Last Updated:
Abhishek Banerjee: নিহত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে আক্রান্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়৷ সোনারপুর থেকে কলকাতায় ফিরেই শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে গেলেন তৃণমূল সাংসদ৷ সূত্রের খবর, চশমার কাচ ভেঙে আঘাত লেগেছে তাঁর৷
কলকাতা: সোনারপুরে অভিষেককে মারধরের অভিযোগ৷ নিহত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে আক্রান্ত তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তৃণমূল সাংসদকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয় ডিম-জুতো৷ সূত্রের খবর, চশমা ভেঙে যাওয়ার সময় আঘাত লেগেছ অভিষেকের৷ কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে গেলেন তৃণমূল নেতা অভিষেক৷ সূত্রের খবর, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও পৌঁছলেন অ্যাপোলো হাসপাতালে অভিষককে দেখতে৷ সঙ্গে এলেন অভিষেকের মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷
সূত্রের খবর, অ্যাপোলো হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ট্রিটমেন্ট শুরু করা হল। চোখের চিকিৎসা করা হচ্ছে এই মুহর্তে। এছাড়া শরীরেও বেশ কয়েকটি জায়গায় আঘাত লেগেছে বলে চিকিৎসকদেরকে তিনি জানান। চোখের ট্রিটমেন্টের পরেই বাকি শারীরিক পরীক্ষা করা হবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
প্রসঙ্গত, অভিষেকের উপর হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তিনি লেখেন, ‘‘আমরা সংযত ছিলাম বলে আজকে তৃণমূল কংগ্রেস অক্ষত আছে। তৃণমূলের নেতা কর্মীরা যে অক্ষত আছে এটা বিজেপি”, এমনটাই বলেন শমীক ভট্টাচার্য। বিজেপি এগুলো সমর্থন করে না। আজ বিজেপি ক্ষমতায় না এলে এখানে আমি দাঁড়িয়ে থাকতে পারতাম না৷ আমাদের বিরোধী দলনেতাকে উত্তর বঙ্গে পুরিয়ে মারার চেষ্টা হয়েছিল৷ মহিলাদের মাথা ন্যাড়া করে থুথু চাটানো হয়। নখ উপড়ে নেওয়া হয়৷ সেগুলো কভার করুন জানতে পারবেন৷ পুলিশ কেন আসেনি সেটা তো রাজ্য সরকার বলতে পারবে”৷
“যদি তৃণমূল ক্ষমতায় আসত আজকে আমি দাঁড়িয়ে থাকতাম না, পাঁচশো কর্মী খুন হতেন। আর যদি কংগ্রেস বা সিপিএম থাকত তা হলে যিনি বলছেন তিনি বিবৃতি দিতে পারতেন না। কোথায় ডিজে, কোথায় রবীন্দ্র সঙ্গীত, ফলতায় প্রচারে এলেন না কেন?”
সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার তীব্র নিন্দা করল তৃণমূল৷ এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে ঘটনায় বিজেপিকে তোপ দাগল তৃণমূল৷ ঘটনার নিন্দা করেছেন সমাজবাদী পার্টির সহ সভাপতি অখিলেশ যাদব৷ কংগ্রেস নেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গেও অভিষেকের উপর হামলার ঘটনার নিন্দা করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন৷ তৃণমূল নেতা ডেরেক ও ব্রায়েনও ঘটনার নিন্দা করে পোস্ট করেছেন৷
তৃণমূলের পক্ষ থেকে পোস্টে বলা হয়, ‘‘আজ আমাদের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, এই লজ্জাহীন শাসনের অধীনে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কত দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। যদি একজন বর্তমান বিরোধী দলের সাংসদকে দিনের আলোয় লক্ষ্যবস্তু করা যায়, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার কী ভরসা থাকে? এটাই কি বিজেপির গণতন্ত্রের ধারণা? প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যে ‘সুশাসন’-এর কথা বলে চলেন, সেটাই কি তার বাস্তব চিত্র? হিংসা, ভয় দেখানো এবং রাজনৈতিক গুন্ডামি আজ বিজেপি শাসনের প্রধান পরিচয় হয়ে উঠেছে। যারা এই ঘটনার জন্য দায়ী, তারা হয়ত আজ রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় পাচ্ছে, কিন্তু চিরকাল জবাবদিহি এড়িয়ে যেতে পারবে না। বাংলা দেখছে। ভারত দেখছে। বিশ্ব দেখছে।’’
Kolkata,West Bengal
