এই ঘটনার পর প্রশ্ন উঠছে, বিমানে দুর্ঘটনায় আহত হলে যাত্রীদের কী কী অধিকার রয়েছে?
১. অবিলম্বে চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার
বিমানে কেউ আহত হলে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার প্রথম দায়িত্ব হল দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। দিল্লি বিমানবন্দরে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানের অবতরণের আগেই অ্যাম্বুল্যান্স ও চিকিৎসক দল প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। বেসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের Passenger Charter অনুযায়ী, জরুরি পরিস্থিতিতে চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করতে বিমান সংস্থার দায়িত্ব রয়েছে।
২. ক্ষতিপূরণ দাবি করার অধিকার
বিমানের ভিতরে, বোর্ডিং বা অবতরণের সময় যাত্রী আহত হলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার থাকতে পারে। Carriage by Air Act, 1972 এবং আন্তর্জাতিক উড়ানের ক্ষেত্রে Montreal Convention, 1999 অনুযায়ী এই বিষয়টি নির্ধারিত হয়। তবে ক্ষতিপূরণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয় না। দুর্ঘটনার কারণ, বিমান সংস্থার গাফিলতি ছিল কি না এবং যাত্রী নিরাপত্তা নির্দেশিকা মেনেছিলেন কি না—এসব বিষয় বিবেচনা করা হয়।
৩. সঙ্গে সঙ্গে অভিযোগ নথিভুক্ত করুন
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, দুর্ঘটনার পরই কেবিন ক্রুকে বিষয়টি জানাতে হবে এবং বিমান সংস্থার ইনসিডেন্ট রিপোর্টে তা নথিভুক্ত করতে হবে। চিকিৎসার নথি, বোর্ডিং পাস, হাসপাতালের বিল ও দৃশ্যমান আঘাত বা ক্ষতির ছবি সংরক্ষণ করলে পরবর্তী সময়ে ক্ষতিপূরণ দাবি বা আইনি পদক্ষেপে তা গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজে আসতে পারে।
৪. বিমান সংস্থার বাইরে অভিযোগ জানানো যাবে
বিমান সংস্থার উত্তরে সন্তুষ্ট না হলে যাত্রীরা কেন্দ্রীয় বেসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের AirSewa পোর্টালে অভিযোগ জানাতে পারেন। নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকলে DGCA-র কাছেও অভিযোগ করা যায়। যদিও DGCA ক্ষতিপূরণ দেয় না, তবে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় তদন্ত করে।
৫. আদালত বা ভোক্তা কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার সুযোগ
যদি কোনও যাত্রীর মনে হয় বিমান সংস্থা নিরাপদ পরিষেবা দিতে ব্যর্থ হয়েছে বা গাফিলতি করেছে, তাহলে তিনি Consumer Protection Act-এর আওতায় ভোক্তা কমিশন বা দেওয়ানি আদালতে মামলা করতে পারেন। চিকিৎসার খরচ, আয়ের ক্ষতি এবং অন্যান্য আইনি ক্ষতিপূরণের দাবিও করা যেতে পারে। আদালত বা কমিশন প্রমাণ, বিমান সংস্থার ভূমিকা এবং প্রযোজ্য বিমান আইন খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেয়।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবারের ঘটনায় ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার AI2379 বিমানে ১৩৭ জন যাত্রী ও ৮ জন কেবিন ক্রু ছিলেন। ভয়াবহ টার্বুলেন্সে ১৩ জন যাত্রী এবং ৪ জন কেবিন ক্রুসহ মোট ১৭ জন আহত হন। একজন কেবিন ক্রুর আঘাত গুরুতর বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার তদন্তে বিমানের Flight Data Recorder (FDR) এবং Cockpit Voice Recorder (CVR) পরীক্ষা করছে DGCA।