ইসলামাবাদ: সঙ্কট কাটছে না পশ্চিম এশিয়ায়। সেই আবহে মিতব্যয়ের রাস্তা ধরল পাকিস্তান। কোভিড-কালের অনুরূপ ‘লকডাউন’ জারি হল সেখানে। জ্বালানি বাঁচাতে অপ্রয়োজনীয় খরচে বসল নিষেধাজ্ঞা। আপাতত নতুন গাড়ি কেনা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিল দেশের সরকার। সরকারি আধিকারিকদের জ্বালানির খরচ কমানো হল ৫০ শতাংশ। সামাজিক অনুষ্ঠানেও বিধিনিষেধ চাপানো হল। (Lockdown Situation in Pakistan)
এই নিয়ে চলতি বছরে দ্বিতীয় বার বিধিনিষেধ কার্যকর হল পাকিস্তানে। আমেরিকা এবং ইরানের মধ্য়ে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় মার্চ মাসে সেখানে বিধিনিষেধ কার্যকর হলেছিল। দু’সপ্তাহ বন্ধ ছিল স্কুল। সেবারও জ্বালানির খরচ কমানো হয়েছিল সরকারি আধিকারিকদের। সরকারি-বেসরকারি দফতরে ওয়র্ক ফ্রম হোম চালু হয়েছিল, যাতে জ্বালানিও বাঁচানো যায়, আবার খরচ-খরচাও কম হয় সরকারের। (Pakistan Lockdown Like Situation)
বৃহস্পতিবার একবার ফের তেমনই ‘লকডাউনে’র ঘোষণা হল পাকিস্তানে। বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলা হয়েছে, এখন থেকেই ফের বিধিনিষেধ কার্যকর হচ্ছে। সরকারি কাজকর্মের জন্য কোনও নতুন গাড়ি কেনা যাবে না। দেশের সেনাবাহিনী, সশস্ত্রবাহিনী, তদন্তকারী সংস্থা, জরুরি পরিষেবা প্রদানকারী বিভাগ, রাজস্ববিভাগের গাড়ি নিয়ে কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। জ্বালানির খরচ কমাতে হবে ৫০ শতাংশ। সরকারি আধিকারিকরা আগামী তিন মাস বিদেশসফরে যেতে পারবেন না। যেখানে না গেলেই নয়, সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র মন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং শীর্ষস্তরের আধিকারিকরা বিদেশ যেতে পারবেন। তবে বিজনেস নয়, ইকনমিক ক্লাসের টিকিটে বিমানযাত্রা করতে হবে। উন্নয়নমূলক প্রকল্প ছাড়া চেয়ার, টেবিল, ফ্রিজ, এসি, টিভির মতো দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের জিনিসপত্রও কেনা যাবে না আপাতত। সরকারি বৈঠক হবে টেলিকনফারেন্সে।
সাধারণ মানুষের জন্যও একাধিক বিধিনিষেধ কার্যকর হয়েছে। বলা হয়েছে, বিয়েবাড়ি হোক বা অন্য কোনওো অনুষ্ঠান, একটি মাত্র পদই রান্না করা যাবে। দোকান, বাজার, শপিং মল, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, মুদিখানার দোকান বন্ধ করে দিতে হবে রাত ৯টার মধ্যে। বিয়েবাড়ি, ব্যাঙ্কোয়েট এবং সেই ধরনের অনুষ্ঠানস্থলগুলি রাত ১০টার পর খোলা রাখা যাবে না। রাত ১১টার মধ্যে বন্ধ করে দিতে হবে রেস্তরাঁ, ক্য়াফে, হোটেল, শাক-সবজি, ফল এবং খাবারের দোকানও। তবে রেস্তরাঁ থেকে টেকঅ্যাওয়ে এবং হোম ডেলিভারি সার্ভিসকে বিধিনিষেদের বাইরে রাখা হয়েছে।
ক্লিনিক, হাসপাতাল, মেডিক্যাল ল্যাব, ফার্মাসি, পেট্রোল পাম্প, CNG স্টেশন এবং EV চার্জিং সেন্টারের মতো জরুরি পরিষেবাও ছাড় পেয়েছে সময়কালের বিধিনিষেধ থেকে। সেই তালিকায় জায়গা পায়েছে জিম, ক্রীড়াকেন্দ্র, তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা, কল সেন্টারগুলিও।
BJP News: অভিষেক বলেছিলেন একটা সময় শুভেন্দুবাবুর রথকে উল্টো করে বাড়ি পাঠিয়ে দেবেন:চন্দ্রনাথ রথের মা