কলকাতা: কেউ যদি সম্পদ তৈরি ও অবসরের জন্য একটা বড় তহবিল তৈরি করতে চান, তাহলে অবশ্যই নিয়মিত বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ। আর বিনিয়োগের জন্য সব থেকে জনপ্রিয় বিনিয়োগের মাধ্যম হল প্রভিডেন্ট ফান্ড আর এসআইপি। এর মধ্যে প্রভিডেন্ট ফান্ড হল ২ ধরনের। ইপিএফ (Employees’ Provident Fund) ও পিপিএফ (Public Provident Fund)। তবে, এই সব ক্ষেত্রেই বিনিয়োগের ধরন ও ঝুঁকি সম্পূর্ণ আলাদা।
কারও যদি এখন বয়স হয় ৩০ বছর ও আগামী ২০ বছরের জন্য কোথায় সে বিনিয়োগ করলে, ভাল রিটার্ন আসবে, তা জানা জরুরি। এই ক্ষেত্রে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা বিনিয়োগ ধরে বিনিয়োগের মোট অঙ্ক আমরা হিসাব করে দেখতে পারি।
আরও পড়ুন: উপনির্বাচনের প্রার্থী ঘোষণা করল ঋতব্রত শিবির; আমরাই তৃণমূল, সভা থেকে হুঙ্কার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের
EPF-এ মাসিক ১০ হাজার টাকা বিনিয়োগ
ইপিএফ হল সরকারি অবসর সঞ্চয় প্রকল্প। চাকরিজীবীদের সাধারণত এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট অ্যাকাউন্ট থাকে। এই অ্যাকাউন্টে থাকা টাকার সঙ্গে শেয়ার বাজারের ওঠা নামার কোনও সম্পর্ক থাকে না। শেষ ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের টাকা জমা পড়েছে ইপিএফ অ্যাকাউন্টে। শেষ জমা পড়া ৮.২৫ শতাংশ সুদ হিসাব করলে, মাসে কেউ যদি ১০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে তাহলে ২০ বছরে মোট বিনিয়োগ হবে ২৪ লক্ষ টাকা। ৮.২৫ শতাংশ হারে সুদ পাওয়া যেতে পারে ৩৬ লক্ষ ৭৬ হাজার টাকা। ফলে ২০ বছরের শেষে সম্ভাব্য তহবিল হতে পারে প্রায় ৬১ লক্ষ ১১ হাজার টাকা।
PPF-এ মাসিক ১০ হাজার টাকা বিনিয়োগ
PPF বা পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড হল সরকারি একটি সঞ্চয় তহবিল। যে কোনও ভারতীয় নাগরিক এখানে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে। এখানে সরকার সুদ দিয়ে থাকে। শেষ অর্থ বছরের হিসাব ধরলে সরকার ৭.১ শতাংশ সুদ দিয়েছে। এই হিসাবে যদি মাসিক ১০ হাজার টাকা ও ২০ বছরে হিসাব করা হয় তাহলে সুদে আসলে মোট টাকা জমা হয় ৫১ লক্ষ ৬২ হাজার টাকা।
SIP-এ মাসিক ১০ হাজার টাকা বিনিয়োগ
ইক্যুইটি মিউচুয়াল ফান্ডে SIP-এর ক্ষেত্রে বাজারভিত্তিক রিটার্ন পাওয়া যায়। গড় ১২ শতাংশ বার্ষিক রিটার্ন ধরে ২০ বছর প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করলে মোট বিনিয়োগ হবে ২৪ লক্ষ টাকা। সম্ভাব্য রিটার্ন হতে পারে প্রায় ৭৪ লক্ষ ৯২ হাজার টাকা এবং মোট করপাস প্রায় ৯৮ লক্ষ ৯২ হাজার টাকা।
অর্থাৎ, একই পরিমাণ বিনিয়োগে অনুমান অনুযায়ী SIP-র করপাস EPF-এর তুলনায় প্রায় ৩৮ লক্ষ টাকা বেশি হতে পারে। তবে এই অতিরিক্ত সম্ভাব্য রিটার্নের সঙ্গে বাজারের ঝুঁকিও রয়েছে। ১২ শতাংশ রিটার্ন নিশ্চিত নয় এবং প্রকৃত ফল বাজারের পরিস্থিতির উপর নির্ভর করবে।
কোনটি বেছে নেবেন?
দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য, বেশি ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা এবং ২০ বছর বা তার বেশি সময় থাকলে SIP বিবেচনা করা যেতে পারে। অন্যদিকে, মূলধনের স্থিতিশীলতা ও তুলনামূলক নির্দিষ্ট রিটার্নকে অগ্রাধিকার দিলে প্রভিডেন্ট ফান্ড উপযোগী। বাস্তবে দুটিকে পাশাপাশি রাখাও যেতে পারে। নিজের ঝুঁকি, অবসরের লক্ষ্য এবং সামগ্রিক সম্পদ বণ্টন বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
(মনে রাখবেন : এখানে প্রদত্ত তথ্য শুধুমাত্র তথ্যের উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে। এখানে উল্লেখ করা জরুরি যে, বাজারে বিনিয়োগ করা ঝুঁকি সাপেক্ষ। বিনিয়োগকারী হিসাবে অর্থ বিনিয়োগ করার আগে সর্বদা একজন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করুন। ABPLive.com কখনও কাউকে এখানে অর্থ বিনিয়োগ করার পরামর্শ দেয় না। এখানে কেবল শিক্ষার উদ্দেশ্যে এই শেয়ার মার্কেট সম্পর্কিত খবর দেওয়া হয়। কোনও শেয়ার সম্পর্কে আমরা কল বা টিপ দিই না।)