সন্দীপ সরকার, কলকাতা: ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পরে তাঁকে গ্রেফতার করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। প্রায় সাড়ে ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর কলকাতা পুলিশের ডিসি শান্তনু সিন্হা বিশ্বাসকে গ্রেফতার করেছিল ইডি। সোনা পাপ্পু সংক্রান্ত মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে কলকাতা পুলিশের ডিসি-কে। ৫ বার নোটিস পাঠানো হয়েছিল ইডি-র তরফে। তদন্তে অসহযোগিতা করছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। হাজিরা এড়াচ্ছিলেন। অবশেষে বৃহস্পতিবার হাজিরা দিতে যান ডিসিপি। সেদিনই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
শান্তনু সিন্হা বিশ্বাসকে বহিষ্কার করেছে ক্যালকাটা পুলিশ ক্লাবও। এবং সেটাও তিনি গ্রেফতার হওয়ার আগেই। বাংলার ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা সিএবি-তে ক্যালকাটা পুলিশ ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করতেন তিনি।
ক্যালকাটা পুলিশ ক্লাব থেকে সিএবি-তে চিঠি পাঠিয়ে জানানো হয়েছে যে, ক্লাব থেকে শান্তনু সিন্হা বিশ্বাসের সদস্যপদ খারিজ করা হয়েছে। চিঠিতে লেখা হয়েছে, ১১ মে ক্যালকাটা পুলিশ ক্লাবের এগজিকিউটিভ কমিটির বৈঠক হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয় যে, শান্তনু সিন্হা বিশ্বাসকে সাসপেন্ড করা হবে। সেই সঙ্গে সিএবি-কে জানানো হয়েছে যে, শান্তনু সিন্হা বিশ্বাস এতদিন পর্যন্ত সিএবি-তে ক্লাবের প্রতিনিধি থাকলেও এখন সেটাও খারিজ করা হয়েছে। ক্লাবের তরফ থেকে অন্য কাউকে প্রতিনিধি বাছা হলে সেটা সিএবি-কে জানানো হবে বলেও লেখা হয়েছে চিঠিতে।
চলতি আইপিএলে শান্তনু সিন্হা বিশ্বাসের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডও তৈরি করে দিয়েছিল সিএবি। এবং সেটাও ম্যানেজমেন্টের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচিতি দিয়ে। কী হবে সেই কার্ডের? সিএবি সূত্রে খবর, শান্তনু সিন্হা বিশ্বাস গ্রেফতার হওয়ায় এমনিতেই সেই কার্ড এখন অকেজো। তবে আলাদা করে বাতিল করা হচ্ছে না। সিএবি-র একজন বলছিলেন, ‘ক্লাব কাকে পাঠাবে, সেটা তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। এ নিয়ে সিএবি-র কিছু করণীয় নেই। আমরা শুধু ক্লাব রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসাবে টিকিট বা আমন্ত্রণপত্র যা পাঠাতাম, তা আর পাঠাব না। আর কেউ অভিযুক্ত মানেই অপরাধী নয়। আগে দোষ প্রমাণিত হোক।’ তবে ইডি লুক আউট নোটিস জারি করার পরেও কেন তাঁর কার্ড বাতিল হল না, সেই প্রশ্ন তুলছে সিএবি-রই একাংশ।
এও বলা হল, শান্তনু সিন্হা বিশ্বাস যদি অ্যাপেক্স কাউন্সিলের সদস্য হতেন, সেক্ষেত্রে গ্রেফতার হলেও সিএবি-র সংবিধান অনুযায়ী তাঁকে এখনই সরানো যেত না। বার্ষিক সাধারণ সভা পর্যন্ত রাখতে হতো।
দীর্ঘ টালবাহানা, লুক আউট নোটিসের পর গ্রেফতার হয়েছেন DCP শান্তনু সিন্হা বিশ্বাস। জিজ্ঞাসাবাদের পর এবার একাধিক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে ইডি। বলা হয়েছে, সোনা পাপ্পুদের সামনে রেখে কাউন্সিলরদের তোলাবাজির র্যাকেটে পুলিশ ম্যানেজ করতেন DCP শান্তনু সিনহা বিশ্বাস। প্রোমোটার-ক্রিমিনাল-পুলিশ-চলত সিন্ডিকেটের ত্রিশূল।
দাবিতে বলা হয়েছে, কোনও বাড়ি তৈরি হওয়ার ঠিক আগে পৌঁছে যেত কাউন্সিলররা। টাকা দেওয়ার পরে সিন্ডিকেটের কাছ থেকে নিতে হতো নির্মাণ সামগ্রী। কাউন্সিলরদের সিন্ডিকেট থেকে নির্মাণ সামগ্রী না নিলে দিতে হত জরিমানা। ধৃত DCP-কে হেফাজতে চেয়ে কোর্টে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছিল ED।