এদিন সভামঞ্চে উঠেই সভাস্থলের আশপাশের গাছে উঠে থাকা কর্মী সমর্থকদের নেমে আসতে বলেন অভিষেক৷ বক্তব্যের শুরুতেই ২১ জুলাই করতে দেওয়ার জন্য হাইকোর্টকে ধন্যবাদ জানান তিনি৷
অভিষেক বলেন, ‘‘যারা ২১শে জুলাই কর্মসূচি আটকাতে চেয়েছিল, সেই বিজেপি সরকার, অমিত শাহ, শুভেন্দু অধিকারী, কলকাতা পুলিশ ২১শে জুলাই আটকাতে পারলেন? আজ প্রমাণ হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিকল্প নেই। মেয়ো রোডে যা লোক হয়েছে তা গ্রামে মাটি কাটার সময় যা হয় তার থেকে কম। লোক কোথায়? যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে লোক। তৃণমূলের শিকড়ের নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’’
মেয়ো রোডে ২১ জুলাই পালন করছে ঋতব্রত গোষ্ঠী৷ সেখানে উপস্থিত মদন, অনুব্রত, ফিরহাদ, চন্দ্রিমা৷ তাঁদের দিকে কটাক্ষের সুরে অভিষেক বলেন, ‘‘অনেক বড় কেউকেটা হয়েছে। গদ্দারি, বেইমানি করে যদি ভাবে চমকাবে তা হয় না। পাঁচ ওয়াটের বাল্ব। সে নিজেকে হ্যালোজেন ভাবছে। কেউ যদি মা’কে ত্যাগ করে তাহলে সর্বশক্তিমান ক্ষমা করে না। মানুষের রায়ে জিতে থাকলে বিজেপির এত ভয় কেন?’’
অভিষেকের কটাক্ষ, ‘‘যারা ছেড়ে গেছেন, তাদের ফেরত নেবেন না অনুরোধ করব দিদিকে। মিথ্যা মামলা দিচ্ছেয জেলে পুরছে। এদের সরিয়ে ছাড়ব। বাড়ি ভাঙচুর করছে। কী করবে? ফুটপাতে থাকব। মেরুদণ্ডটা ফর সেল নয়৷ ’’
কর্মীদের উদ্দেশ্যে অভিষেকের বার্তা, ‘‘বলব ধৈর্য ধরুন৷ একটা ছোট নোটবুক পকেটে রাখবেন৷ সব লিখে রাখবেন এই নোটবুকগুলোয় এক এক করে৷ আমরা ঠিক টাইম মতো নিয়ে নেব৷ যারা যে ভাষা বোঝে, তাদের সেই ভাষায় জবাব দেওয়া হবে৷’’
অভিষেকের হুঙ্কার, ‘‘তৃণমূল কংগ্রেসকে ধমকে চমকে লাভ নেই। আমাকে এত কেস দিয়েছেন। এরপরেও যেদিন মারা যাব, সেদিন শশ্মানে নিয়ে যাওয়ার আগে আমার বুকে কান পাতলে জয় বাংলা শুনতে পাবেন৷’’
এদিনের মঞ্চ থেকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে বেনজির আক্রমণ করেন অভিষেক৷ বলেন, ‘‘ওদের তৃণমূল বলবেন না, বলবেন বালিশ চাটা। বলবেন BC….এর অনেক মানে হয়। আগামী দিনের লড়াইয়ের ময়দানে দেখা হবে। যারা নিজেদের পিঠ বাঁচাতে ওদিকে গেছে, আমরা সেই সমস্ত বিধানসভা কেন্দ্রে গিয়ে মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়ে আসব।’’
সদ্য তৃণমূল ত্যাগ করে এনসিপিআই-তে যোগ দিয়ে এনডিএ-কে সমর্থন করেছেন কাকলি ঘোষ দস্তি সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তাঁদের টার্গেট করে অভিষেক বলেন, ‘‘যাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতীক ও ছবি দেখিয়ে জিতেছেন তারা এখন NDA তে যাচ্ছেন। মানুষ এদের ক্ষমা করবে না।’’