না, বাংলা বোঝো না, তুমি বুঝবে না ভিনদেশী মেসি…তুমি বুঝলে বুঝতে বাংলা বলছে মেসি, তোমাকে ভালবাসি। তি আমো মেসি…’। সোশ্যাল মিডিয়ায় সঙ্গীতশিল্পী সাহানা বাজপেয়ী লিখেছেন, ‘কাল আর্জেন্টিনা সেকেন্ড হাফটা যেমন খেলেছে – ভগবান, জীবনের সেকেন্ড হাফটা যেন ঠিক তেমন খেলতে পারি – জিতি না জিতি।’ সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিনেতা ঋদ্ধি সেন লিখেছেন, ‘নিজেদের চুরির মিউজিয়ামে নিরাপদে ফিরে যেও! ধন্যবাদ, আর্জেন্টিনা। ধন্যবাদ, লিওনেল মেসি। তোমরা আবারও প্রমাণ করে দিলে—শুধু গোল করাই নয়, গোল করানোর ক্ষমতাই প্রকৃত নেতৃত্বের পরিচয়।’ অনির্বাণ ভট্টাচার্য্য ও মেসি-ভক্ত, নিয়মিত খেলায় চোখ রাখছেন তিনিও। সোশ্যাল মিডিয়ায় ফুটবল নিয়ে রিলের ছড়াছড়ি ইতিমধ্যেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিয়মিত খেলা নিয়ে পোস্ট করতে থাকেন, অভিনেত্রী অনিন্দিতা রায়চৌধুরী থেকে শুরু করে অনিন্দ্য, প্রত্যেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ফুটবল নিয়ে নিয়মিত পোস্ট করেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে মজার পোস্ট করেন, ওপার বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী পরি মণি ও।
মাঠে মেসি-ম্যাজিক
প্রথমটা পিছিয়ে থেকেও, সেমি ফাইনালে মেসি জিয়নকাঠির ছোঁয়ায় বেঁচে উঠল আর্জেন্তিনাও। এমনিতেই গোল হজম করার পর তেড়েফুঁড়ে খেলতে শুরু করেছিলেন লা আলবিসেলেস্তেরা। সেই ঝাঁঝ আরও বাড়ল। মনে হচ্ছিল, যে কোনও মুহূর্তে ফের গোল করে দিতে পারে তারা। সুযোগ বুঝে আর্জেন্তিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি প্রয়োগ করলেন তাঁর মোক্ষম অস্ত্র – লউতারো মার্তিনেজ়। স্পেনের মেরিনোকে সুপার সাব বলা হচ্ছে। পরিবর্ত হিসাবে নেমে গোল করে ম্যাচ জেতাচ্ছেন বলে। মার্তিনেজ়ও সুপার সাব হওয়ার দৌড়ে প্রতিদ্বন্দ্বী। ম্যাক অ্যালিস্টার বরং নিজের কপালকে দোষ দিতে পারেন। তাঁর দূরপাল্লার শট ফের পোস্টে লাগে। সেই বল থেকেই আক্রমণ মেসির। তাঁর মাপা ক্রস থেকে শরীর শূন্য়ে ভাসিয়ে দুরন্ত হেড লউতারোর। পিকফোর্ড কোনও সুযোগ পাননি। দ্বিতীয়ার্ধে সংযুক্ত সময়ের ২ মিনিট তখন। আর্জেন্তিনা এগিয়ে গেল ২-১। সেই স্কোরলাইনেই শেষ হল খেলা। পরপর দুই বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্তিনা। ট্রফির লড়াইয়ে স্পেনের সামনে তারা। যে ম্যাচ আবার গুরু-শিষ্যের লড়াই। একদিকে আদর্শ মেসি। অন্যদিকে ভক্ত লামিনে ইয়ামাল। বিশ্বকাপের ইতিহাসে তৃতীয় দেশ হিসাবে ট্রফি ধরে রাখার সুযোগ আর্জেন্তিনার সামনে। ইতিহাসের হাতছানি মেসির সামনে।