Last Updated:
Jute Cultivation: গত কয়েক বছরের খরার স্মৃতি মুছে ভারী বৃষ্টিতে প্রাণ ফিরল উত্তর ২৪ পরগনার পাটচাষে। জলসংকট মিটে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ কমার পাশাপাশি লক্ষ্মীলাভের আশায় বুক বাঁধছেন গ্রামবাংলার কৃষকেরা।
বসিরহাট, উত্তর ২৪ পরগণা, জুলফিকার মোল্যা: ভারী বর্ষায় প্রাণ ফিরল পাটচাষে, জাক দেওয়ার কাজে ব্যস্ত গ্রামবাংলা। উত্তর ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ পাটচাষ অঞ্চলে এবারের বর্ষা যেন নতুন আশার বার্তা নিয়ে এসেছে। টানা ভারী বৃষ্টিতে খাল, বিল, ডোবা ও বিভিন্ন জলাশয় কানায় কানায় ভরে উঠেছে। ফলে পাট জাক দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত জল পাওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে কৃষকদের মধ্যে।
গত কয়েক বছরের খরার পরিস্থিতি এখনও ভুলতে পারেননি অনেক চাষি। পর্যাপ্ত জল না থাকায় অনেককে দূরের জলাশয় ব্যবহার করতে হয়েছিল, কেউ আবার ভাড়ায় জলাশয় নিয়ে পাট পচিয়েছিলেন। এতে চাষের খরচ যেমন বেড়েছিল, তেমনই বাড়তি পরিশ্রমও করতে হয়েছিল। এবছর সেই সমস্যা অনেকটাই দূর হয়েছে। মিনাখা, হিঙ্গলগঞ্জ, সন্দেশখালি, হাসনাবাদ-সহ বিভিন্ন এলাকায় এখন চলছে পাট কাটার মরশুমি ব্যস্ততা। নদী, খাল, নালা ও পুকুরে পাট জাক দেওয়া হচ্ছে। পাটের গাছগুলোকে জলের তলায় রেখে মাটি চাপা দিয়ে পচানো হচ্ছে, যাতে নির্দিষ্ট সময় পরে ভাল মানের আঁশ পাওয়া যায়। সাধারণত ২৩ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে পাট সম্পূর্ণভাবে পচে যায়।
তবে সঠিকভাবে পাট পচানো গেলে আঁশের গুণগত মান ভাল হয় এবং বাজারে তার দামও বেশি পাওয়া যায়। তাই এবারের অনুকূল আবহাওয়া নিয়ে আশাবাদী চাষিরা। কৃষকদের মতে, বর্ষার জল যদি এভাবেই ধরে থাকে, তাহলে উৎপাদন খরচ কমবে এবং লাভের সম্ভাবনাও বাড়বে। গত বছরের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এবারের পাট মরশুমই হতে পারে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ—এমনটাই আশা করছেন উত্তর ২৪ পরগনার বহু পাটচাষি।
North Twenty Four Parganas,West Bengal