রেল পরিবহণে জ্বালানি তেলের উপর নির্ভরতা কাটিয়ে ফেলেছে ভারত। রেল পরিবহণকে দূষণহীন করতে এখন হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন চালাতে শুরু করেছে দেশ।
আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ যতই দীর্ঘস্থায়ী হোক। কিংবা হরমুজ যতদিনই অবরুদ্ধ থাকুক। ভারতে ট্রেনের চাকা থামবে না। কিন্তু সড়ক? ভারতের সড়ক পরিবহণ এখনও জ্বালানি তেলের উপর বহুলাংশে নির্ভরশীল। যুদ্ধের কারণে ভারতের সড়কে হাহাকার হয়নি। বা তেলের দাম নাগালের বাইরে চলে যায়নি। তার কারণ, ভারত আর শুধু আরব থেকে তেল আমদানি করে না। চল্লিশের বেশি উত্স থেকে তেল আসে ভারতে। কিন্তু, সেই তেল তো কিনতে হচ্ছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বেশি দামেও কিনতে হচ্ছে। তাতে বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার ফাঁকা হচ্ছে।
জ্বালানিতে ভারত আত্মনির্ভর নয়। আত্মনির্ভর ভারত গড়ে তুলতে হলে জ্বালানিতে স্বনির্ভর হতেই হবে। সেই লক্ষ্যে দেশকে পৌঁছে দিতে পারে ইথানল। আমাদের চাষের খেতে তৈরি জ্বালানি।
আখ, গুড় ও পরিত্যক্ত শস্যদানা থেকে ইথানল তৈরি করা যায়। ভারতে তার অভাব নেই। প্রতি লিটার পেট্রোলে যতটা ইথানল মিশবে, ততটাই দেশের সাশ্রয়। পেট্রলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের হিসেব বলছে,
২০১৩-১৪ সালে পেট্রোলে ইথানল মেশানো হত ১.৫৩%
২০২৫-২৬ সালে পেট্রোলে ইথানল মেশানো হয়েছে ২০%
২০৩০-এর E-20 তে পৌঁছনোর লক্ষ্যমাত্রা স্পর্শ হয়েছে
ইথানল মেশানোর সুবিধা কী হয়েছে?
পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের হিসেব বলছে ইথানল মেশানোয়, ২০১৪-১৫ অর্থবর্ষ থেকে ১.৪ লক্ষ কোটি টাকার বিদেশি মুদ্রা বেঁচেছে
ইথানল থেকে চাষিদের সরাসরি ১.২ লক্ষ কোটি টাকা আয় হয়েছে
বাতাসে CO₂ নির্গমণ ৭৩৬ লক্ষ টন কম হয়েছে, দূষণ বেঁচেছে
২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে বিদেশি মুদ্রা বেঁচেছে ৪৩ হাজার কোটি টাকা
২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ৪০ হাজার কোটি টাকা আয় হয়েছে চাষিদের
সোশ্যাল মিডিয়ায় একটা প্রচার চলছে। ইথানল নাকি, ইঞ্জিনের ক্ষতি করে আর মাইলেজ কমিয়ে দেয়। যদিও এই দাবির সপক্ষে কোনও বাস্তব তথ্যপ্রমাণ কেউ পেশ করতে পারেননি। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকার ইথানল নিয়ে প্রতি পদক্ষেপের আগে সতর্কতা অবলম্বন করেছে। নীতি আয়োগ নেতৃত্বে একাধিক বিশেষজ্ঞ সংস্থা ২০১৪-১৫ সাল থেকে নিয়মিত ব্যবধানে অটোমোবাইল ক্ষেত্রে সমীক্ষা চালাচ্ছে। ইথানল মিশ্রণ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় যেমন গেল গেল রব উঠেছে? তেমন আতঙ্কিত হওয়ার মতো কোনও প্রমাণ বারবার সমীক্ষা চালিয়েও মেলেনি।