নয়াদিল্লি: বুঝেশুনে জ্বালানি খরচ করতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর তার পর পরই কেন্দ্রের তরফে জরুরি বার্তা এল। কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হল, ভারতের কাছে অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে ৬০ দিনের। প্রাকৃতিক গ্যাস মজুত রয়েছে ৬০ দিনের এবং ৪৫ দিনের LPG রোলিং স্টক মজুত রয়েছে। (LPG Stock)
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি। দু’দিন আগে, গত রবিবারই প্রথম বুঝেশুনে জ্বালানি খরচ করতে আর্জি জানান প্রধানমন্ত্রী মোদি। ভোজ্য় তেলের ব্যবহারও কমাতে বলেছেন তিনি। একবছর বন্ধ রাখতে বলেছেন সোনা কেনা। সেই আবহেই প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ জানালেন, ভারতের কাছে ৬০ দিনের অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে। রয়েছে ৬০ দিনের প্রাকৃতিক গ্যাস এবং ৪৫ দিনের LPG রোলিং স্টক। রেলের ট্যাঙ্ক ওয়াগনে ভরে যেভাবে তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস পরিবহণ করা হয়, তাকেই বলে রোলিং স্টক। (Fuel Crisis)
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হয়েছে। সেই আবহে জ্বালানি বাঁচাতে এবং দেশর অর্থনীতিকে রক্ষা করতে ‘National Mission’ ঘোষণা করেছে ভারত সরকার। বেসরকারি ক্ষেত্রেও এর সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত। সেই আবহেই সোমবার রাজনাথের নেতৃত্বে পঞ্চম ইনফর্মাল গ্রুপ অফ মিনিস্টার্সের (IGoM) বৈঠক হয়। কোভিড কালের মতো ফের মানুষকে সংঘবদ্ধ করে পরিস্থিতি মোকাবিলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সেখানে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে ওঠাপড়া চোখে পড়লেও, ভারতের জন্য এখনই চিন্তার কিছু নয় বলে জানানো হয়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘IGoM জানিয়েছে, দেশ নিরাপদ জায়গাতেই রয়েছে। পেট্রোপণ্যে ঘাটতি নেই। খরচ কমাতে বেশিরভাগ দেশই জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিয়েছে। ভারতের হাতে অপরিশোধিত তেল রয়েছে ৬০ দিনের, প্রাকৃতিক গ্যাস রয়েছে ৬০ দিনের, ৪৫ দিনের LPG রোলিং স্টক রয়েছে। সঞ্চিত বিদেশি মুদ্রার পরিমাণ ৭০৩ বিলিয়ন ডলার। তৈল পরিশোধনে গোটা পৃথিবীর মধ্যে ভারত তৃতীয় এবং পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য রফতানিতে চতুর্থ। ১৫০টি দেশে রফতানি করেও দেশের অন্দরে চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে’। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সকলের সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্র জানিয়েছে, গ্রাহকদের গায়ে যাতে আঁচ না পডডে, তার জন্য প্রতিদিন ১০০০ কোটি টাকার ক্ষতি সহ্য করছে তেল বিপণন সংস্থাগুলি। তার পরও গত ৭০ দিনেরও বেশি সময় ধরে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়ানো হয়নি। অন্য দেশগুলিতে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেয়েছ ৩০ থেকে ৭০ শতাংশ। দীর্ঘমেয়াদি পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই বুঝেশুনে জ্বালানি খরচ করতে বলা হচ্ছে সকলকে।