কলকাতা: একধাক্কায় প্রায় আড়াই গুণ বৃদ্ধি সোনা-রুপোর আমদানি শুল্ক। অন্তত এক বছর সোনা কেনা বন্ধ রাখতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর তার পরই সোনা-রুপোর উপর আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে ৬ থেকে ১৫ শতাংশ করে দেওয়া হল। বেড়েছে প্ল্যাটিনামের আমদানি শুল্কও। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে উদ্বিগ্ন স্বর্ণ ব্যবসায়ী থেকে অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। সাধারণ মানুষের ভরসায় না থেকে সরকার আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে দিল বলে মত তাঁদের। দেশের অর্থনীতিতে এর বড় প্রভাব পড়তে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। (Kolkata Gold Market)
বুধবার কেন্দ্রের তরফে সোনা-রুপোর আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির পরই এবিপি আনন্দে মুখ খোলেন অর্থনীতিবিদ শৈবাল কর। কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনিও। বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন এক বছর সোনা না কিনতে। শেষ পর্যন্ত ভরসা না করে আমদানি শুল্ক বসানো হয়েছে। ভারত বিদেশের বাজার থেকে যে সোনা কেনে, সোনার তাল…তা কেনার খরচ বিরাট বেড়ে যাবে। SBI রিজার্ভ ব্যাঙ্কের অনুমতি সহকারে সোনার তাল কিনে থাকে। আমদানি শুল্ক এতটা বাড়লে, যাঁরা সোনা কিনছেন, স্বর্ণব্যবসায়ীদের জন্য দুঃসংবাদ। এর উপর প্রচুর মানুষের জীবন-জীবিকা, রুটি-রুজি নির্ভর করে।” (Gold Customs Duty)
আরও পড়ুন: সোনা-রুপোর আমদানি শুল্ক বাড়ল, একলাফে আড়াই গুণ, মোদির সতর্কবার্তার পরই
সোনা-রুপোর আমদানি শুল্ক বৃদ্ধিতে কলকাতাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করছেন শৈবাল। তাঁর বক্তব্য, “মুম্বইয়ের জাভেরী বাজারে যে সোনার ব্যবসা হয়ে থাকে, তার সাপ্লায়ার চেনটা কিন্তু কলকাতা। কলকাতায় সমস্ত অলঙ্কার তৈরি হয়। কলকাতা থেকে বম্বে যায়, তার পর সারা বিশ্বে পৌঁছে যায়। অলঙ্কার, রত্ন ভারতের অন্যতম রফতানিযোগ্য পণ্য। বিদেশি মুদ্রা বাঁচাব ভাবছি আমরা। কিন্তু রফতানি থেকে রোজগার করা বিদেশি মুদ্রাও ধাক্কা খাবে, সঞ্চিত বিদেশি মুদ্রার ভাঁড়ারও ধাক্কা খাবে। সরকার কী ভাবছে জানা নেই। কিন্তু সঙ্কট যদি এতটাই গুরুতর হয়, তাহলে আলোচনার পর শুল্ক আরোপ করা উচিত। তার সুযোগ দেখতে পাইনি আমরা।”
বিদেশ যাওয়া বা মুদ্রা বিনিময়ের ক্ষেত্রেও বাধা আসবে বলে মনে করছেন শৈবাল। তিনি জানিয়েছেন, সঞ্চিত বিদেশি মুদ্রা ভাঁড়ার রক্ষার্থে সরকার হয়ত যত রকম নির্দেশিকা প্রয়োজন, তা করতে শুরু করবে। তবে তার আগে আলোচনার প্রয়োজন ছিল। পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিরতার জেরে আগেই GST বসানো হয়েছিল। এখন একধাক্কায় এতটা আমদানি শুল্ক বৃদ্ধিতে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন স্বর্ণ ব্যবসায়ীরাও।
গত রবিবারই প্রথম সোনা কেনা বন্ধ রাখতে বলেন মোদি। সোমবারও একই কথা শোনা যায় তাঁর মুখে। অন্তত এক বছর সোনা না কেনার পরামর্শ দেন। সঞ্চিত বিদেশি মুদ্রার ভাঁড়ার অক্ষুণ্ণ রাখতেই এমন সিদ্ধান্ত বলে জানান। যদিও সেই নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ থেকে পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিরতা চলছে। বিভিন্ন রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের জন্যই সঙ্কট লুকিয়ে রাখা হয়েছিল কি না, প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলি।