কলকাতা: ফলতা উপনির্বাচনে মাঠেই নেই তৃণমূল। একাই উৎসব করছে বিজেপি। আর সেই আবহেই কলকাতায় মাঠে, থুড়ি গল্ফ কোর্সে দেখা গেল রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষকে। ইকো পার্কের গল্ফ কোর্সে খোশমেজাজে ধরা দিলেন তিনি। তাঁকে উৎসাহও দিতে শোনা গেল সকলকে। (Dilip Ghosh Plays Golf)
রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই নিয়ম করে প্রতিদিন ইকো পার্কে হাঁটতে যেতেন দিলীপ। পালাবদলের পরও সেই অভ্য়াসে কোনও রদবদল চোখে পড়েনি। তবে বৃহস্পতিবার একেবারে অন্য রূপে দেখা গেল পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন, তথা কৃষি বিপণণ ও পশুসম্পদ মন্ত্রী দিলীপকে। (BJP News)
আরও পড়ুন: কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় বড় রদবদল? হতে পারে বড় সিদ্ধান্ত? বিদেশ সফর থেকে ফিরেই আজ জরুরি বৈঠক মোদির
রোদ তখনও গায়ে এসে পড়েনি। রাতে বৃষ্টির পর আবহাওয়া মনোরমই ছিল। সেই সময় ইকো পার্কের গল্ফ কোর্সে এসে পৌঁছন দিলীপ। বরাবরের মতো সেখানেও তাঁকে ভিড় ঘিরে রেখেছিল তাঁকে। নামী সংস্থার জুতো, হাঁটু পর্যন্ত শর্টস এবং পোলো শার্ট পরে স্ট্রোক নিতে এগিয়ে যান দিলীপ।
দিলীপের স্ট্রোক দেখার জন্য মুখিয়ে ছিলেন অনেকেই। তবে কোনও তাড়াহুড়ো করেননি। মেপেবুঝেই এগিয়ে যান। এর পর হাত চালান সজোরে। লক্ষ্যচ্যুত হননি দিলীপ। অনেকটা দূরেই গিয়ে পড়ে বল। তবে বল ঘাস ছোঁয়ার আগেই হাত তুলে ‘জয় শ্রীরাম’, ‘জয় জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিতে শুরু করেন চারপাশের সকলে। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ যদিও রাজনৈতিক বার্তাই দেন। ফলতা নির্বাচন নিয়ে বলেন, “আমি বলেছিলাম, এই নির্বাচনের পর তৃণমূল হারবে এবং দলটাই উঠে যাবে। এই তো শুরু হচ্ছে সবে। ময়দানেই নেই। পুষ্পা, ধুরন্ধর অনেক কিছু শুনেছিলাম। ময়দানে লড়তে হয়, পুলিশ, গুন্ডা ছাড়া, যেটা আমরা লড়েছি।”
আরও পড়ুন: ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ২ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি খরচ আমেরিকার, খোয়া গিয়েছে ৪২টি যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার
একদিন আগেই কেকেআর বনাম মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ম্যাচ দেখতে ইডেনে হাজির হন দিলীপ। সেখানে নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ককে সম্বর্ধনা জানান CAB সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। ইডেনে ম্যাচ দেখার ফাঁকে ঝালমুড়িও খান দিলীপ ঘোষ। সেখানে তাঁর সঙ্গে ছিলেন তাপস রায় ও তমোঘ্ন ঘোষ।
পঞ্চায়েক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেও কড়া বার্তা দিয়েছেন দিলীপ। জানিয়েছেন, পঞ্চায়েতে তৃণমূলের দুর্নীতিগ্রস্তদের চিহ্নিত করতে স্পেশাল অডিট করানো হবে। দুর্নীতির প্রমাণ মিললে, আধিকারিকদেরও রেয়াত করা হবে না।
দিলীপ বলেন, “কাউন্সিলর, পঞ্চায়েত প্রধান, জেলা পরিষদ সমিতির মেম্বার, এরা সমস্ত দুর্নীতি এবং অত্যাচারের এক একটা প্রতিমূর্তি। সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হবে। আমরাও পঞ্চায়েতে স্পেশাল অডিট করাব, সব পঞ্চায়েতগুলোতে স্যাম্পল সার্ভে করে। সেখানে যে দোষী পাওয়া যাবে, সে পঞ্চায়েত প্রধান, মেম্বার থেকে আরম্ভ করে, অফিসার থেকে BDO পর্যন্ত, সব জায়গায় হাত পৌঁছবে।”