টাইমস অফ ইজরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অপহরণের খবর চাউর হতেই ইজরায়েলি বায়ুসেনার বেশ কয়েকটি বিমান ওই বিমানের নিরাপত্তার জন্য রওনা দেয়। জরুরি ভিত্তিতে বৈঠক ডাকেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। যদিও পরে জানা যায়, বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করেছে।
CNN-এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সতর্কবার্তা পাওয়ার পর ইজরায়েলি বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমানগুলিকে আকাশে পাঠানো হয়। সংবাদমাধ্যমটি আরও জানিয়েছে, মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে বিমানটি ৩৪,০০০ ফুট থেকে প্রায় ১৬,৬০০ ফুটে নেমে আসে—অর্থাৎ ১৭,৪০০ ফুট নীচে নেমে যায়। টাইমস অফ ইজরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অপহরণের খবর চাউর হতেই ইজ়রায়েলি বায়ুসেনার বেশ কয়েকটি বিমান ওই বিমানের নিরাপত্তার জন্য রওনা দেয়। জরুরি ভিত্তিতে বৈঠক ডাকেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। যদিও পরে জানা যায়, বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করেছে।
FZ1073 নিরাপদে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে অবতরণ করে, যা অসামরিক ও সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফ্লাইট রাডারের তথ্য অনুযায়ী, দুবাই থেকে টেক অফের প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর এই ঘটনা ঘটে।
প্রাথমিক জরুরি সতর্কবার্তা পাঠানোর পর ফ্লাইটটি পরে তার ‘ডিস্ট্রেস’ কোড পরিবর্তন করে 7500 করে, যা বেআইনি হস্তক্ষেপের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোড। ফ্লাইট রাডার দুবাই বিমানবন্দর থেকে টেক অফের পর বিমানটি তার যাত্রাপথের গোটা টাইমলাইন প্রকাশ করেছে।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ককপিটে পাইলটদের মধ্যে হিংসাত্মক বচসার সময় বিমানের জরুরি সঙ্কেত সক্রিয় করা হয়েছিল। ‘টাইমস অফ ইজরায়েল’ দাবি করেছে, ওই বচসার সময় একজন পাইলটকে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়। কিছু প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এক পাইলট ইচ্ছাকৃতভাবে বিমানটি ভেঙে ফেলে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছিলেন এবং বিমানটির ‘নাক’ বা সামনের অংশ তীব্রভাবে নীচের দিকে নামিয়ে দিয়েছিলেন। তবে অপর পাইলট তাঁর সঙ্গে ধস্তাধস্তি করে বিমানের অবতরণ ঠেকাতে সক্ষম হন। যদিও ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষ এখনও এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেনি।
বিমানের যাত্রীরা ফোনে ইজরায়েলের চ্যানেল ১২-কে জানিয়েছেন, বিমানের সামনের দিকে থাকা যাত্রীরা পাইলটদের মধ্যে বচসার শব্দ শুনে চিৎকার করতে শুরু করেছিলেন এবং সৌদি আরবে অবতরণের আগে বিমানটি তীব্রভাবে নীচের দিকে নেমে গিয়েছিল।
“আমাদের দল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। অতিরিক্ত নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেলে আরও আপডেট প্রকাশ করা হবে,” সংবাদ সংস্থা এপি-কে উদ্ধৃত করে এক বিমানসংস্থা আধিকারিক এই কথা বলেছেন।
‘Haaretz’ জানিয়েছে, বিমানটিতে প্রায় ১৮০ জন ইজরায়েলি যাত্রী রয়েছেন। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জরুরি বৈঠক করেছেন এবং পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন। তাঁর দফতর এক্স-এ বলেছে, “ঘটনাটি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ইজরায়েলি যাত্রীদের নিরাপদে ইজরায়েলে ফিরিয়ে আনার জন্য বর্তমানে সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
FZ1073 ফ্লাইটটির দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তেল আভিভের কাছে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে যাওয়ার কথা ছিল। ফ্লাইট-ট্র্যাকিং রেকর্ডে দেখা যাচ্ছে, এই রুটে ফ্লাইদুবাই নিয়মিত পরিষেবা পরিচালনা করে। কর্মীদের কারণে বিমানের জরুরি অবতরণের ঘটনা বিরল হলেও একেবারে নজিরবিহীন নয়। ২০২২ সালে, জেনিভা থেকে প্যারিসগামী একটি এয়ার ফ্রান্সের ফ্লাইটে ককপিটে মারামারির পর দুই পাইলটকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছিল। তবে সেই বিমানটির গতিপথ পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়নি এবং নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ীই অবতরণ করেছিল।