কলকাতা: বর্তমান দিনে মানুষ ক্যাশ টাকার পরিবর্তে কথায় কথায় UPI পেমেন্ট করেন। অনেক সুবিধাও হয়। কিন্তু এবার এই পেমেন্ট সিস্টেম নিয়ে নতুন ফরমান জারি করল কেন্দ্র সরকার। ইউপিআই দিয়ে দু’হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক লেনদেনে কাটা হবে না কোনও অতিরিক্ত টাকা। একটি বিবৃতি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক। কেন্দ্রের স্পষ্ট নির্দেশ, গ্রাহকদের থেকে কোনও প্রকার মাশুল নেওয়া যাবে না।

সরকারের এই সিদ্ধান্তে সিটিআই চেয়ারম্যান ব্রিজেশ গোয়েল বলেছেন যে, ২,০০০ টাকার বেশি ইউপিআই পেমেন্টের জন্যও কোনও অতিরিক্ত ফি থাকা উচিত নয়। সিটিআই এর বিরোধিতা করছে।

ব্রিজেশ গোয়েল আরও বলেন যে, এটি মানুষকে আবার নগদ লেনদেনে ফিরে যেতে বাধ্য করবে, যা ডিজিটাল ইন্ডিয়ার জন্য একটি বড় বাধা।

তিনি আরও বলেন যে, সরকার ২,০০০ টাকার বেশি ইউপিআই লেনদেনের উপর এমডিআর আরোপের পথ খুলে দিয়েছে। তাই চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিটিআই) এর বিরোধিতা করছে।

অনেকের মনে প্রশ্ন যদি অতিরিক্ত চার্জ নেওয়া হয় তবে ব্যবসায়ীরা সাধারণ মানুষের থেকেই সেই টাকা নেবেন। এই বিষয় নিয়েও সিটিআই চেয়ারম্যান ব্রিজেশ গোয়েল মুখ খোলেন। তিনি বলেন, “সরকার বলছে যে এই ফি গ্রাহকের কাছ থেকে নয়, বরং ব্যবসায়ীর কাছ থেকে আদায় করা হবে, কিন্তু বাস্তবতা হলো দোকানদার ঘুরপথে গ্রাহকের কাছ থেকে সেই একই ফি আদায় করবে।”

তিনি আরও বলেন, ”যদি দোকানদারকে ২০০০ টাকার পণ্যের ওপর ১% এমডিআর-ও দিতে হয়, তাহলে তার ২০ টাকার লোকসান হবে। সে হয় গ্রাহকের কাছে নগদ টাকা চাইবে, অথবা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেবে।”

সিটিআই চেয়ারম্যান ব্রিজেশ গোয়েল আরও বলেন, এর সরাসরি প্রভাব হবে এই যে, মানুষ আবার নগদ লেনদেনে ফিরে আসবে। গত ছয় বছর ধরে আমরা ক্ষুদ্রতম দোকানদার এবং রাস্তার হকারদেরও ইউপিআই-এর আওতায় আনতে কঠোর পরিশ্রম করেছি।

ব্রিজেশ গোয়েল বলেন যে, বর্তমানে দিল্লির সদর বাজার, চাঁদনি চক, লাজপত নগর, চাওরি বাজার, কমলা নগর, করোল বাগ, গান্ধী নগরে ৯০ শতাংশ পেমেন্ট ইউপিআই-এর মাধ্যমে করা হয়। যদি এমডিআর আরোপ করা হয়, তাহলে ব্যবসায়ীরা সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেবেন যেখানে লেখা থাকবে, “২০০০ টাকার উপরে ইউপিআই কাজ করবে না, নগদ দিন।” এটি ডিজিটাল ইন্ডিয়া মিশনের জন্য একটি বড় ধাক্কা হবে।

তিনি আরও বলেন যে, সরকার দাবি করে মাত্র ৪% লেনদেন ২,০০০-এর বেশি, কিন্তু এগুলি মোট মূল্যের ৬৬%। এর মানে হলো, শুধুমাত্র সর্বোচ্চ বাণিজ্যিক লেনদেনগুলোর ওপরই চার্জ আরোপ করা হবে। ইলেকট্রনিক্স, মোবাইল ফোন, পোশাক, গয়না, আসবাবপত্র, পাইকারি সবই ২,০০০-এর বেশি মূল্যের লেনদেন। এমএসএমই ব্যবসায়ীরা ১-২% মার্জিনে ব্যবসা করেন। তারা কোথায় এমডিআর পরিশোধ করবেন?

সিটিআই চেয়ারম্যান ব্রিজেশ গোয়েল বলেছেন, “সিটিআই দাবি জানাচ্ছে যে, ২০২০ সাল থেকে যেমনটা আছে, ইউপিআই এবং রুপে ডেবিট কার্ডগুলোকে সম্পূর্ণ এমডিআর-মুক্ত রাখা হোক। ব্যাংকগুলো যদি ব্যয় সংকটের সম্মুখীন হয়, তবে সরকারের উচিত ব্যবসায়ী ও গ্রাহকদের ওপর বোঝা না চাপিয়ে তাদের সরাসরি প্রণোদনা দেওয়া।”
Published at : 15 Sep 2026 05:43 PM (IST)