নয়াদিল্লি: ‘আজ যে রাজা, কাল সে ভিখারি’…অনিশ্চিত জীবনকে ব্যাখ্যা করতে এমন প্রবাদের জুড়ি নেই। কিন্তু ভিখারি থেকে রাজা হওয়ার মতো ব্যতিক্রমী ঘটনাও ঘটে পৃথিবীতে। তবে এক্ষেত্রে ভিখারি নয়, সামান্য মাস মাইনের সংবাদকর্মী থেকে একেবারে রাজা হয়ে বসলেন এক ব্যক্তি। আর সেই কারণেই এই মুহূর্তে খবরের শিরোনামে উঠে এসেছে উগান্ডা। (Journalist Ascends to Uganda Kingdom Throne
পূর্ব আফ্রিকার দেশ উগান্ডার টোরোর রাজা হিসেবে অভিষিক্ত হলেন এডওয়ার্ড রুকিডি কিয়াজোঙ্গামা। রাজা চতুর্থ ওয়ো নম্বা কাবামা ইগুরু রুকিডির স্থলাভিষিক্ত হলেন তিনি। একমাস আগেই মাত্র ৩৪ বছর বয়সে মারা যান কাবামা। ক্যান্সার হয়েছিল তাঁর। সেই থেকে রাজ সিংহাসন নিয়ে টানাপোড়েন চলছিল। শেষ পর্যন্ত সেই আসনে বসলেন এডওয়ার্ড। (Edward Rukidi Kijanangoma)
উগান্ডা একটি সংবিধানচালিত প্রজাতান্ত্রিক দেশ। নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের হাতেই দেশ চালানোর দায়িত্ব ন্যস্ত। তবে ঔপনিবেশিক শাসন পূর্ব রাজতন্ত্রের প্রভাব রয়ে গিয়েছে আজও। রাজনৈতিক ক্ষমতার অধিকারী না হলেও, দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে রাজতন্ত্র। মোট ১৭টি রাজতন্ত্র স্বীকৃত সেখানে। তবে মূল রাজতন্ত্র চারটি, যার মধ্যে অন্যতম টোরো। রাজ পরিবারের সদস্যরা সরকারের কাছ থেকে অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধাও পান। টোরোর ‘রয়্যাল বাবিতো ক্ল্যানে‘র ২১ সদস্যের কমিটিই ৫৬ বছর বয়সি এডওয়ার্ডের নামে সিলমোহর দেয়। সম্পর্কে তিনি প্রয়াত কাবামার তুতো দাদা।
টোরোর রাজা হওয়ার জন্য ‘প্রথম এডওয়ার্ড রুকিডি নিয়াবোঙ্গো’ নাম ধারণ করেছেন এডওয়ার্ড। নামধারণের সেই অনুষ্ঠানে প্রথা মেনে মুরগি বলি হয়। মুরগির ফোঁটা ফোঁটা রক্ত ছড়িয়ে দেওয়া হয় টোরোর রাজধানী ফোর্ট পোর্টালে। যুদ্ধজয়ের পর আগে সিংহাসনে বসতেন রাজারা। এখন সেসবের অবকাশ নেই। তবে নকল যুদ্ধের আয়োজন হয়। সেই মতো মধ্যরাত থেকে হাঁটা শুরু করেন এডওয়ার্ড। ভোর ৩টে নাগাদ পৌঁছন রাজপ্রাসাদে। এর পর নকল যুদ্ধে অংশ নেন।
এতদিন Uganda Broadcasting Corporation চ্যানেলে খবর পরিবেশন করে এসেছেন এডওয়ার্ড। চ্যানেলের সম্পাদক ছিলেন তিনি। সঞ্চালক হিসেবে বেশ সুনামও ছিল। সহকর্মীরা তাঁকে ‘বিনয়ী’, ‘মাটির মানুষ’ বলে উল্লেখ করেছেন। তবে কিছু দিন আগে পর্যন্তও তাঁর রাজা হওয়া নিয়ে দড়ি টানাটানি চলছিল। কারণ রাজ পরিবারের রীতি অনুযায়ী, উত্তরাধকারী হওয়ার দৌড়েই ছিলেন না তিনি। প্রয়াত কাবামার মা বেস্ত কেমিগিসাও তাঁর রাজা হওয়ার বিরোধিতা করেন। এডওয়ার্ডের রাজা হওয়ায় আপত্তি ছিল কাবামার বোন, রাজকুমারী রুথ কোমুনটালেরও।
কেমিগিসার দাবি ছিল, প্রয়াত রাজা কাবামার এক ছেলে রয়েছে। বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল। তবে উইল করার সময় উত্তরাধিকারী হিসেবে ছেলের নামই লিখে গিয়েছেন কাবামা। কিন্তু ‘রয়্যাল বাবিতো ক্ল্যান’ বিষয়টিতে সন্দেহ প্রকাশ করে। এতদিন কেউ জানল না, কেউ চোখে দেখল না, কোথাও একটি বারের জন্যও উল্লেখ করা হল না, হঠাৎ রাজার মৃত্যুর পর রাতারাতি উত্তরাধিকারী কোথা থেকে এল, প্রশ্ন তোলা হয়। কাবামা বিয়ে করেছিলেন, বা তাঁর কোনও সন্তান ছিল বলেও জানা যায়নি জীবিতকালে। শেষ পর্যন্ত তাই এডওয়ার্ডকেই রাজা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়।
এডওয়ার্ড এবং কাবামা, দু’জনই টোরোর ১১তম রাজা তৃতীয় রুকিডির পৌত্র, যিনি ১৯২৮ থেকে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত রাজত্ব করেন। কাবামা রাজপ্রাসাদে বেড়ে ওঠেন। এডওয়ার্ড বেড়ে ওঠেন কিডুকুরু গ্রামে। উচ্চশিক্ষার জন্য গ্রামের বাড়ি ছেড়ে উগান্ডার মাকেরিরি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। দু’দশকেরও বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। রাজা হিসেবে নামঘোষণার পর তিনি জানান, এত বছর ধরে সাংবাদিকতার দৌলতে যে যোগাযোগ তৈরি করতে পেরেছেন, তা মানুষের দাবিদাওয়া পূরণে কাজে লাগাবেন।