Last Updated:
এতদিন ইডি এবং সিবিআই-এর পক্ষে বিভিন্ন দুর্নীতির তদন্তে তৃণমূলের নেতা, মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার ক্ষেত্রে সব থেকে বড় প্রতিবন্ধকতা ছিল রাজ্য পুলিশের অসহযোগিতা৷
১৫ বছরের শাসনকালে তুলনামূলক ভাবে তৃণমূল সবথেকে খারাপ ফল করেছিল ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে৷ যদিও দু বছর পর ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেই রাজ্যে ফের সবুজ ঝড় উঠেছিল৷ ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও তৃণমূলের দুর্দান্ত ফলের পর ২০২৬ সালে তৃণমূলনেত্রী এবং তাঁর দলের এমন বিপর্যয় হতে পারে, তা কল্পনাও করতে পারেননি অনেকেই৷
তবে নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর তৃণমূলের জন্য সম্ভবত আরও কঠিন সময় অপেক্ষা করে আছে৷ ইতিমধ্যেই রাজ্যে পালাবদলের পর বিজেপি-র দাপটের সামনে দলের সংগঠনকে ধরে রাখাই তৃণমূল নেতৃত্বের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ৷ তবে তার থেকেও বড় চ্যালেঞ্জ সম্ভবত হতে চলেছে কেন্দ্রীয় এজেন্সির তদন্তের মোকাবিলা করা৷
তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব সহ দলের একাধিক নেতা এবং প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলার তদন্ত করছে ইডি৷ এই মামলাগুলির মধ্যে সবথেকে চর্চিত কয়লা পাচার মামলা৷ যে মামলায় অভিযুক্ত খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়৷ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক মুখে এই কয়লা দুর্নীতি মামলার তদন্তে আবার নতুন করে তৎপর হয়েছে ইডি৷ এই তদন্তের সূত্রেই আইুপ্যাক দফতরে হানা দিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা৷ ইডি আধিকারিকদের অনুমান, কয়লা দুর্নীতি কাণ্ডে প্রায় ১৩০০ কোটি টাকার বেআইনি লেনদেন হয়েছে৷ এই মামলার তদন্তে গত পাঁচ বছর ধরে ব্যাঙ্কক এবং লন্ডনের দুটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের উপরে নজর রেখেছেন ইডি কর্তারা৷ ২০২২ সালের জুন মাসে এই মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল ইডি এবং সিবিআই৷ ওই বছরই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও কয়লা দুর্নীতি মামলা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল ইডি৷
এর পাশাপাশি নিয়োগ দুর্নীতি মামলাতেও অভিষেকের নাম জড়িয়েছে৷ ২০২৩ সালে এই মামলাতেও রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জেরা করেছিল ইডি৷ সূত্রের খবর, খুব শিগগিরই ফের অভিষেক এবং রুজিরাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করতে পারে ইডি৷
ইডি সূত্রের খবর, তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ এবং অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস অফিসার রাজীব কুমার, কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন কমিশনার মনোজ ভার্মা এবং আরও এক পুলিশকর্তাকেও খুব শিগগিরই তলব করতে পারে ইডি৷ তলব করার পরেও হাজিরা না দেওয়ায় ইতিমধ্যেই তৃণমূল ঘনিষ্ঠ আর এক পুলিশ অফিসার শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের নামে লুক আউট নোটিসও জারি করেছে ইডি৷
আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনও ইডি-র নজরে রয়েছেন৷ ইতিমধ্যে তাঁকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ইডি৷ তদন্তকারীদের অনুমান, প্রতীক জৈনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তৃণমূলের শীর্ষ স্তরের নেতৃত্বের সঙ্গে এই দুনীর্তিগুলির যোগ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে৷
কয়েকদিন আগেই ফের একবার প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে হানা দিয়েছিল ইডি৷ পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইতিমধ্যেই রাজ্যের দুই প্রাক্তন মন্ত্রী রথীন ঘোষ এবং সুজিত বসুকে তলব করেছে ইডি৷ আর এক প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক দেবাশিস কুমারও জমি দুর্নীতি মামলায় ইডি-র নজরে রয়েছেন৷ সবমিলিয়ে তৃণমূলের জন্য আগামী দিনে কঠিন সময় অপেক্ষা করে আছে বলেই ওয়াকিবহল মহলের মত৷
পিএমএলএ আইনে প্রাথমিক কোনও আর্থিক দুর্নীতির মামলার ভিত্তিতেই বড় আর্থিক দুর্নীতির মামলা রুজু করা যায়৷ সিবিআই এবং ইডি আধিকারিদের ধারণা, রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর এবার মামলা রুজু করার ক্ষেত্রে স্থানীয় থানাস্তরে আর তাদের বাধার সম্মুখীন হতে হবে না৷ তদন্তে রাজ্য সরকারের সহযোগিতাও মিলবে৷ ফলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পিএমএলএ আইনে দ্রুত মামলা রুজু করে তদন্তের কাজও সহজ হবে৷
Kolkata,West Bengal
May 06, 2026 10:57 PM IST
